x 
Empty Product
Monday, 28 March 2016 07:21

বাণিজ্যিকভাবে আমে ফ্রুট ব্যাগিং প্রযুক্তি

Written by 
Rate this item
(0 votes)

আমের রাজধানী চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ ৮ জেলার আমকে পোকাসহ বিভিন্ন রোগবালাই থেকে মুক্ত রাখতে জেলায় প্রথমবারের মত এ বছর আমগাছে বাণিজ্যিকভাবে ফ্রুট ব্যাগিং প্রযুক্তি ব্যবহার শুরু হয়েছে। আর এ প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে ওই সব আমগাছ থেকে প্রায় ৮ থেকে ১০ টন নিরাপদ ও রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদিত হবে বলে আশা করছেন সংশিস্ন্ল্লষ্টরা।
এ প্রযুক্তির প্রধান গবেষক চাঁপাই নবাবগঞ্জ আঞ্চলিক  উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের উর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শরফ উদ্দিন জানান, গত বছর চীনের একটি কোম্পানি গবেষণার জন্য কিছু ব্যাগ প্রদান করে। পরে গবেষণা কেন্দ্রে ফ্রুট ব্যাগিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভালো সাফল্য পাওয়া যায়। সাধারণত একটি আম গাছে বিভিন্ন ধরনের যে কীটনাশক সেপ্র করা হয় তার খরচ থেকে এ প্রযুক্তি ব্যবহারের অনে-কাংশে সাশ্রয়ী। বরং এ প্রযুক্তি ব্যব-হারের ফলে বিষমুক্ত আম উৎপাদন সম্ভব এবং এতে আমবাগান মালিক বা চাষিরা অধিক লাভবান হবেন। মাঠ পর্যায়ে ফ্রুট ব্যাগিং প্রযুক্তিকে জনপ্রিয় করে গড়ে তুলতে আমবাগান মালিকরা এ পদ্ধতি ব্যবহার করতে শুরু করেছেন। এ বছর সব মিলিয়ে  মাত্র ৩ থেকে ৫ টাকা মূল্যের প্রায় ৫০ হাজার ফ্রুট ব্যাগ ব্যবহৃত হয়েছে। এছাড়াও রাজশাহী, নাটোর, পাবনা, গোপালগঞ্জ, খাগড়াছড়ি, বান্দরবন ও রাঙ্গামাটি জেলায় এ প্রযুক্তি ব্যবহার শুরম্ন করেছেন বাগান মালিকরা। সব মিলেয়ে প্রায় ১ লাখ ফ্রুট ব্যাগ ব্যবহৃত হয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাগানমালিক গোলাম মুখলেসুর রহমান পলাশ বলেন, তার বাগানে প্রায় ৪ হাজারের মত ফ্রুট ব্যাগ ব্যবহার করা হয়েছে। এতে করে আর কোন বাড়তি কীটনাশক প্রয়োগ করতে হয়নি। বিষমুক্ত আম হওয়ায় বাজারে আমের মূল্য বেশি পাওয়া যাবে। এ ছাড়াও আম বিদেশে রপ্তানি করা সম্ভব হবে। সরকারি বা বেসরকারিভাবে উদ্যোগ নেয়া গেলে আরো বেশি লাভবান হবো। জেলার অনেক আমবাগানে স্বল্প পরিসরে প্রাথমিকভাবে এ ব্যাগ ব্যবহার শুরু হয়েছে।
রাজশাহীর হড়গ্রাম নতুনপাড়ার বাগান মালিক বেলাল উদ্দিন জানান, এ বছরের প্রথম দিকে প্রায় ৩০টি গাছে সেপ্র করা হয়েছিল। পরে এ ফ্রুট ব্যাগ সম্পর্কে জানতে পেরে ২ হাজার ব্যাগ কিনে আমে ব্যাবহার করা হয়েছে। আম ছিদ্রকারি পোকা-সহ অন্যান্য পোকার আক্রমণ থেকে রৰার্থে এ ব্যাগগুলো লাগানো হয়েছে। এবার ভালো ফলাফল পেলে আগামিতে আরো বেশিসংখ্যক ব্যাগ ব্যবহার করা হবে। ফ্রুট ব্যাগ প্রযুক্তি সম্পর্কে জানতে পেরে নাটোরের নলডাঙা থানার মাধনগর কাজিপাড়া গ্রামে তার আমবাগানে এ প্রযুক্তি ব্যবহার করেছেন এ বছর। প্রায় ৪ হাজার  ফ্রুট ব্যাগ ব্যবহার করা হয়েছে আমগাছে। তিনি আরো বলেন, কীটনাশক ব্যবহারে যে খরচ হয়, তার চেয়ে কমই খরচ হয়েছে। তবে ব্যাগ কিনতে টাকাটা একবার লাগে আর কীটনাশক প্রয়োগ করলে ধীরে ধীরে টাকা খরচ হতো।
এ ব্যাপারে ড. শরফ উদ্দিন জানান,  গত বছর অনেক বাগানমালিক এ ব্যাগ চেয়েছিল। কিন্তু তা সরবরাহ করতে পারেনি। কিন্তু এবছর বেসর-কারি আমদানিকারক যথেষ্ট পরিমাণ ব্যাগ আমদানি করেছে। আশা করি, এ বছর যেসব গাছে আমে এ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, সেগুলো থেকে কমপৰে মানসম্পন্ন নিরাপদ, শত-ভাগ রোগ ও পোকা-মাকড়মুক্ত আম উৎপাদিত হবে। এছাড়াও ব্যাগিং করা আম সংগ্রহের পর ১০-১৪ দিন পর্যনৱ তা সংরৰণ করে খাওয়া যাবে। দেশের মানুষ কার্বাইড, ফরমালিন আতঙ্কে যখন মৌসুমি ফল খাওয়া থেকে বিরত রয়েছিল, ঠিক সেসময় এই প্রযুক্তিটি কিছুটা আশার মুখ দেখাবে। তিনি আরো বলেন, আমচাষি ও ব্যবসায়ীরা এই প্রযুক্তিটি বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করে সুফল পেতে পারেন। প্রযুক্তিটি আমচাষি-দের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হলে কার্বাইড, ইফিফোনসহ অন্যান্য হর-মোন জাতীয় কাল্টার এবং ফর-মালিনের মত বিষাক্ত রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করা সম্ভব হবে।

http://sonalisangbad.com/%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%A3%E0%A6%BF%E0%A6%9C%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A7%87-%E0%A6%86%E0%A6%AE%E0%A7%87-%E0%A6%AB%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%81%E0%A6%9F/

Read 1401 times

Leave a comment

Make sure you enter the (*) required information where indicated. HTML code is not allowed.