x 
Empty Product
Friday, 07 March 2014 11:02

৩ লাখ মেট্রিক টন আম উৎপাদনের আশা

Written by 
Rate this item
(0 votes)

আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আমের রাজধানী বলে খ্যাত উত্তরাঞ্চলের রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম বাগানগুলোতে ব্যাপক পরিমাণে মুকুল এসেছে। এবার আমের বাম্পার ফলনের আশা করছেন আম বাগানের মালিকরা। মুকুলের মৌ মৌ গন্ধে এখন মুখরিত জেলার আম বাগানগুলো। আমচাষিরা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন বাগান পরিচর্যার কাজে। সব কিছু অনুকূলে থাকলে এই দুই জেলায় এবার প্রায় তিন লাখ মেট্রিক টন আম উৎপাদনের আশা করছে স্থানীয় কৃষি বিভাগ।

গত কয়েক বছরে বরেন্দ্র অঞ্চলের উঁচু-নিচু জমিতে গড়ে উঠেছে প্রায় সাড়ে তিন হাজার আম বাগান। তাই চলতি মৌসুমে এই দুটি জেলায় আম বাগানের জমির পরিমাণ বৃদ্ধি হয়ে দাঁড়িয়েছে ৩২ হাজার ৮১৬ হেক্টরে। এ বছর আম গাছের সংখ্যা প্রায় ৩০ লাখ। অথচ গত আম মৌসুমে আম বাগানের জমির পরিমাণ ছিল এর চেয়ে কিছুটা কম।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, প্রায় আড়াইশ’ জাতের আম চাষ হয় এই দুই জেলায়। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক নুরুল আমিন জানান, সাধারণত এক বছর আম উৎপাদন ভালো হলে পরের বছর ভালো হয় না। তাই আম ভালো হওয়ার বছরকে অন-ইয়ার ও পরের বছরকে আম উৎপাদনের অফ-ইয়ার হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে অভিহিত করে আসছিল কৃষি বিভাগ। সেই হিসেবে এবার আম উৎপাদনের অন-ইয়ার।

চারঘাট উপজেলার নন্দনগাছি গ্রামের আমচাষি রেজাউল করিম জানান, এবার প্রতিটি বাগানে অপ্রত্যাশিত পরিমাণে মুকুল এসেছে। যে পরিমাণে মুকুল এসেছে তা থেকে ভালো উৎপাদন পেতে চাষিরা এখন বাগান পরিচর্যার কাজ করছেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, কৃষকরা একটু সচেতন হয়ে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সহনীয় মাত্রায় ছত্রাকনাশক ও কীটনাশক ব্যবহার করলে আম উৎপাদন অনেক বেড়ে যাবে। তবে তিনি বলেন, গাছে মুকুল আসার আগেই যেমন স্প্রে করার প্রয়োজন নেই তেমনি মুকুল ফোটা অবস্থায় কোনোভাবেই স্প্রে করা ঠিক নয়। কারণ এ সময় প্রচুর পরিমাণ উপকারী পোকা আমবাগানে আসে এবং পরাগায়নে সহযোগিতা করে। তাই সঠিকভাবে দু’বার স্প্রে দিতে পারলে প্রচুর পরিমাণ আম টিকে থাকবে।

স্থানীয় ফল গবেষণা কেন্দ্রের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আলিম উদ্দীন জানান, সঠিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে আম চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে কৃষি বিভাগ কাজ করছে। আগামী ১০/১২ দিনের মধ্যে আরো ১৫ শতাংশ গাছ মুকুলিত হবে বলে তিনি আশা করছেন। সব কিছু ঠিক থাকলে এবার এই দুই জেলায় ৩ লাখ মেট্রিক টন আম উৎপাদিত হবে এমন ধারণা করছেন তিনি।

Read 1540 times

Leave a comment

Make sure you enter the (*) required information where indicated. HTML code is not allowed.