x 
Empty Product
Thursday, 22 August 2013 15:37

গাছ আর ফল টানছে সবাইকে

Written by 
Rate this item
(1 Vote)

আমের নাম যদি হয় বউভুলানি, রানীপছন্দ বা জামাইখুশি তাহলে বুঝতে বাকি থাকার কথা নয়, এগুলোর স্বাদ-গন্ধ কেমন। ধারণা করা যেতেই পারে, হিমসাগর, ল্যাংড়া বা ফজলির চেয়ে এগুলোও কোনো অংশে কম নয়। ক্ষেত্রবিশেষে এক কাঠি সরেস। এ তো গেল দেশি ফলের কথা। আমেরিকার হানি ডিউ বা পালমার, জাপানের সূর্যডিম, থাইল্যান্ডের মহাচনক- এ রকম আরো কত আম। ছোট ছোট গাছে লম্বা বোঁটায় সারি সারি ঝুলছে। নয়ন সুখকর এমন দৃশ্য দেখে জিহ্বায় জল এসে যায়।
 কেবল আমই নয়; জাম্বুরা, সজনে, কুমড়া বা ঘরসজ্জার বাহারি ক্যাকটাস, ফুল-ফল, ঔষধি ও অর্নামেন্টাল গাছ- কী নেই হরেক গাছের মিলনমেলায়? মেলাটি বসেছে রাজধানীর শেরে বাংলানগরে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের পশ্চিম পাশের ফাঁকা জায়গায়।
 বৃক্ষমেলায় প্রবেশ করলেই চারদিকে কেবলই সবুজের সমারোহ। চোখ জুড়িয়ে যায়। বৈশিষ্ট্যগুণে নগরবাসীর দৃষ্টিও কেড়েছে যথেষ্ট। প্রতিদিন হাজারো বৃক্ষপ্রেমী সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ভিড় করছেন মেলায়। ঘুরেফিরে কিনে নিচ্ছেন পছন্দের গাছ। আমলকি বা চালতা, বিলেতি আমড়া বা বনসাই- যার যেটা পছন্দ।
 জাতীয় বৃক্ষমেলা ২০১৩ ৫ জুন উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। চলবে ৫ জুলাই পর্যন্ত। দেশি-বিদেশি কয়েক হাজার গাছের ঠাঁই হয়েছে মেলায়। কোনোটা ঔষধি, কোনোটা ফলদ আবার কোনোটা বনজ। তবে মেলায় সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ছে নানা জাতের আমের গাছ। পাকা লাল-হলুদ বাহারি রঙ আর ঢঙের আমগুলো ঝুলছে টবের গাছে গাছে।
 নজর কাড়ছে ফল সুশোভিত আমেরিকান পালমার আম গাছ। পাকার আগেই আমের উপরের অংশে লাল রঙ ধারণ করেছে। পাকলে হয়ে উঠছে রক্তাক্ত লাল। একেকটি আম ওজনে প্রায় ৫০০ গ্রাম। বেশ কয়েকটি স্টলেই দেখা মিলল পালমার আমের। খেতে অতি মিষ্টি ও সুগন্ধিযুক্ত।
 জাপানি জাতের সূর্যডিম আম আকারে ডিমের মতোই। পাকলে লালচে রঙ ধারণ করে। খেতে মিষ্টি ও অত্যধিক রসালো। একেকটি ওজনে আধা কেজি ছাড়িয়ে যাচ্ছে। মেলায় আছে ব্যানানা ম্যাংগো। নামের সঙ্গে চেহারারও মিল আছে। কাঁচা অবস্থায় কলার মতো লম্বা-বাঁকা। পাকলেই হলুদ হয়ে যাচ্ছে। একেকটি আমের ওজন হয় ৩০০ থেকে সাড়ে ৩০০ গ্রাম। রাজশাহী আম গবেষণা কেন্দ্র আমটির জাত উদ্ভাবন করেছে।
 দেশের মাটিতেই ব্যানানা ম্যাংগোর চাষ সম্ভব বলে জানালেন বরিশাল নার্সারির স্বত্বাধিকারী মো. ইব্রাহিম। কালের কণ্ঠকে তিনি বলেন, 'আমাদের স্টলে ৪০ প্রকার আমগাছ আছে। এর মধ্যে কয়েকটি জাত আছে সারা বছরই আম ধরে। কিছু আমের গাছ এনেছি এবারই প্রথম। এগুলোর দাম চারার আকৃতিভেদে এক হাজার থেকে ৬০ হাজার টাকা পর্যন্ত। থাইল্যান্ডের কিউজাই, নামডক থাই, মহাচনক আমেরিকার কেইন আমের জাতগুলো বাংলাদেশে এবারই প্রথম। এ ছাড়া বারোমাসি ভারতীয় পুনাই ও থাইল্যান্ডের ডোয়ার আমও এবারই মেলায় প্রথম বলে জানালেন মো. ইব্রাহিম।
 বৃক্ষমেলার আয়োজক প্রতিষ্ঠান পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেল, মেলায় মোট ১১০টি স্টল অংশ নিয়েছে। এর মধ্যে সরকারি স্টল আছে ১৯টি। বেসরকারি তিনটি ও ব্যক্তিমালিকানাধীন ৭৬টি। এ ছাড়া অন্যান্য স্টল আছে আরো ১২টি।
 সামাজিক বন বিভাগের স্টলের তত্ত্বাবধায়ক নুরুল হক জানান, তাঁদের স্টলে সাড়ে তিন শ ধরনের ঔষধি, কাঠ, ফলদ ও বনজ বৃক্ষের চারা আছে। তবে এগুলো কেবল প্রদর্শনীর জন্য। এসব চারা অন্য স্টলগুলোতে পাওয়া যাবে। সেখান থেকে ক্রেতারা কিনতে পারবেন।
 গতকাল বুধবার সকালে কথা হলো মেলায় গাছ কিনতে আসা অবসরপ্রাপ্ত উপসচিব ও শুক্রাবাদের বাসিন্দা খোরশেদ আলমের সঙ্গে। তিনি কিনেছেন সজনে, পেয়ারা, কাগজি লেবু ও পোলাও পাতার গাছ। কালের কণ্ঠকে বলেন, 'বাড়ির ছাদে কিছু গাছ আগেই লাগিয়েছি। এবার আরো কয়েকটি গাছ কিনলাম। সজনে গাছটি কিনেছি ১০০ টাকায়, পেয়ারা চারা ১৫০ টাকা, পোলাও পাতার চারা ৫০ টাকায়।'
 পপি নার্সারিতে দেখা গেল বিপুলসংখ্যক ফল ও সবজি গাছের সমাহার। নানা ধরনের ফল থেকে শুরু করে বারোমাসি সবজির বীজ ও চারা বিক্রি হচ্ছে স্টলটিতে। নার্সারির এনামুল হক বলেন, 'আমাদের এখানে বারোমাসি মিষ্টি কুমড়া, করলা ও লাউয়ের বীজ রয়েছে। প্রতি প্যাকেট ৬০-৭০ টাকা দরে বিক্রি করছি। এই গাছগুলো যেকোনো সময় লাগানো যায় এবং ফলও সারা বছর পাওয়া যায়।'
 কাশবন নার্সারির বিক্রয়কর্মী হামিদ হাসান জানান, তাঁদের স্টলে দুই থেকে আড়াই হাজার জাতের গাছ আছে। এর মধ্যে নামডোকথাই নামের একটি থাই আম গাছ আছে। এগুলোর আম আকারে লম্বা এবং পাকলে হলুদ রং ধারণ করে। বেশ কয়েকটি গাছে কাঁচা-পাকা আম ঝুলতেও দেখা গেল। এ ছাড়া এ স্টলে আছে আপেল সদৃশ আপেল ম্যাংগো। প্রতিটি আপেল ম্যাংগোর ওজন প্রায় এক কেজি। হামিদ হাসান জানান, পলিথিনে থাকা এসব গাছের চারা এক হাজার, টবে থাকা চারা তিন হাজার ও ব্যারেলে থাকা গাছ ২৫ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
 আয়োজক কর্তৃপক্ষ জানায়, ১১ জুন পর্যন্ত প্রথম ছয় দিনের মধ্যে মেলায় ৮০ হাজার ২০৪টি চারা বিক্রি হয়েছে। এর মূল্য ৪১ লাখ ৮৩ হাজার ৮০৮ টাকা। মেলায় ক্রেতা-দর্শনার্থীও আসছে প্রচুর।

Read 2121 times Last modified on Tuesday, 03 September 2013 04:30

2 comments

Leave a comment

Make sure you enter the (*) required information where indicated. HTML code is not allowed.