x 
Empty Product
Sunday, 09 June 2013 19:27

বিষাক্ত ফলমূলের ছড়াছড়ি

Written by 
Rate this item
(0 votes)

চলতি জৈষ্ঠের মৌসুমীফল পাকার আগেই প্রতিবছরের মত এবারও বাজার দখল করে নিয়েছে প্রতিবেশি দেশ থেকে আমদানিকৃত বিষাক্ত ফলমূল। যা বিভিন্ন বিষাক্ত কেমিক্যালে পাকিয়ে ও পচনরোধ করে বিক্রি হচ্ছে আঁড়তে, শপিংমলে, ছোট-বড় বাজারগুলিতে। এমনকি ফুটপাত থেকে ভ্যানগাড়ি পর্যন্ত। সর্বত্রই এখন বিষাক্ত ফলমূলের ছড়াছড়ি।
শুধু ঢাকা নয়, আমের রাজধানীবলে খ্যাত রাজশাহী ও দিনাজপুরে একই অবস্থা। এই লোভনীয় লাল খয়েরী হলুদ সবুজের সমাহারে ক্রেতারা হুমড়ি খেয়ে পড়ছে এসব বিষাক্ত ফল কিনতে। পরিবার-পরিজন নিয়ে ফলের নামে যে বিষ কেনা হচ্ছে না, তার নিশ্চয়তা কি? শুধু যে আম লিচু তা নয়, কলা, আনারস, আঙ্গুর থেকে শুরু করে আপেল, বেদানা, মালটা, নাশপাতিসহ দেশি-বিদেশী সমস্ত ফলেই বিষাক্ত কেমিক্যাল মেশানো হচ্ছে।
জানা যায়, এসব বিষাক্ত কেমিক্যাল বাগানে ফল থাকা অবস্থায়ই মেশানো হয়। যা পরবর্তীতে আরো কয়েকটি ধাপে বিষাক্ত কেমিক্যাল মিশিয়ে ক্রেতার কাছে বিক্রি করা হয়।
ইডেন, প্রভিট, ইথরেল প্রভৃতি কেমিক্যাল ব্যবহারে আমে হলুদ রং ধরে-যা মানুষের শরীরের জন্য মারাত্বক ক্ষতিকর বলে জানা যায়। এছাড়া ফরমালিন আমকে দীঘস্থায়ী তাজা রাখে এবং ফলে মিশানো কার্বাইড কাঁচা আমকে পাঁকা করে।
জানা যায়, ফরমালিন সাধারণত ব্যবহার করা হয় মৃতমানুষের পচন রোধে। আর সেই ফরমালিন দেশের বিভিন্ন ফলে ও বাহির থেকে আমদানিকৃত ফলগুলিতেও প্রতিনিয়ত ব্যবহার করে ফলের পচনরোধ করা হচ্ছে। যা মানুষ প্রতিনিয়ত খাচ্ছে।
ফরমালিনযুক্ত ফল ফুসফুসের কার্যক্ষমতা নষ্ট, লিভার ক্যান্সার, আজমা, গ্যাস্টিক, আলসার, পাকস্থলীর ক্যান্সার সহজেই শরীরে বাসা বেঁধে মরণরোগের কারণ হতে পারে।
আর কার্বাইডে পাকানো ফল খাওয়ার ফলে ত্বকে চুলকানি, জ্বালাপোড়া করা, চোখে জ্বালাপোড়া ও পানি পড়া, মুখে ক্ষত ও গিলতে কষ্ট হওয়া ছাড়াও নানা মারাত্বক সমস্যা দেখা ‍দিতে পারে বলে স্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞরা বলে আসছেন।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন অনুষদের ডিন অধ্যাপক এ বি এম আবদুল্লাহ সংবাদ২৪.নেট’কে বলেন, ‘নানা রাসায়নিক পদার্থযুক্ত বিষময় ফল ধীরে ধীরে লিভাল ও কিডনী অকেজো করে দিতে পারে। এসব কেমিক্যাল হার্টদূর্বল করে দেয়। ব্রেন ন্যুব্জ করে স্মৃতিশক্তিকেও কমিয়ে দেয়। অস্বাভাবিকভাবে এসিডিটি বাড়ায়। ফরমালিনযুক্ত খাদ্য নিয়মিত গ্রহন করলে পাকস্থলী, ফুসফুস ও শ্বাসনালিতে ক্যান্সার, এমনকি ব্লাডক্যান্সারও হতে পারে।’
ব্যবসায়ীরা জানায়, মৌসুমী ফল এখনও পুরোপুরি পাকতে শুরু করেনি। অথচ ফল পাকার আগেই বাজারে পাকাফলের সয়লাব। এসব বিষাক্ত ফল সারাদেশের মানুষই খেয়ে যাচ্ছেন বলে জানান তারা। কেন এসব বিষাক্ত ফল বিক্রি করছেন এমন প্রশ্নের উত্তরে তারা বলেন, ফল বাগান থেকেই কেমিক্যাল মিশিয়ে আড়তে আসে, তাই তাদের কিছিই করার নেই বলে তারা নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, সারা রাজধানীজুড়ে বিষাক্ত ফলের সমাহার, যা বিষাক্ত কেমিক্যালমিশ্রিত করে বিক্রি করছে বলে জানা যায়।
বিষাক্ত ফলের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি অভিযান চালায় সরকারী সংস্থা বিএসটিআই। এব্যাপারে বিএসটিআইয়ের কর্মকর্তা জিসান তালুকদার ও আব্দুল মতিন সংবাদ২৪.নেট’কে জানায়, আমরা প্রতিনিয়ত মোবাইলকোর্টের মাধ্যমে বিষাক্ত ফলের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে জেল জরিমানা ও মালামাল ধ্বংস করে ভেজাল ফল রোধ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। এ ব্যাপারে আমাদের কোন অবহেলা নেই।
জেনেশুনে কেন এসব বিষাক্ত ফল কিনে খাচ্ছেন এমন প্রশ্নের জবাবে দোলাইখালের আমের ক্রেতা রনি ও বনি জানায়, আগে কখনও এসব বিষাক্ত কেমিক্যালের নাম শুনিনি। ডিজিটালযুগে ডিজিটাল পদ্ধতিতে ফলে বিষ মেশানো হচ্ছে যা সরকারও রোধ করতে পারছে না। এতে সরকারের ইচ্ছার অভাবকেই তারা দায়ি করেন। আরেক ক্রেতা চাকুরিজীবি বিক্রমপুরের ডিউ বলেন, জেনেশুনেই এসব আম নিয়ে বাড়ি যাচ্ছি।
কারণ হিসেবে তিনি বলেন, তানাহলে নিজের বাড়িতে গাছ লাগিয়ে আম খেতে হবে। মাত্রাতিরিক্ত লাভের আশায় এসব ব্যবসায়ীরা ফরমালিন কার্বাইডসহ নানা বিষাক্ত কেমিক্যাল ফলে মিশিয়ে মানুষকে খাওয়াচ্ছেন। চাষী আড়তদার থেকে শুরু করে এসব ফল ব্যবসায়ীদের নিজেদের লাভের কথা চিন্তা করে অন্যের ক্ষতিকরার মানসিকতা পরিবতন করতে হবে। সেই সাথে এসব অভিযুক্ত ব্যক্তিদের লঘু শাস্তি বা লঘু জরিমানা না দিয়ে সবক্ষেত্রে গুরু শাস্তি দিলেই এ সমস্যার সমাধান হবে বলে ভুক্তভোগীরা মনে করেন।

Read 1565 times

Leave a comment

Make sure you enter the (*) required information where indicated. HTML code is not allowed.