x 
Empty Product
Saturday, 15 June 2013 23:11

রাসায়নিক মেশানো আম ধ্বংস

Written by 
Rate this item
(0 votes)

 প্রতিবছর মধু মাস এলেই অসাধু ব্যবসায়ীরা সক্রিয় হয়ে ওঠে। অধিক মুনাফার আশায় রাসায়নিক দ্রব্য মিশিয়ে বিক্রি করে। রাসায়নিক পদার্থ মেশানোয় অপরিপক্ব ফল দ্রুত পাকে। আর এই পাকা ফল দেখে যে কেউ লোভে পড়ে যান। তবে যখন কিনে বাসায় যান তখন বুঝতে পারেন তাকে ঠকানো হয়েছে। এ বছরও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি। গোটা রাজধানী এখন রসালো আমে সয়লাব। তবে এসব আম সত্যিকারের পাকা নয়। তাকে বিশেষ ব্যবস্থায় পাকানো হয়েছে। বিএসটিআই জানিয়েছে প্রতি বছর আমে কার্বাইড দিয়ে পাকানো হলেও এবার এর সঙ্গে যোগ হয়েছে

ফরমালিন। বিএসটিআইয়ের অভিযানে আমে কার্বাইড মেশানোর পাশাপাশি ফরমালিন মেশানোর প্রমাণ পাওয়া গেছে। সোমবার পরিচালিত বিএসটিআইয়ে অভিযানে ঢাকা শহরের বিভিন্ন আড়ত থেকে ১৮ হাজার কেজি কার্বাইড ও ফরমালিন মেশানো আম জব্দ করে তা ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে। পাশাপাশি ২ হাজার কলাও ভাপে পাকানোর অভিযোগে ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে।
 তবে আড়ত ব্যবসায়ীরা আমসহ মৌসুমী ফলে রাসায়নিক মেশানোর কথা অস্বীকার করলেও জানা গেছে এসব আড়তদারই এ কাজে জড়িত। উত্তরাঞ্চলসহ যেসসব এলাকা থেকে ঢাকা শহরে আম আনা হচ্ছে সেখানেই ফরমালিন কার্বাইড মেশানো হচ্ছে। বিশেষ করে গাছ থেকে আম ভাঙ্গার পরেই তা মিশিয়ে দেয়া হচ্ছে। আর যেখান থেকে আম ঢাকায় আনা হচ্ছে সেসব আমের বাগান আড়তদাররা আগে থেকেই টাকা দিয়ে কিনে রেখেছে। গত বছর আদালয়ের এক রায়ে বলা হয়েছে আমে যাতে কিছুতেই রাসায়নিক মেশাতে না পারে সেজন্য স্থানীয় প্রশাসনের কড়া নজরদারি রাখতে বলা হয়েছে। কিন্তু আদালতের রায়ের এক বছর পেরিয়ে গেলেও পরিস্থিতির কোন উন্নতি হয়নি। বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে বাজারে এখন যে হিম সাগর, ল্যাংড়াসহ বিভিন্ন উন্নতজাতের আম বিক্রি হচ্ছে সেগুলো পাকার সময় এখনও আসেনি। শুধুমাত্র দেশী জাতের আম এখন পাকতে শুরু করেছে। দেশী জাতের আম পাকা হলেও খেতে কিছুটা টক। অথচ বাজারজুড়ে এখন দেশী জাতের পাশাপাশি উন্নতজাতের পাকা আমে সয়লাব।
 এদিকে সারাবছর কলা পাওয়া গেলেও বিশেষ উপায়ে এসব কলা পাকানো হচ্ছে। বিএসটিআইয়ের অভিযানে দেখা গেছে প্রায় আড়তেই অপরিপক্ব কলা এনে কাঁদিগুলো থরে থরে সাজিয়ে নিচে কেরোসিনের স্টোভ জ্বেলে তাপ দেয়া হচ্ছে। এর সঙ্গে মিশিয়ে দেয়া হচ্ছে রাসায়নিক পদার্থ কার্বাইড। আর এভাবেই পেকে হলুদ হয়ে যাচ্ছে অপরিপক্ব কলা। এসব অসাধু ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযান চালিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হলেও পরিস্থিতির কোন উন্নতি হচ্ছে না। ফলে ঢাকাবাসীকে হজম করতে হচ্ছে রাসায়নিক মিশ্রিত ফল।
 সোমবার বিএসটিআই একযোগে তিনটি ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ফলে রাসায়নিক পদার্থ মেশানোর বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে। এতে যাত্রাবাড়ী, বাদামতলী এবং মিরপুর বেড়িবাঁধ সংলগ্ন শাহআলী আড়তে অভিযান চালিয়ে ১৮ হাজার কেজি রাসায়নিক মিশ্রিত ফল ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কলায় কার্বাইড মিশিয়ে এবং ভাপে পাকানোর অভিযোগে ২ হাজার কলা ধ্বংস করা হয়েছে।
 নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাশেনূন কাদেরের নেতৃত্বে একটি মোবাইল কোর্ট মিরপুরের শাহ আলী বেড়িবাঁধ প্রকল্প মার্কেটে অভিযান পরিচালনা করে। এখানে ১৩ আড়তে সংরক্ষিত আমে রাসায়নিক দ্রবের উপস্থিতি পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষায় ১৩ আড়তেই আমে ফরমালিনের উপস্থিতি পাওয়া যায়। ফলে রাসায়নিক পদার্থ মিশিয়ে পাকানোর অভিযোগে ১৩ আড়তে সংরক্ষিত ১৭ হাজার ৮শ’ ৬০ কেজি আম নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে ডাম্পিং জোনে ধ্বংস করা হয়। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে সৈয়দপুর এন্টারপ্রাইজ, শাহ আলী ফার্ম, খাজা বাণিজ্য, দেওয়ান বাণিজ্য ভা-ার, জননী বাণিজ্য ভা-ার, সিকদার এন্টারপ্রাইজ, দেওয়ান ট্রেডার্স, নিউ ফাইভ স্টার ফলের আড়ত, মিরপুর শাহ আলী ফার্ম, আকাশ বাণিজ্য ভা-ার, ভাই ভাই ট্রেডার্স, কাজী তপন এন্টারপ্রাইজ, টুনিটুম্পা ফ্রুট স্টোর।
 নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জসিম উদ্দিনের নেতৃত্বে বিএসটিআইয়ের অপর একটি ভ্রাম্যমাণ আদালত রাজধানীর বাদামতলী আমের আড়তে অভিযান পরিচালনা করে। এখানে ১০ আড়তে ফলে রাসায়নিক দ্রব্যের উপস্থিতি পরীক্ষা করে দেখা যায় মেসার্স দেওয়ান ট্রেডার্সের সংরক্ষিত আমে কার্বাইডের উপস্থিতি রয়েছে।

 

মঙ্গলবার, ২২ মে ২০১২, ৮, Janakantha

Read 2058 times Last modified on Tuesday, 03 September 2013 04:51

Leave a comment

Make sure you enter the (*) required information where indicated. HTML code is not allowed.