x 
Empty Product
Sunday, 10 January 2021 08:10

শীতেও বগুড়ায় গাছে ঝুলছে কাঁচা-পাকা আম ও মুকুল

Written by 
Rate this item
(0 votes)

বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় দুই বছর হলো শুরু করা হয়েছে বারোমাসী আম চাষ। উপজেলার খামারকান্দি ইউনিয়নের মাগুড়াতাইর গ্রামে গড়ে তোলা হয়েছে বিশাল একটি আমবাগান। বাগানটির নাম দেয়া হয়েছে ‘ফুল এগ্রো ফার্ম লিমিটেড’।

শীতকালেও হাতের নাগালে পাওয়া যাচ্ছে আম। এতে উৎসাহিত হয়ে বাগানটি দেখতে প্রতিদিনই ভির করছেন সাধারণ মানুষ।

রোববার সকালে বাগানে গিয়ে দেখা গেছে, আম গাছের কোনো অংশে আমের মুকুল। কোনো অংশে মুকুল থেকে বের হয়ে আসা বোল। আবার বোল থেকে গুটি গুটি আম। কোনো কোনো ডালে পরিপূর্ণ পাকা আম। বাগানে আম ছাড়াও বিভিন্ন প্রকার শীতকালীন সবজি, মাল্টা, পেয়ারাসহ বিভিন্ন ফলের চাষও করা হয়েছে।

আমবাগানটি গড়ে তুলেছেন তিনবন্ধু মিলে। হলেন, শহিদুল ইসলাম, মামুনুর রশীদ মামুন ও সোহেল রেজা ছোটবেলা থেকেই একসঙ্গে থাকে।

তারা জানান, চল্লিশ বিঘা জমির উপর মিশ্র ফলের বাগানটি করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৮ বিঘা জমিতে বারোমাসি আম বারি-১১ ও কাটুমিন জাতের আম চাষ করা হচ্ছে। এর মধ্যে চার বিঘা জমিতে বারি-১১ জাতের আম চাষ করা হচ্ছে।

২০০৫ সালে ছোট পরিসরে নিজেদের পাঁচ বিঘা জমির ওপর ফলের বাগানটি গড়ে তোলা তারা। পরে আরও ৩৫ বিঘা জমি লিজ নিয়ে বাগানটি বড় করা হয়। বাগানে রকমারি ফলের চাষ করা হচ্ছে। দুইবছর হলো সেখানে বারোমাসি আম কাটিমুন ও বারি-১১ চাষ করা হচ্ছে। বর্তমানে তারা বারোমাসি আম বিক্রিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন।

ফলচাষী শহিদুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে আমরা ৫০০ টাকা কেজি দরে আম বিক্রি করছি। সবকিছু ঠিক থাকলে আমের দাম ভালো পাওয়া যাবে।

তিনবন্ধু যেভাবে হলেন ফলচাষী

শহিদুল, মামুন ও সোহেল তিনজনই কৃষক পরিবারের সন্তান। কৃষি সম্প্রসারণের এক জরিপে দেশসেরা কৃষক নির্বাচিত হন মামুন। এরপর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে নির্বাচিত করে মামুনকে থাইল্যান্ডে ফুড প্রডাকশন ও ম্যানেজমেন্টের ওপর প্রশিক্ষণের জন্য পাঠানো হয়।

প্রশিক্ষণ শেষে তিনি দেশে ফিরে এসে মিশ্র ফলের বাগান গড়ে তোলার উদ্যোগ নেন। আরেক উদ্যোক্তা শহিদুল ইসলাম। তিনি জীবিকার তাগিদে মালয়েশিয়ায় গেলেও ২০০১ সালে দেশে ফেরেন। আর সোহেল বগুড়া পল্লী উন্নয়ন একাডেমী (আরডিএ) থেকে বারোমাসি আম চাষের ওপর প্রশিক্ষণ নেন।

পরবর্তিতে তারা যৌথভাবে বিভিন্ন নার্সারী থেকে চারা সংগ্রহ করে ৫ বিঘা জমির ওপর একটি ফলের বাগান তৈরি করেন। সফলতা পাওয়ায় তারা আরও ৩৫ বিঘা জমিতে মিশ্র ফলের বাগান গড়ে তোলেন। পরে তারা সেখানে বারোমাসি আমের চাষ শুরু করেন।

বারি আম-১১ বারোমাসি জাতের আম অর্থাৎ সারা বছরই ফল দিয়ে থাকে। বছরে তিনবার ফল দেয় এ জাত। নভেম্বর, ফেব্রুয়ারি ও মে মাসে গাছে মুকুল আসে এবং মার্চ-এপ্রিল, মে-জুন এবং জুলাই-আগস্ট মাসে ফল আহরণের উপযোগী হয়।

ফল লম্বাটে ( লম্বায় ১১.৩ সেন্টিমিটার ) এবং প্রতিটি আমের গড় ওজন ৩০০ থেকে ৩৫০ গ্রাম। কাঁচা আমের ত্বক হালকা সবুজ। আর পাকলে ত্বক হয় হলুদাভ সুবজ। আম গাছটির উচ্চতা ৬ থেকে ৭ ফুট। গাছটির কোনো অংশে মুকুল, কিছু অংশে আমের গুটি, কিছু অংশে কাঁচা আম, আবার কোথাও পাকা আম। একটি গাছেই ফুটে উঠে আমের ‘জীবনচক্র’। এটি খেতে সুস্বাদু, তবে একটু আঁশ আছে। ফলের শাঁস গাঢ় হলুদ বর্ণের। এই জাতের ৪ থেকে ৫ বছর বয়সী গাছ থেকে প্রতিবার ৬০ থেকে ৭০টি আম আহরণ করা যায়।

এছাড়াও এই জাতের একটি গাছে বছরে প্রায় ৫০ কেজি পর্যন্ত আম হয়ে থাকে। বারি আম-১১ এর এক বছর বয়সী গাছে আমের মুকুল আসে। আম গাছের একটি থোকার মধ্যে ৫ থেকে ৬ টি আম থাকে।

আমের উচ্চফলনশীল এই জাতটি বাংলাদেশের সব এলাকায় চাষ উপযোগী। আমের এই জাতটি সম্পূর্ণ দেশীয়, হাইব্রিড নয়।

মে মাস আমের মৌসুম হওয়ায় এ মাসে আমের ফলন বেশি হয়। দ্বিতীয় পর্যায়ে আগস্ট মাসে, তৃতীয় পর্যায়ে নভেম্বর এবং চতুর্থ পর্যায়ে ফেব্রুয়ারি মাসে আম পাকবে।

এছাড়াও দেশে বারি-১১ এর পাশাপাশি থাইল্যান্ডের ‘কাটিমুন’ নামে একটি বারোমাসি আমের চাষ হচ্ছে। বগুড়া শেরপুর উপজেলা ছাড়াও চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহীসহ বিভিন্ন জায়গায় এই আমটির চাষাবাদ হয়।

জানতে চাইলে শেরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সারমিন আকতার জানান, খামারকান্দি ইউনিয়নে মাগুড়াতাইর গ্রামে ৪০ বিঘা জমির ওপর মিশ্র ফলের বাগান গড়ে তোলা হয়েছে। সেখানকার ফলচাষীদের নিয়মিত পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। কেউ ফলের চারা নিতে যোগাযোগ করলে আমরা তাকে ওই বাগানের পাঠিয়ে দেই। বাগানটি আগে আমাদের মাল্টা প্রদর্শনী প্রজেক্ট ছিল। সেখানে আমাদের কৃষক মামুন মিশ্র ফলের বাগান গড়ে তুলেছে। সেখানে বারোমাসি আমের চাষ শুরু করে তারা অনেক লাভবান হচ্ছেন।

Read 79 times

Leave a comment

Make sure you enter the (*) required information where indicated. HTML code is not allowed.