x 
Empty Product
Monday, 16 March 2020 07:50

আমের রোগ মহালাগা

Written by 
Rate this item
(0 votes)

আমের রাজধানী চাঁঁপাইনবাবগঞ্জে স্থানীয়ভাবে মহালাগা বহুল প্রচলিত। মহালাগা আসলে কোনো রোগ নয় বরং এটি পোকা ও রোগের আক্রমণের ফলাফল। এদেশে জানুয়ারি-মার্চ মাসের দিকে মহালাগার সম্ভবনা সবচেয়ে বেশি। তবে কুয়াশাছন্ন আবহাওয়ায় এর দ্রুত বিস্তার ঘটে। আমবাগানে মুকুল বা পুস্পমঞ্জুরী বের হওয়ার সময় দিন ও রাতের গড় তাপমাত্রা ২৫০ সেন্টিগ্রেডে থাকলে মহালাগার সম্ভাবনা কম থাকে তবে এ সময়ে তাপমাত্রা হঠাত্ বেড়ে গেলে (৩০০ সেন্টিগ্রেড) আমবাগানে হপার পোকার আক্রমণ দেখা যায়। সুতরাং এ সময় নিয়মিত বাগান পরিদর্শন করতে হবে। আমবাগানে মুকুল বা পুস্পমঞ্জুরী বের হওয়ার আনুমানিক ১৫ থেকে ২০ দিন আগে সাইপারমেথ্রিন অথবা কার্বারিল গ্রুপের যেকোনো কীটনাশক দ্বারা ভালভাবে সমস্ত গাছ ধুয়ে দিতে হবে। সেক্ষেত্রে গাছে বসবাসকারী হপার বা শোষক পোকাসহ অন্যান্য পোকার আক্রমণ হতে রক্ষা পাওয়া যাবে। যদি সঠিক সময়ে হপার পোকা দমন করা না যায় তাহলে পরবর্তীতে আমের ফলন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে। যেমন হপার পোকা আমগাছের কচি অংশের রস চুসে খেয়ে বেঁচে থাকে। আমের মুকুল বের হওয়ার সাথে সাথে এগুলো মুকুলকে আক্রমণ করে। এ পোকা আমের মুকুল থেকে রস চুসে খায় ফলে মুকুল শুকিয়ে বিবর্ণ হয়ে ঝরে পড়ে। একটি হপার পোকা দৈনিক তার দেহের ওজনের ২০ গুণ পরিমাণ রস শোষণ করে খায় এবং দেহের প্রয়োজনের অতিরিক্ত আঠালো রস মলদ্বার দিয়ে বের করে দেয় যা মধুরস নামে পরিচিত। এ মধুরস মুকুলের ফুল ও গাছের পাতায় জমা হতে থাকে। মধুরসে এক প্রকার ছত্রাক জন্মায়। এই ছত্রাক জম্মানোর কারণে মুকুল, ফুল ও পাতার উপর কালো রঙয়ের স্তর পড়ে যা সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়াকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করে। এ অবস্থার সৃষ্টি হলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার মানুষ স্থানীয়ভাবে এটিকে মহালাগা বলে থাকে। আক্রান্ত আমগাছে অধিকাংশ সময় আমশূন্য মুকুল বা পুস্পমঞ্জুরী দেখা যায়। এই পোকার আক্রমণে আমের ফলন

১০০ ভাগ পর্যন্ত কমে যেতে পারে সেই সাথে গাছের বৃদ্ধিও।

দমন পদ্ধতি:১. হপার পোকা অন্ধকার বা বেশি ছায়াযুক্ত স্থান পছন্দ করে তাই নিয়মিতভাবে গাছের ডালপালা ছাঁটাই করতে হবে যাতে গাছের মধ্যে আলো-বাতাস প্রবেশ করতে পারে। ২. আমের মুকুল যখন ৮ থেকে ১০ সেন্টিমিটার হয় অর্থাত্ ফুল ফোটার আগে একবার এবং আম যখন মটরদানাকৃতি হয় তখন আর একবার প্রতি লিটার পানিতে ১ মিলি লিটার হারে সাইপারমেথ্রিন ১০ ইসি অথবা ডেসিস ২.৫ ইসি মিশিয়ে সম্পূর্ণ গাছ সেপ্র করতে হবে। ৩. আমের হপার পোকার কারণে যেহেতু সুটিমোল্ড বা ঝুল রোগের আক্রমণ ঘটে সেহেতু রোগ দমনের জন্য প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম হারে সালফার জাতীয় ছত্রাকনাশক হপার পোকা দমনের জন্য ব্যবহার্য কীটনাশকের সাথে মিশিয়ে সেপ্র করতে হবে। তবে মহালাগা দমনে প্রতিষেধকের চেয়ে প্রতিরোধই উত্তম।

 

এই নিউজটির মুল লিখা আমাদের না। আমচাষী ভাইদের সুবিধার্তে এটি কপি করে আমাদের এখানে পোস্ট করা হয়েছে। এই নিউজটির সকল ক্রেডিট: https://archive.ittefaq.com.bd

Read 132 times Last modified on Thursday, 26 March 2020 07:53

Leave a comment

Make sure you enter the (*) required information where indicated. HTML code is not allowed.