x 
Empty Product
Tuesday, 17 December 2019 08:54

প্রচারের অভাবে পাচ্ছে না পরিচিতি নওগাঁয় আম

Written by 
Rate this item
(0 votes)

গোপালভোগ জাতের আম সংগ্রহের মাধ্যমে নওগাঁর বাজারে আসছে আম। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর জেলার পোরশা উপজেলায় গোপালভোগ দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আম পাড়া শুরু হয়।

‘ফলের রাজা আম, আমের রাজা পোরশা’ স্লোগানকে সামনে রেখে চলতি মৌসুমে জেলার পোরশায় গোপালভোগ জাতের আম সংগ্রহ শুরু হয়েছে।

 

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের আয়োজনে শুক্রবার বড় মাদরাসার পাশের আলহাজ্ব আব্দুস সামাদের আম বাগান থেকে আম নামানো শুরু হয়। আম নামানোর উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাজমুল হামিদ রেজা। আম অধিকতর নিরাপদ এবং এই আমকে সারা বাংলাদেশে ব্যাপক পরিচিত করার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

এ সময় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহফুজ আলম, খাদ্য কর্মকর্তা শওকত জামিল প্রধান, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল হাই, পোরশা আম সমিতির সভাপতি আব্দুস সামাদ শাহ্, সম্পাদক মোস্তফা শাহ, বাহারী বাজার অনলাইন আম ব্যাবসায়ী মাসুদ পারভেজ, প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এমরইচ উদ্দিনসহ আম ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের সূত্রমতে, এ বছর জেলায় ১৮ হাজার ৫২৭ হেক্টর জমিতে আম বাগান রয়েছে। এর মধ্যে পোরশায় ৯ হাজার হেক্টর, সাপাহার উপজেলায় ৪ হাজার হেক্টর, নিয়ামতপুরে ৯৫০ হেক্টর, পত্নীতলায় ২ হাজার ২শ হেক্টর, ধামইরহাটে ৬১৫ হেক্টর, মান্দায় ৪শ হেক্টর, নওগাঁ সদরে ৪শ হেক্টর, মহাদেবপুরে ৩৬০ হেক্টর, বদলগাছীতে ৩৪০ হেক্টর, রানীনগের ১৪৬ হেক্টর এবং আত্রাইয়ে ১১৬ হেক্টর। এ বছর আমের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৫ লাখ মেট্রিক টন।

 

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ২৪মে গোপালভোগ, ৩০মে খিরসাপাত/হিমসাগর, ১ জুন নাগ ফজলি, ৭ জুন ল্যাংড়া, ১৫ জুন ফজলী, ২২ জুন আম্রোপালি, ১ জুলাই আশ্বিনা আম গাছ থেকে পাড়া হবে। আম চাষিরা যাতে আমে কোনো প্রকার কেমিকেল প্রয়োগ করতে না পারে সেজন্য বাগানগুলোতে প্রশাসনের নজদারি বাড়ানো হয়েছে।

জেলার সাপাহার, পোরশা, নিয়ামতপুর উপজেলা এবং পত্নীতলা ও ধামইরহাট উপজেলার আংশিক বরেন্দ্র এলাকা হিসেবে খ্যাত। এলাকার জমিতে বছরের একটিমাত্র ফসল বৃষ্টি নির্ভর আমন ধান। পানি স্বল্পতার কারণে বছরের বেশিরভাগ সময় জমি অনাবাদি পড়ে থাকত। এছাড়া ধানের আবাদে খরচও বেশি। অপরদিকে আম চাষে লাভ বেশি। ফলে ধান উৎপাদনের খরচ বেশি হওয়ায় কৃষকরা এখন আম চাষে ঝুঁকেছেন। এতে করে প্রতি বছর প্রায় ২-৩ হাজার হেক্টর জমিতে বাড়ছে আম বাগান। আম্রোপালি, আশ্বিনা, খিরসা, মল্লিকা, হাড়িভাঙা ও ন্যাংড়াসহ কয়েকটা জাতের আম চাষ করা হচ্ছে। এঁটেল মাটি হওয়ার কারণে এ এলাকার আম বেশ সুস্বাদু। সুস্বাদু হওয়ায় আমের রাজা চাঁপাইনবাবগঞ্জকে ছাড়িয়ে গেছে নওগাঁর আম।

আমচাষিরা বলছেন, এঁটেল মাটি হওয়ায় এ এলাকার আম বেশ সুস্বাদু। এ এলাকার আমকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম বলে বিক্রি করা হয়ে থাকে। যখন আম পাকা শুরু হয় তখন একসঙ্গে বাজারে উঠতে শুরু করে। আর এ সুযোগে আম ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে আমের দাম কমিয়ে দেয়। এতে করে চাষিরা দাম কম পায়, কিন্তু ব্যবসায়ীরা লাভ ঠিকই পায়। আম মৌসুমে দামের ব্যাপারে প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন আম চাষিরা।

পোরশা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহফুজ আলম বলেন, এ উপজেলার আম স্বাদে-গন্ধে-মানে-মিষ্টতায় অতুলনীয়। নিরাপদ আম উৎপাদনের লক্ষ্যে চাষিদের বিভিন্ন সময় মতবিনিময় করেছি এবং আমরা পেরাশার আমকে ব্র্যান্ডিংয়ের মাধ্যমে দেশ-বিদেশে রফতানি করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি।

আমের ব্যাপক প্রচার ও বিভিন্ন তথ্য প্রদানের জন্য ‘উপজেলা কৃষি অফিস পোরশা’ নামে একটি ফেসবুক আইডি ও ‘পোরশার আম’ নামে একটি ফেসবুক পেজ খোলা হয়েছে। সেখানে আমের বিভিন্ন তথ্য পাওয়া যাবে। আমের ব্র্যান্ডিংয়ের অভাবে অনেকটাই পিছিয়ে আছে। নওগাঁর আমকে ব্র‌্যান্ডিং হিসেবে পরিচিত করার জন্য সকলের সহযোগিতা চান তিনি।

Read 609 times Last modified on Sunday, 16 February 2020 21:28

Leave a comment

Make sure you enter the (*) required information where indicated. HTML code is not allowed.