x 
Empty Product
Monday, 16 December 2019 10:07

মুক্তার মতো দামি আমটির নাম হলো গৌড়মতি

Written by 
Rate this item
(0 votes)

নাম গৌড়মতি। অর্থ্যাৎ গৌড় অঞ্চলের দামি মনি মুক্তা। তবে এটা কোন দামি গহণার নাম নয়। নতুন জাতের একটি আমের নাম। সুস্বাদু ও কড়া মিষ্টি, দাম অনেক বেশিসহ নানা রকম গুণের কারণেই ২০১৩ সালে নামকরণ করা হয়েছিলো গৌড়মতি। তারপর থেকেই এঅঞ্চলে অল্প অল্প করে ছড়াতে থাকে গাছের চারা। ইতিমধ্যেই অনেক গাছে আসতে শুরু করেছে আম। এবার প্রতি কেজি আম গাছের গোড়াতেই বিক্রি হচ্ছে ৪০০ টাকা দরে। ভালো দাম হওয়ায় এখন অনেকেই বাগান করতে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।
বৃহস্পতিবার গৌড়মতি আমের উৎপাদন কৌশল, সম্প্রসারণ ও সম্ভাবনা বিষয়ক একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয় পবা উপজেলার মতিয়াবিল এলাকায়। সেখানে রয়েছে রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক মঞ্জুরুল হকের গৌড়মতি আমের নার্সারী। এবার চারটি গাছে এসেছে প্রায় চার মণ আম। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক দেব দুলাল ঢালীর সভাপতিত্বে ওই সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক আব্দুল হানান।
সেমিনারে আমের স্বাদ যাচাইয়ের জন্য সবার মাঝেই বিলি করা হয় আম। মুখে নিতেই মুগ্ধ সবাই। অনেকটাই আমের রাজা ল্যাংড়ার সঙ্গে হিমসাগর ও আশ্বিনা আমের মিল খুজেছেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সবাই বলেছেন, এর স্বাদ অনন্য। মনে হচ্ছে প্রাকৃতিক ভাবেই অনেকগুলো আমের মিশ্রণে আমটি তৈরি।
আমচাষী ও কৃষি কর্মকর্তা মঞ্জুরুল হক জানান, তিনি ২০১২ সালে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ এলাকায় চাকরিতে ছিলেন। তখন তার উর্ধ্বতন কর্মকর্তা উদ্ভিদ সংরক্ষণ উইং এর পরিচালক আবু হানিফ মিয়া সেখানে পরিদর্শনে যান। কিন্তু তখন (৫ সেপ্টেম্বর) সেখানে কোন ভাল আম ছিলো না। কারণ মৌসুম শেষ হওয়ায় ভাল জাত বলতে ল্যাংড়া, হিমসাগর বা ফজলি তখন বাজার থেকে উধাও। তিনি বাজারে ঘুরতে ঘুরতে একটি আম পান। সেখানে তারা ওই আমটিকে বলে ‘গুটি ল্যাংড়া’ বলে বিক্রি করছিলো। কিন্তু ল্যাংড়ার মৌসুম শেষ হয়েছে আরো দুই মাস আগে। তাই আমটি যে ল্যাংড়ার গুটি নয় তা তিনি নিশ্চিত হন। খেতে ভালো হওয়ায় তখন তিনি ৩০০ টাকা কেজি দরে দুই কেজি আম কেনেন।তার উর্ধ্বতন কর্মকর্তা আমটি খেয়ে খুবই প্রশংসা করেন। এবং এটা একটি ভালো জাতের আম বলে উল্লেখ করেন।
এরপর মঞ্জুরুল হক আম গাছটির সন্ধানে বের হন। সোনামসজিদ থেকে আধা কিলোমিটার দুরের শিয়ালমারা গ্রামে গিয়ে গাছটির সন্ধান পান। তিনি সেখান থেকে ১০টি ডাল ও দুটি আম সংগ্রহ করেন। এরপর চাঁপাইনাবগঞ্জ কল্যাণপুর হর্টিক্যালচার সেন্টারে ৫টি ডাল ও একটি আম দেন। আর তিনি নিজে নেন ৫টি ডাল ও একটি আম। ৫ টি ডাল দিয়ে গাছ তৈরি করেন। স্বাদ অতুলনীয় হওয়ায় তার গাছের চারা বাড়াতে থাকেন। এবং আরো অনেককে বিলি করেন। ইতিমধ্যে মঞ্জুরুলের বাগান থেকে ১০ হাজার চারা সারাদেশে বিক্রি হয়েছে। তার বাগানে বড় হয়েছে ১০টি গাছ। আরো ১০০টি মা গাছ থেকে চারা তৈরি হচ্ছে। এবার তার চার বছর বয়সী চারটি গাছে আম ধরেছে প্রায় চার মন। ৪০০ টাকা কেজি দরে গাছের গোড়াতেই সব বিক্রি হয়েছে।
মঞ্জুরুল হক বলেন, ‘বাণিজ্যিকভাবে এই আম খুবই সম্ভাবনাময়। প্রতি বছর আম ধরে। ফলন অনেক বেশি হয়। স্বাদ ভালো হওয়ায় অন্যান্য আমের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি দাম। তাছাড়া মৌসুমের শেষে ভালো মানের আম থাকে না। ওই সময়ের জন্য এটা খুবই ভালো মানের একটি আম।’
রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক আব্দুল আওয়াল বলেন, ‘এটা পৃথিবীর সেরা আম। এর চেয়ে ভালো আম আর হয়না। আমাদের দেশে এই বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে।’
পবা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা খাতিজা বেগম বলেন, ‘পবা উপজেলাতেই তিন হেক্টর জমিতে গৌড়মতি আমের চাষ হয়েছে। কিন্তু পর্যাপ্ত চারা না থাকায় চাহিদা থাকার পরও বাগান বাড়ছে না। অনেকেই চারার জন্য সিরিয়াল দিচ্ছে। অনেকেই এখন গৌড়মতির বাগান করতে আগ্রহী।’
চাষী মোবারক হোসেন বলেন, ‘গৌড়মতি খুবই ভালো জাতের আম। কিন্তু চারার দাম বেশি। দাম কমানো হলে মানুষ সহজেই বাগান করতে পারবে।’
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক আব্দুল হান্নান বলেন, ‘গৌড়মতি খুবই ভালো মানের আম। এর বাগান করে চাষীরা সহজেই লাভবান ও স্বাবলম্বী হতে পারেন। কৃষি বিভাগ কম টাকায় চারা বিক্রির উদ্যোগ নেবে।

Read 129 times

Leave a comment

Make sure you enter the (*) required information where indicated. HTML code is not allowed.