x 
Empty Product
Monday, 16 December 2019 10:05

অনলাইনে আম বেচতে আমের মর্কেটিং কিভাবে করতে হয়

Written by 
Rate this item
(0 votes)

 

  • প্রথমেই জানতে হবে আপনার টার্গেট কাস্টামার কারা। পুরো বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষ আপনার টার্গেট কাস্টমার না। মাত্র সামান্য কিছু মানুষ আপনার টার্গেট। আপনি যদি তিন মাসে ৪,৫০০ অর্ডার সরবরাহ করতে পারেন, প্রতি মাসে দরকার ১,৫০০ অর্ডার, প্রতি দিনে ৫০ টা। এটা করতে পারলেই আপনার গ্রোস লাভ হবে ৪,৫০০ অর্ডার x ১০ কেজির প্যাকেট x ১০ টাকা প্রতি কেজিতে লাভ = ৪৫০,০০০ টাকা লাভ সিজনে। সেখান থেকে শুধু একজন সাহায্যকারীর বেতন দিবেন। দিনে ১০ টা অর্ডার সরবরাহ করতে পারলে মাসে ৩০০ অর্ডার, সিজনে ৯০০ অর্ডার x ১০ কেজির প্যাকেট x ১০ টাকা লাভ = মোট ৯০,০০০ টাকা তিন মাসে। যত দিন যাবে, ব্যবসার সুনাম বাড়বে, ততই ব্যবসাও বড় হবে।
  • সুতরাং যেটা বলছিলাম, আপনাকে শুধুমাত্র এই ৪,৫০০ কাস্টমার জোগাড় করার টার্গেট নিয়ে নামতে হবে।
  • টার্গেট করতে হবে এই কাস্টমারগুলোকে আপনার সার্ভিস দিয়ে সন্তুষ্ট করে পার্মানেন্ট কাস্টমার বানানোর। তার জন্য যা প্রয়োজন সবই করতে হবে। ভাল সার্ভিস বলতে বোঝাচ্ছি সবচেয়ে ভাল মানের আপ সরবরাহ করা – খেতে মিষ্টি দেখতেও সুন্দর, যত কম দাম সম্ভব রাখা, যত দ্রুত সম্ভব অর্ডার সরবরাহ করা যেটা বিরাট গুরুত্বপূর্ণ, কোন সমস্যা হলে সৎভাবে সেটার সমাধান দেয়া যত দ্রুত সম্ভব – সেক্ষেত্রে ব্যবসায়িক সাময়িক ক্ষতি হলেও মেনে নিতে হবে। তখনই একজন কাস্টমার সন্তুষ্ট হবে, একবার অর্ডার দিলে আবারো অর্ডার দিবে, নিজের পরিবারের জন্য দিবে, আত্মীয়দের জন্য দিবে। তারা যতই ফিরে আসবে, ততই আপনার লাভ।
  • প্রথমে খুঁজে বের করতে হবে ক্যুরিয়ার সার্ভিসের ব্রাঞ্চগুলো ঢাকার কোন কোন জায়গায় আছে। সেই ব্রাঞ্চগুলোর ১ কি.মি. রেডিয়াসের মধ্যে ৩০+ বয়সের সমস্ত বিবাহিত লোককে টার্গেট করে গুগলে বিজ্ঞাপন দিতে হবে। এজন্য গুগল ডিসপ্লে নেটোয়ার্ক ব্যবহার করতে হবে। ক্যুরিয়ার সার্ভিসগুলো যেহেতু হোম ডেলিভারী দেয় না, সুতরাং যেসব এলাকায় তাদের অফিস আছে তার কাছাকাছি লোকজনকে টার্গেট করলে তারা সহযেই আম ডেলিভারী নিতে পারবে এবং ঝামেলা কম বলে অর্ডার দিতে উৎসাহিত হবে।
  • একবার যারা আপনার সাইটে আসবে, তাদের সারা বছর রিমার্কেটিং করে আপনার ব্র্যাণ্ডের নাম স্মরন করিয়ে দিতে হবে যাতে আমের সিজনে আপনার এ্যাড দেখেই তাদের নিতান্ত পরিচিত ব্র্যাণ্ড বলে মনে হয় এবং অর্ডার করতে ভরসা পায়। এই কাজগুলো গুগল এ্যাডে সহযেই করা যায়। ফেইসবুকেও এই রিমার্কেটিংটা করতে হবে, যা খুবই গুরুত্বপূর্ন। আগেই বলেছি, ব্যবসাটা সিজনাল, কিন্তু মার্কেটিং-এর কাজ চালিয়ে যেতে হবে সারা বছর।
  • প্রশ্ন আসতে পারে, ফুটপাতে ৬০ টাকা কেজিতে যখন আম পাওয়া যায়, তখন আপনার কাছ থেকে তারা ৮০ টাকা কেজিতে কেন কিনবে? তারা কিনবে কারন মানুষের মনে ফুটপাতের / বাজারের আম সম্বন্ধে আতঙ্ক আছে ফরমালিন ও অন্যান্য ক্যামিক্যালের। তাছাড়া মানুষের কিছু জিনিস সম্বন্ধে সহজাত ঝোক আছে – যেমন দেশী মুরগী, খাঁটি দুধ, হাঁসের ডিম, রাজশাহীর / ভেজালমুক্ত আম ইত্যাদি সম্বন্ধে। কাজেই তাদের এই দুর্বলতাটাকেই পুঁজি করে মার্কেটিং করতে হবে। আপনাকে প্রতিষ্ঠা করতে হবে, আপনার ব্র্যান্ড ঝামেলাহীনভাবে বাগানের ভেজালমুক্ত আম তাদের কাছে সরাসরি পৌঁছে দিবে। এই বিষয়ে যখনই কাস্টমারের বিশ্বাস আনতে পারবেন, তখনই আপনার ব্যবসা দাঁড়িয়ে যাবে।
  • ফেইসবুক পেইজে নিয়মিত পোষ্ট করতে হবে বাগান, আম, আমের কোয়ালিটি, আম উৎপাদন, পরিচর্যা ইত্যাদি নিয়ে। তবে কখনোই বিজ্ঞাপন দিয়ে ফেইসবুক লাইক আদায় করা যাবে না। এটা খুবই খারাপ বিনিয়োগ। স্বেচ্ছায় যারা পেইজে লাইক দিবে, সেটাই যথেষ্ট।
  • সাইটে একটা ব্লগ সেকশন রাখতে পারেন, যেখানে আম বিষয়ক বিভিন্ন লেখা ও ছবি পোষ্ট করতে পারেন।
  • সিজনের সময় এসে বিজ্ঞাপনটা জোর দিয়ে করতে হবে, এবং কল-টু-এ্যাকশন ব্যাবহার করতে হবে যাতে মানুষ এখনই অর্ডার করতে উৎসাহিউত হয়।
Read 336 times

Leave a comment

Make sure you enter the (*) required information where indicated. HTML code is not allowed.