x 
Empty Product
Saturday, 02 March 2019 21:57

আমে ন্যাচারালি ফরমালিন থাকে, তাহলে আমি শিল্পকে ধ্বংস করার রহস্য কি?

Written by 
Rate this item
(0 votes)

আমে ফরমালিন আছে বলে গত ২ বছর ধরে আম শিল্প ধ্বংস করা হচ্ছে।বাংলাদেশ আম উৎপাদনে বিশ্বে ৭ম।এবারো আম চাষিরা আতংকে আছেন। কারন ফরমালীন এর দোহাই দিয়ে সরকার নির্দিষ্ট সময়ের আগে আম পাড়তে দেয়না। যার ফলে আম পাকলেও কিছু করার থাকেনা। অথচ অধিকাংশ ফরমালিন হচ্ছে ন্যাচারাল। ফল ও মাছে ফরমালডিহাইড প্রাকৃতিকভাবে উৎপন্ন হয়।
১) হংকং’র সেন্টার ফর ফুড সেইফটি’র দেয়া তথ্য মতে: প্রতি কেজি আপেলে ৬.৩ থেকে ২২.৩ মিলিগ্রাম, প্রতি কেজি কলায় ১৬.৩ মিলিগ্রাম, আঙ্গুরে ২২.৪ মিলিগ্রাম, আলুতে ১৯.৫ মিলিগ্রাম, তরমুজে ৯.২ মিলিগ্রাম, গরুর গোশতে ৬.৪ মিলিগ্রাম, মুরগীর গোশতে ২.৫ থেকে ৫.৭ মিলিগ্রাম, গরুর দুধে ৩.৩ মিলিগ্রাম, চিংড়ি মাছে ১-২.৪ মিলিগ্রাম ন্যাচারাল ফরমালিন থাকে।
২) বাংলাদেশে ফরমালিন মাপতে যে মেশিন ব্যবহার করা হচ্ছে তা নিয়ে রয়েছে সন্দেহ, ঐ মেশিন কি ফরমালিন মাত্রা শো করে? না, রাসায়নিক উপাদানের মাত্রা শো করে? কারণ গাছে কিটনাশক ব্যবহার করা স্বাভাবিক। কিন্তু কিটনাশকের উপস্থিতি ধরা পরলেও সেটা ফরমালিন বলে চালিয়ে দেয়া হচ্ছে। ফল ও মাছে ফরমালিন পরীক্ষায় বিভিন্ন সংস্থা যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি ফরমালডিহাইড মিটার (জেড-৩০০) ব্যবহার করেছে। কিন্তু এ যন্ত্রটি বাতাসে ফরমালডিহাইডের উপস্থিতি পরীক্ষার জন্য কার্যকর, ফলের জন্য নয়।
৩।) বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) হিসাবে, প্রাকৃতিকভাবে বিভিন্ন ফল ও সবজিতে গড়ে প্রতি কেজিতে ৩ থেকে ৬০ মিলিগ্রাম ফরমালডিহাইড থাকে। আর সামুদ্রিক মাছেও গড়ে প্রতি কেজিতে ১ থেকে ১৪০ মিলিগ্রাম ফরমালডিহাইডের উপস্থিতি রয়েছে।
৪) বিএআরসির ওই গবেষণায় বলা হয়েছে, প্রকৃতপক্ষে ফলে ইথোফেন বা ইথরেল ব্যবহার করা হচ্ছে। ইথোফেন একটি ফলের পক্বতা ত্বরান্বিত করার একটি বৈধ রাসায়নিক। ফলের পরিপক্বতা ও জাত অনুযায়ী এটি প্রয়োগ করা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি পদ্ধতি। ল্যাবটেরিতে পরীক্ষা চালিয়ে দেখা গেছে, ইথোফেন প্রয়োগের এক ঘণ্টা পর তা ফলের দেহ থেকে দ্রুত বের হয়ে যায়। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তা নির্ধারিত মাত্রা ২ পিপিএমে চলে আসে।
৫) বিশ্বের অনেক দেশে মানবদেহের জন্য ফরমালডিহাইডের সহনীয় মাত্রাও নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। যেমন ইতালির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ১৯৮৫ সালে খাদ্য হিসেবে মাছ ও চিংড়ির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ মাত্রা প্রতি কেজিতে যথাক্রমে ৬০ ও ১০ মাইক্রোগ্রাম নির্ধারণ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের পরিবেশ সুরক্ষা কর্তৃপক্ষের মতে, একজন ব্যক্তি প্রতিদিন প্রতি গ্রাম দৈহিক ওজনের জন্য সর্বোচ্চ শূন্য দশমিক ২ মাইক্রোগ্রাম ফরমালিন গ্রহণ করতে পারে।
৬) ফরমালিন হলো ফরমালডিহাইডের দ্রবীভূত অবস্থা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডাব্লিউএইচও) ও যুক্তরাষ্ট্রের ‘এজেন্সি ফর টক্সিক সাবস্টান্স অ্যান্ড ডিজিজ রেজিস্ট্রির (এটিএসডিআর)’ তথ্যানুযায়ী, যেকোনো ফলে প্রাকৃতিকভাবে ফরমালডিহাইড উৎপন্ন হতে পারে। হংকংয়ের ‘ফুড সেফটি অথরিটির’ ওয়েবসাইটে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও আরো কয়েকটি সংস্থার তথ্য সংকলন করে কোনো ফল ও সবজিতে কত মাত্রার ফরমালডিহাইড প্রাকৃতিকভাবে উৎপন্ন হতে পারে তা বলা আছে। ইউরোপিয়ান ফুড সেফটি অথরিটির (ইএফএসএ) মতে, দিনে একজন মানুষের শরীরে ১০০ পিপিএম পর্যন্ত ফরমালডিহাইড সহনীয়।
দেখা যাচ্ছে প্রাকৃতিকভাবেই মানুষ ফরমালীণ খাচ্ছে যা তার বডিতে সহনীয় ও হচ্ছে। তাহলে কিসের ভিত্তিতে বাংলাদেশের আম শিল্পকে ধ্বংস করার চক্রান্ত করা হচ্ছে? 
ভারতীয় আমকে বাংলাদেশে অবাধ প্রবেশ করানোই কি এ চক্রান্তের মুল লক্ষ্য নয় কি? 
Read 168 times

Leave a comment

Make sure you enter the (*) required information where indicated. HTML code is not allowed.