x 
Empty Product
Tuesday, 04 September 2018 06:40

আম বাগান কেনায় অনাগ্রহী চাষিরা

Written by 
Rate this item
(0 votes)

আমের মৌসুম শেষ হতে না হতেই আবারও নতুন করে শুরু হয়েছে আমের রাজধানী নামে খ্যাত চাঁপাইনবাবগঞ্জে আমবাগান বিক্রির প্রক্রিয়া। তবে নতুন করে বাগান বিক্রি শুরু হলেও কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় হতাশ আমচাষীরা।  খরচের তুলনায় আমের দাম কম থাকায় বাগান বিক্রি করতে পারছেন না তারা। আর্থিক ক্ষতির শঙ্কায় আগামী মৌসুমের জন্যও বাগান কেনায় অনাগ্রহ দেখা যাচ্ছে তাদের মধ্যে।  

এখন চাঁপাইনবাবগঞ্জের কানসাট আম বাজারে পাওয়া যাচ্ছে আশ্বিনা জাতের আম। তবে আর ১৫-২০ দিনের মধ্যেই শেষ হয়ে যাবে এবারের মৌসুমের এই জাতের আম। এর আগেই নতুন করে আমবাগান বিক্রি শুরু হয়েছে।

জানা গেছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায়  চলতি মৌসুমে ২৯ হাজার ৫১০ হেক্টর জমিতে আমের চাষ হয়েছে। আম গাছের সংখ্যা মোট সাড়ে ১৮ লাখ। প্রতিবছরই এই সংখ্যা আনুপাতিকহারে বাড়ছে। সেই সঙ্গে বাড়ছে বাগানের সংখ্যাও।

এদিকে, অনেকে নতুন চুক্তি অনুযায়ী গাছ বিক্রিতে হতাশা প্রকাশ করেন। কারণ হিসেবে তারা বলছেন, এবার বাম্পার ফলনের পরেও আমের নায্য মূল্য না পাওয়া। তাই হাত বদলের মৌসুম চললেও কেউ বাগান কেনায় আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এতে করে আবারও আম চাষিরা লোকসানের মুখে পড়বেন বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।আম বাগান

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার মিঠুপুর এলাকার হুমায়ন আহমেদ চার বছর আগে ৬০ বিঘার আম বাগান ২০ লাখ টাকায় বিক্রি করেছিলেন। এবার তিনি সে বাগান রানীহাটি এলাকার তৌফিক ও ইব্রাহিমের কাছে তিন বছর চুক্তিতে ১১ লাখ টাকায় বিক্রি করেছেন। শুধু হুমায়ন আহমেদ নন, জেলার অনেকে এবার আম বাগান বিক্রি করে দিচ্ছেন। এমনি একজন হলেন শিবগঞ্জ উপজেলার রানীহাটির কমলাকান্তপুরের এজাবুল হোসেন। তিনি জানান, ‘তিন বছর আগে ১৫ বিঘার আমবাগান সাড়ে ৫ লাখ টাকায় বিক্রি করেছিলাম। কিন্তু গেলো মৌসুমে প্রায় দেড় লাখ টাকা খরচ করে ২ লাখ ৮৫ হাজার টাকার আম বিক্রি করেছি। এতে করে খরচ বাদে ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা হাতে এসেছে। ফলে পরবর্তী দুই বছরে অনেক হিসাব-নিকাশ কষে আমবাগান অন্যের কাছে দিতে চাই। কিন্তু কেউ আগ্রহ দেখাচ্ছে না।’

কেন আমবাগান অন্যের কাছে ছেড়ে দিচ্ছেন-জানতে চাইলে এজাবুল হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘দেশের যেসব অঞ্চলে আগে আম হতো না এখন সেসব এলাকায় আম হচ্ছে। এতে করে আমের ব্যবসা ছেড়ে অন্য ব্যবসায় অর্থ বিনিয়োগ করলে লাভ হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে।’

শিবগঞ্জ উপজেলার কমলাকান্তপুর এলাকার জাহাঙ্গীর, রমজান, নাসিম ও আনোয়ার চার বন্ধু অ্যাডভোকেট গোলাম আরিফ টিপুর ২০ বিঘা আমবাগান  চার বছরের জন্য ৯ লাখ টাকায় কিনেছেন। তারা জানান, এখন বাগান কিনে গাছ পরিচর্যা করে আমের ফলনের জন্য তৈরি করা হবে। তবে আমের মুকুল আসার সঙ্গে সঙ্গে বেশি দামে ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে শ্রমিকের মজুরি বেশি থাকায় খরচ বাড়বে। তারপরও আম চাষ ধরে রাখতে চান তারা।আম বাগান

শিবগঞ্জ উপজেলার লাউঘাট্টা এলাকার মিজানুর রহমানসহ কয়েকজন মিলে জেলার নাচোল, নওগাঁর পোরশা, সাপাহার ও রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে গেলো মৌসুমে প্রায় দেড় কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন। কিন্তু এবার প্রায় ৪০ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে। এরমধ্যে নাচোল উপজেলায় সাত বছরের জন্য ছয় হাজার গাছ কিনেছিলেন। কিন্তু ঝড়-শিলাবৃষ্টির কারণে মাত্র ১৯ হাজার টাকা আয় করতে পেরেছিলেন বলে জানান মিজানুর রহমান মিজান। তিনি বলেন, ‘অন্য এলাকায় আমের ফলন ভালো পেলেও দাম পাইনি। এভাবে চলতে থাকলে একসময় বিনিয়োগের পুঁজি খুঁজে পাওয়া যাবে না।’

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলার মুশরীভুজা এলাকার সাকিল আহমেদ বলেন, ‘আম মৌসুম শেষ হওয়ার পর আবার নতুন করে বাজারে উঠার আগপর্যন্ত বেশ কয়েকবার হাত বদল হয়।’

চাঁপাইনবাবগঞ্জের সবচেয়ে বড় আমের বাজার কানসাট বাজারের আম আড়তদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হক বলেন, ‘চলতি মৌসুমে আমের দাম না পাওয়ায় নতুন করে বাগান কেনাবেচায় আগ্রহ তেমন নেই ব্যবসায়ীদের। এছাড়া দিন দিন শুধু চাঁপাইনবাবগঞ্জেই নয়, সারাদেশে আমের বাণিজ্যিক উৎপাদন বেড়ে যাওয়ায় আমের নায্যমূল্য পাচ্ছে না চাষিরা। ব্যবসায়ীরা আম বাগানের পাতায় ১ হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা মণ দরে কিনে শুরুতেই ২ থেকে আড়াইহাজার টাকায় আম বেচাকেনা করতো। গত কয়েক বছর ধরে অব্যাহত লোকসান খাওয়ায় নতুন মৌসুমের শুরুতে তাই বাগান কিনতে ভয় পাচ্ছে।’

http://www.banglatribune.com/country/news/358411/%E0%A6%86%E0%A6%AE-%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%97%E0%A6%BE%E0%A6%A8-%E0%A6%95%E0%A7%87%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A7%9F-%E0%A6%85%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%97%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%B9%E0%A7%80-%E0%A6%9A%E0%A6%BE%E0%A6%B7%E0%A6%BF%E0%A6%B0%E0%A6%BE

Read 883 times Last modified on Monday, 31 December 2018 09:01

Leave a comment

Make sure you enter the (*) required information where indicated. HTML code is not allowed.