x 
Empty Product
Tuesday, 03 April 2018 22:26

মালদার আম চলল ইউরোপে

Written by 
Rate this item
(0 votes)

মালদার আম এবার যাবে ইউরোপের দেশগুলিতে। এতদিন শুধুমাত্র পরিকাঠামোর অভাবে মালদার আম বিদেশে পাঠানো যাচ্ছিল না। প্রতি বছর মহারাষ্ট্রের কাছে হেরে যাচ্ছিল মালদা৷ বিষয়টি জানতে পেরে উদ্যোগী হন স্বয়ং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। কেন রাজ্যের আম বিদেশে পাঠানো যাবে না, কোথায় সমস্যা আছে, সেটা কেন দূর করা যাচ্ছে না, তা নিয়ে সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। এরপরই নড়েচড়ে বসে সংশ্লিষ্ট দপ্তর। 
উল্লেখ্য, বিদেশে আম রপ্তানিতে প্রশাসনিক উদ্যোগের অভাবটাই ছিল বড় কারণ৷ সেই সমস্যা অনেকটাই দূর হয়েছে। মরশুম শুরুর আগেই মালদার আমকে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে রপ্তানির উদ্যোগ নিচ্ছে জেলা উদ্যানপালন ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ দপ্তর৷ সেই উদ্যোগ কার্যকরীও হতে চলেছে৷ সব ঠিক থাকলে এবার জুন মাস থেকেই ইংল্যান্ড, ইতালি, ফ্রান্স–সহ ইউরোপের বেশ কিছু দেশের শপিং মলগুলিতে দেখা মিলবে মালদার আমের৷ এমনটাই আশা করছেন জেলা উদ্যানপালন ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ দপ্তরের উপ–অধিকর্তা রাহুল চক্রবর্তী৷ গুণমান ও খাদ্যগুণে পিছিয়ে থাকলেও এতদিন আম রপ্তানিতে মালদার হিমসাগর, ল্যাংড়া, ফজলি কিংবা লক্ষ্মণভোগকে টেক্কা দিচ্ছে মহারাষ্ট্রের আলফানসো ও কেশর৷ আমের মরশুমে প্রতিবছর রপ্তানির সিংহভাগ দখল করে রেখেছে আরব সাগর তীরের মহারাষ্ট্র৷ ওই রাজ্যের উন্নত পরিকাঠামো ও প্যাকেজিংয়ের কারণেই আলফানসো ও কেশর আমের রপ্তানি প্রতি বছর বেড়ে চলেছে৷ কিন্তু এবার মালদার হিমসাগর, ল্যাংড়া, ফজলি আর লক্ষ্মণভোগ বিদেশে রপ্তানি করতে অনেক আগে থেকেই কোমর বেঁধে নেমেছে জেলা প্রশাসন৷ চলতি মরশুমে এই জেলায় আমের ব্যাপক মুকুল এসেছিল৷ সেই মুকুল থেকে গুটিও বেরিয়েছে যথেষ্ট ভাল৷ সবচেয়ে বড় কথা, অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এখনও আমে রোগ কিংবা পোকার আক্রমণ নেই বললেই চলে৷ উদ্যানপালন দপ্তরের আশা, আবহাওয়া সঙ্গ দিলে এবার জেলায় প্রায় ৩২ হাজার হেক্টর জমিতে আমের উৎপাদন ৪০০ মেট্রিক টন ছাড়িয়ে যেতে পারে৷ তেমন হলে আমচাষিরাও যথেষ্ট লাভবান হবেন৷
চাষিদের লাভ বাড়ানোর সঙ্গে বিদেশি মুদ্রা আমদানির লক্ষ্যে অনেক আগে থেকেই জেলার আম বিদেশে রপ্তানি করতে উদ্যোগ নেয় সংশ্লিষ্ট দপ্তর৷ গত বছরের মাঝামাঝি থেকেই দফায় দফায় আলোচনা করা হয় কেন্দ্রীয় সরকারের এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড প্রসেসড ফুড প্রোডাক্টস এক্সপোর্ট ডেভেলপমেন্ট অথারিটির (অ্যাপেডা) সঙ্গে৷ এক্ষেত্রে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয় অ্যাপেডাও৷ জেলায় আমের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে ওই সংস্থার কর্তারা একাধিকবার মালদায় আসেন৷ গত ১৬ ফেব্রুয়ারি তাঁরা মালদা জেলা প্রশাসনের সঙ্গে এ নিয়ে একটি বৈঠকও করেন৷ সেই বৈঠকে অ্যাপেডার কর্তারা জানিয়ে দেন, বিদেশে আম রপ্তানি করতে হলে ন্যূনতম কয়েকটি ব্যবস্থা করতে হবে৷ তার মধ্যে রয়েছে এক্সপোর্ট কোয়ালিটির আম৷ রপ্তানির জন্য প্রতিটি আমের ওজন ৩০০ থেকে ৩৫০ গ্রাম হতে হবে৷ আমের গায়ে কোনও দাগ থাকা চলবে না৷ আম পরিপক্ব হলেও শক্ত হতে হবে৷ অ্যাপেডার শংসাপত্র পাওয়া প্যাক হাউস থাকতে হবে৷ হট ওয়াটার প্ল্যান্ট নির্মাণ করতে হবে৷ সেই প্ল্যান্টে কেন্দ্রীয় সরকারের ডাইরেক্টরেট অফ প্ল্যান্ট প্রোডাকশন কোয়ারান্টাইম অফ ফ্রুটস নিযুক্ত প্ল্যান্ট প্রোটেকশন অফিসার নিয়োগ করতে হবে৷ এছাড়াও জেলার আমের ফার্মগুলির রেজিস্ট্রেশন থাকতে হবে যাতে কোনও খারাপ আম বেরোলে সেটি কোন বাগানের তা চিহ্নিত করা যায়৷ উদ্যানপালন দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, এই সব শর্তের মধ্যে একমাত্র প্ল্যান্ট প্রোটেকশন অফিসার নিয়োগ ছাড়া বাকি পরিকাঠামো তৈরি হয়ে গিয়েছে৷ পিপিও নিয়েগোর জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছে আবেদনও জানানো হয়েছে৷ 
 জেলা উদ্যানপালন দপ্তরের উপ–অধিকর্তা রাহুল চক্রবর্তী বলেন, গত ১৬ ফেব্রুয়ারি তাঁরা অ্যাপেডার কর্তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন৷ বৈঠকে জেলার আমচাষি ও রপ্তানিকারকদেরও ডাকা হয়েছিল৷ সেখানেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, এই মরশুম থেকে অ্যাপেডার মাধ্যমে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে আম রপ্তানি করা হবে৷ বৈঠকে একটি কোম্পানি জানায়, শুধু তারাই প্রতিদিন ৩ টন আম বিদেশে রপ্তানি করবে৷ সব মিলিয়ে এই জেলায় আমচাষের এক উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে৷ চলতি মরশুমে মালদায় রেকর্ড পরিমাণ আম উৎপাদনের আশা করছেন তাঁরা৷ ফলে এবারই তাঁরা রেকর্ড পরিমাণ আম বিদেশের বাজারে রপ্তানি করতে পারবেন৷ তবে এখনই তাঁরা আমেরিকা কিংবা জাপানে আম রপ্তানি করতে পারবেন না৷ আমেরিকায় আম রপ্তানি করতে গেলে গামা ইরেডিয়েশন পদ্ধতিতে আম পরীক্ষা করা প্রয়োজন৷ জাপানে রপ্তানির ক্ষেত্রে প্রয়োজন ভেপার হিট ট্রিটমেন্ট পদ্ধতি৷ এই দুটি পদ্ধতি এখনও মালদায় তৈরি হয়নি৷ তবে হট ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট তাঁরা তৈরি করেছেন৷ অ্যাপেডা তার শংসাপত্রও দিয়ে দিয়েছে৷ ইতিমধ্যেই আমের বাগানগুলি রেজিস্ট্রেশন করার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে৷ আশা করা যায় এ বছর মালদার আম বাণিজ্যিক ভাবে বিদেশের বাজারে পাড়ি দিতে চলেছে।

Read 1732 times

Leave a comment

Make sure you enter the (*) required information where indicated. HTML code is not allowed.