x 
Empty Product
Thursday, 01 March 2018 22:30

বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি পেতে যাচ্ছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ‘খিরসাপাত’ আম

Written by 
Rate this item
(0 votes)

‘জিআই’ (গ্লোবাল ইনডেক্স বা ভৌগোলিক নির্দেশক) পণ্য হিসেবে নিবন্ধিত হবার পথে চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিখ্যাত ‘খিরসাপাত’ জাতের আম। এ ব্যাপারে গেজেট জারি প্রক্রিয়াধিণ। শীঘ্রই এটি ‘জিআই’ জার্নালেও প্রকাশিত হবে। নিবন্ধন পেলে সুস্বাদু জাতের এই আম ‘চাঁপাইনবাবগঞ্জের খিরসাপাত আম’ নামে বিশ্ব বাজারে পরিচিত হবে। ফলে উপকৃত হবেন জেলার আম চাষি ও ব্যবসায়ীরা। দেশে উৎপাদিত মোট আমের প্রায় ২৫ শতাংশই বর্তমানে খিরসাপাত জাতের। প্রতিবছর রপ্তানি আমের মধ্যেও শীর্ষে এ জাতের অবস্থান।
এর মিষ্টতার পরিমান,আকার,ওজন ও অন্যান্য বৈশিস্টও আদর্শ। এখন দেশের চাহিদা মিটিয়ে ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে বাংলাদেশের আম। সম্ভাবনা বিবেচনা করে ও আমের স্বত্ব (প্যাটেন্ট) সুরক্ষার চিন্তা থেকেই ২০১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি চাঁপাইনবাবগঞ্জের খিরসাপাত আমকে জিআই পণ্য হিসেবে নিবন্ধনের আবেদন করা হয়।

খিরসাপাত ছাড়াও চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমের আরো দুটি জাত ল্যাংড়া ও আশ্বিনাকেও জিআই পণ্য হিসেবে নিবন্ধনের আবেদন করা হয়েছে। ওইগুলি নিবন্ধনের ব্যাপারেও আশাবাদী চাঁপাইনবাবগঞ্জের স্থানীয় প্রশাসন ও ফল বিজ্ঞানীরা। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের তত্তাবধানে আবেদন প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করে বাংলাদেশ কৃষি গবেষনা ইনস্টিটিউট। চাঁপাইনবাবগঞ্জ আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত¦ গবেষণা কেন্দ্রের (আম গবেষণা কেন্দ্র) ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শরফ উদ্দিন জানান, নিবন্ধনের ব্যাপারে আমরা পুরো ২০১৭ সাল জুড়েই কাজ করেছি। তিনি জানান,প্রায় দুইশ বছরের প্রাচীন জনপ্রিয় লোকসংগীত ‘আলকাপ গান’।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের আলকাপ গান এখনও টিকে আছে তার অনন্য বৈশিষ্ট্যর জন্য। বৈশিষ্ট্যগতভাবে আলকাপ গানে সমসাময়িক ঘটনাবলী সাধারণের মাঝে তুলে ধরা হয় বস্তুনিষ্ঠতার সাথে। প্রাচীন আলকাপ গানের বর্ণনায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমের ঐতিহ্যের কথা জানা যায়। সেই সূত্র ধরেই আমরা প্রমানের চেষ্টা করেছি যে, খিরসাপাত জাতটি চাঁপাইনবাবগঞ্জের নিজস্ব। এছাড়া কিছু দালিলিক তথ্য প্রমানও যুক্ত করেছি আবেদনের সাথে। খিরসাপাতকে আমরা নিবন্ধন আবেদন তালিকার শীর্ষে রেখেছিলাম।

কারন এ জাতটি সবচেয়ে স্বসাদু। সবচেয়ে বেশী উৎপাদিত হয়। দেশে ও বিদেশে এর কদর সবচেয়ে বেশি। তিনি বলেন, আশা করছি, চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমের মধ্যে প্রথম জিআই জাত হিসেবে খিরসাপাত অন্তর্ভুক্ত হবে। ফল বিজ্ঞানী শরফ উদ্দিন আরো বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের ল্যাংড়া ও আশ্বিনা জাতের আমের ব্যাপারেও আমরা আশাবাদী। অচিরেই এ দুটি জাতও জিআই পণ্য হিসেবে নিবন্ধিত হবে। খিরসাপাতের আবেদন প্রক্রিয়ায় যুক্ত ও ব্যাক্তি হিসেবে আবেদনকারী চাঁপাইনবাবগঞ্জ আঞ্চলিক উদ্যোনতত্ব গবেষনা কেন্দ্রের মূখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা (সিএসও) ড.হামিম রেজা।

তিনি বলেন, এটা আমার জন্যও খুবই আনন্দের একটি ব্যাপার। সেই সাথে জিআই পণ্য হিসাবে চাঁপাইনবাবগঞ্জের খিরসাপাত আমের নিবন্ধন এ জাতটির চাষ ও ব্যবসাকে উৎসাহিত করবে। এতে উৎপাদন বাড়বে। আম কেন্দ্রিক অর্থনীতির বিকাশ হবে। চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রশাসক মাহমুদুল হাসান জানান,‘আমের রাজধানী চাঁপাইনবাবগঞ্জ’ শিরোনামে জেলা ব্রান্ডিং করা হচ্ছে। ব্রান্ডিং এর অংশ হিসাবে জেলার গুরুত্বপূর্ন জাতের আমগুলোকে জিআই পন্য হিসাবে নিবন্ধনের কাজ চলছে। ইতিমধ্যেই তিনটি জাতের জিআই পন্য নিবন্ধনের আবেদন করা হয়েছে।

এরমধ্যে খিরসাপাত জাতটি চুড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। আশা করা হচ্ছে শীঘ্রই এর নিবন্ধন (জিআই নং) পাওয়া যাবে। ল্যাংড়া ও আশ্বিনা জাত দুটিরও নিবন্ধন প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। খিরসাপাত জাতের বিশ্বব্যাপী নিবন্ধনের সম্ভাবনায় জেলার চাষী,বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীরা আনন্দ প্রকাশ করেছেন।

Read 1202 times

Leave a comment

Make sure you enter the (*) required information where indicated. HTML code is not allowed.