x 
Empty Product
Wednesday, 14 February 2018 07:39

আম গাছের যত্নআত্তি

Written by 
Rate this item
(0 votes)

 

mango

আম গাছে বিভিন্ন প্রকার পরগাছা লক্ষ করা যায়। এগুলো গাছের দেহ থেকে খাবার চুষে খায়, তাতে গাছ দুর্বল হয়ে পড়ে। আম সংগ্রহ শেষে অবশ্যই এগুলো ছাঁটাই করে গাছকে পরগাছা মুক্ত করা প্রয়োজন। আম গাছের বাইরের আগার ডালে ফুল ফল ধরে। গাছের ভিতরে গজানো ডালে কোন ফল ধরে না। এজন্য গাছের ভিতরে গজানো অপ্রয়োজনীয় ডালপালা অবশ্যই ছেঁটে ফেলতে  হবে। এ ব্যবস্থায় গাছের ভেতরে আলো-বাতাস চলাচলের সুবিধা হবে, গাছের খাদ্যপুষ্টির অপচয় রোধ হবে। অতিবৃষ্টি ও ঝড়ের প্রবাহে গাছ একদিকে হেলে পড়ার সম্ভাবনা থাকে।

এছাড়া বেশি আলো প্রাপ্তির প্রয়োজনে অনেক সময় গাছ এক ধারে বেশি বাড়ে ফলে গাছের ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে, এমনকি হেলে মাটিতে পড়ার সম্ভাবনা থাকে। এজন্য বাড়তি ডাল ছেঁটে দিয়ে গাছকে সোজা রাখা প্রয়োজন। ফলন্ত গাছে সার প্রয়োগের বিষয়ে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা একান্ত প্রয়োজন। আম গাছে বর্ষার শেষে অক্টোবর-নভেম্বর মাসে ইউরিয়া সার প্রয়োগ করা হলে গাছে ফুল না এসে পাতা গজাতে সহায়ক হয়। একটা ২৫-৩০ বছরের ফলন্ত আম গাছে ফল সংগ্রহ শেষে আগস্ট মাসের মধ্যে যে সব সার প্রয়োগ করা প্রয়োজন তা হলো- পচা গোবর/আবর্জনা পচা সার ২০ কেজি, খৈল পচা ২ কেজি, টিএসপি ২.৫ কেজি, এমওপি ২ কেজি (৩ বছরের ব্যবধানে একবার ৫০% এমওপি+ ৫০% এমওপি প্রয়োগ করা ভালো)। গাছের ডালপালা চারিধারে যে পর্যন্ত সম্প্রসারিত আছে, ঠিক ততদূর পর্যন্ত বৃত্তাকারে গাছের নিচের মাটি কুপিয়ে দিতে হবে। তবে গাছের দুই-আড়াই ফুটের মধ্যে যেহেতু খাদ্য গ্রহণে গাছের সক্ষম শিকড় অনুপস্থিত থাকে সে জন্য এ অংশ অযথা কুপিয়ে সার প্রয়োগের প্রয়োজন নেই। এবার সব সার একত্রে মিশিয়ে গাছের তলায় কোপানো অংশে ছিটিয়ে দিতে হবে। সার ছিটানোর পর পুনরায় হালকা কোপ দিয়ে সারগুলো গাছের তলায় মাটির সাথে মিশিয়ে পানি সেচ দিয়ে ভেজাতে হবে।

বর্ষা শেষে নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে এবং গাছে ফুল ফল ধরা আরম্ভ হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত আম গাছে সেচ দেয়া যাবে না। এ সময় সেচ দিলে গাছে ফুল আসার পরিবর্তে পাতা গজানোর সম্ভবনা বেশি। বর্ষাকালে অবশ্যই পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা থাকতে হবে। আম সংগ্রহ শেষে কতগুলো ডাল/কা- ছিদ্রকারী পোকার উপদ্রব দেখা যায়। কোন কোন পোকা গাছের ডাল ও কাণ্ডের গুড়িতে এবং বাকলের নিচে আশ্রয় নেয়। কখনো বা এগুলো মা পোকা হিসেবে বেঁচে থাকে। পরবর্তীতে ফুল ও ফল ধরার মৌসুমে মা পোকা ব্যাপক বংশ বৃদ্ধির মাধ্যমে যথেষ্ট ক্ষতি করে। এ ধরনের লুকিয়ে থাকা পোকামাকড় দমনে ক্লোরোপাইরিফস (ডারসবার্ন, ক্লোরসেল, কাসির) জাতীয় কীটনাশক অনুমোদিত মাত্রায় গাছের কা-, ডাল, পাতায় ভালোভাবে স্প্রে করতে হবে। এ কীটনাশকের বিষক্রিয়া থাকে প্রায় দু’সপ্তাহ। এ জন্য গাছে পোকার উপদ্রব বেশি আশংকা করা গেলে ১৫ দিনের ব্যবধানে দু’বার স্প্রে করাই উত্তম। আম ফল সংগ্রহের আগে ও পরে বর্ষা মৌসুমে অনুকূল পরিবেশের প্রভাবে পোকামাকড়ের পাশাপাশি গাছ ছত্রাক দ্বারা যথেষ্ট আক্রান্ত হয়। এ আক্রমণ প্রতিহত করতে কারবেনডাজিম (ব্যাভিস্টিন, নোইন, গোল্ডাজিম) জাতীয় ছত্রাকনাশক প্রয়োজনীয় কীটনাশকের সাথে মিশিয়ে একত্রে স্প্রে করা যাবে।

Read 1456 times

Leave a comment

Make sure you enter the (*) required information where indicated. HTML code is not allowed.