x 
Empty Product

দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে ব্যাপক জনপ্রিয় হচ্ছে আমবাগান। দিন দিন বাড়ছে আমবাগানের সংখ্যা। প্রতিবছর গড়ে ৫০ হেক্টর জমিতে নতুন নতুন আমবাগান হচ্ছে। তবে আমবাগানের মালিক ও চাষিরা বলছেন, গত বছর প্রচুর আম এলেও কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় তাঁদের লোকসান গুনতে হয়েছে। এ বছর গাছে আসেনি কাঙ্ক্ষিত মুকুল। দেখা নেই আমের গুটি। ফলে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন বাগানমালিকেরা।
নবাবগঞ্জ উপজেলা কৃষি কার্যালয় থেকে জানা গেছে, এবার উপজেলায় ৮১০ হেক্টর জমিতে আমবাগান করা হয়েছে। ২০১৩ সালে এ উপজেলায় আমবাগান ছিল ৬৫০ হেক্টর জমিতে। এ উপজেলায় হিমসাগর, আম্রপালি, হাঁড়িভাঙ্গাসহ বিভিন্ন জাতের আমের বাগান করা হয়েছে। তবে বেশির ভাগ বাগান হিমসাগর আমের। মোট বাগানমালিক রয়েছেন ৫১৫ জন। উপজেলায় সবচেয়ে বেশি আমের বাগান রয়েছে মাহমুদপুর, ভাদুরিয়া, দাউদপুর ও বিনোদনগর ইউনিয়নে। গত বৃহস্পতি ও শুক্রবার সরেজমিনে আমবাগানগুলো ঘুরে দেখা গেছে, গাছগুলোতে আমের গুটি নেই বললেই চলে। বিশেষ করে হিমসাগর জাতের বড় আমগাছগুলোতে গুটি খুঁজে পাওয়া ছিল দুষ্কর। অন্যান্য জাতের আমের গাছেও খুব একটা গুটি চোখে পড়েনি।
উপজেলার টুপিরহাটের আমবাগানের মালিক একরামুল হক জানান, আমের মুকুল আসার জন্য মৌসুমের শুরুতে একবার বৃষ্টি প্রয়োজন। কিন্তু এবার সে বৃষ্টি হয়নি। বরং মুকুল আসার পর হঠাৎ বৃষ্টিতে তা ঝরে পড়েছে বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যেসব গাছে মুকুল এসেছে, সেসব গাছে ওষুধ প্রয়োগ করেও লাভ হচ্ছে না। আমের মুকুল ঝরে পড়ছে। তাঁর ১২ বিঘা জমির হিমসাগর বাগান থেকে গত বছর ৮০০ মণ আম পেয়েছিলেন। এবার ১০০ মণ আম পাবেন কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।
জামতলী গ্রামের আমচাষি শহিদুল ইসলাম কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ অনুযায়ী সব নিয়ম মেনে গাছের প্রয়োজনীয় সব পরিচর্যা করেছেন। কিন্তু কোনোভাবেই গুটি থাকছে না। শহিদুল ইসলাম বলেন, তাঁর ছয় বিঘা জমিতে হিমসাগর জাতের আমবাগান রয়েছে। গত বছর সেই বাগান থেকে ৪০০ মণ আম সংগ্রহ করেন। ওই বছর রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জের হিমসাগর জাতের আম গড়ে ১২০০ টাকা মণ দরে বিক্রি হলেও তাঁদের আম ৬০০ টাকার বেশি দরে বিক্রি করতে পারেননি। এতে তাঁদের চরম লোকসান গুনতে হয়েছে। এ বছর বাগানে ১০ মণ আম হবে কি না, তা নিয়ে তাঁর সন্দেহ রয়েছে।
দরিয়া গ্রামের আমচাষি আবুল কাসেম প্রথম আলোকে বলেন, তিনি গত বছর ১৮ বিঘার একটি হিমসাগর জাতের আমের বাগান ৩ বছরের জন্য ১৩ লাখ টাকায় ইজারা নিয়েছিলেন। গতবার আম পেয়েছিলেন ৬০০ মণ। প্রতি মণ আম গড়ে ৬০০ টাকা দরে বিক্রি করেছেন। ওই দামে বিক্রি করে তাঁকে ব্যাপক লোকসান গুনতে হয়েছে।
মাহমুদপুর ফলচাষি সমবায় সমিতি লিমিটেডের পরিকল্পনা সম্পাদক মো. মোখলেছুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, প্রতি বিঘায় গড়ে ১৬টি আমগাছ থাকে। প্রতি বিঘায় গড়ে ৫০ মণ আম হয়। নবাবগঞ্জের আমচাষীরা গত বছর প্রতি মণ আমে গড়ে ৫০০ টাকা করে লোকসান গুনেছেন। সে হিসাবে গত বছর নবাবগঞ্জের আমবাগানের মালিক এবং চাষিরা ১৫ কোটি টাকার বেশি লোকসান গুনেছেন। এ বছর বাগানমালিক এবং আমচাষিরা গত বছরের ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার আশায় ছিলেন। কিন্তু মুকুল ও আমের গুটি না থাকায় অবস্থা আরও শোচনীয় হয়েছে। বাগানমালিক ও চাষিরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
নবাবগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু রেজা মো. আসাদুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, খাদ্য উপাদানের অসমতার কারণে কোনো বছর ফলন ভালো হলে পরের বছর ফলন কম হয়। সাধারণত ১৫ বছরের বেশি বয়সের আমগাছগুলোর ক্ষেত্রে এমনটি হয়। তা ছাড়া এবার আবহাওয়াও অনুকূলে ছিল না। মৌসুমের শুরুতে বাগানে খাদ্য উপাদানের পর্যাপ্ত জোগান ও সেচ দেওয়ার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। গাছে থাকা গুটি রক্ষায় কীটনাশক ব্যবহার এবং বাগানের প্রতিটি
গাছ যাতে আলো পায়, সে ব্যবস্থা নিতে পরামর্শ
দেওয়া হয়েছে।

https://www.prothomalo.com/bangladesh/article/1585375

আম চাষিদের জন্য চলতি মৌসুম খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এ সময় অনেক চাষিকে নানা ধরনের সমস্যায় পড়তে হয়। এরমধ্যে আমের গুটি ঝরা অন্যতম। আম গাছে গুটি আসার পর নানা কারণে তা ঝরে যায়। তাই এসব কারণ ও প্রতিকার সম্পর্কে জানতে হবে।

 

প্রাকৃতিক কারণ: আম গাছে প্রতি মুকুলে ১ হাজার থেকে ৬ হাজারটি পর্যন্ত পুরুষ ও স্ত্রী ফুল থাকে। তারমধ্যে প্রাথমিকভাবে প্রতি থোকায় জাতভেদে এক থেকে ৩০টি আমের গুটি ধরতে দেখা যায়। গুটি আসার ২৫-৫০ দিনের মধ্যে প্রতি থোকায় মাত্র এক-দু’টি গুটি থাকে। বাকি গুটি প্রাকৃতিক বা অভ্যন্তরীণ কারণে ঝরে যায়। তবে কোন কোন মুকুলে চার-পাঁচটি আম ধরতে দেখা যায়। এ ক্ষেত্রে আমের আকার ছোট হয়।

 

প্রতিকার: অতিরিক্ত গুটি ঝরে না পড়লে আমের আকার ছোট হয়। ফলে আমের গুণগতমান ও ফলন কমে যায়। প্রতিটি মুকুলে একটি করে গুটি থাকলে সে বছর আমের বাম্পার ফলন হয়। তবে প্রতি মুকুলে আমের সংখ্যা বাড়ানোর জন্য ফুল ফোটার ১০-২০ দিন পর দুইবার দশ লিটার পানিতে ৬ গ্রাম হারে বোরিক অ্যাসিড স্প্রে করলে ভালো হয়। এছাড়া সব ফুল ফোটা অবস্থায় জিবেরেলিক অ্যাসিড প্রতি লিটার পানিতে ৫০ মিলিগ্রাম হারে স্প্রে করলে আমের গুটি ঝরা কমে যায়।

 

মাটিতে রসের অভাব: মাটিতে রসের অভাব হলেও আমের গুটি ঝরে যায়। আমের বৃদ্ধির প্রাথমিক পর্যায়ে অর্থাৎ মার্চ-এপ্রিল মাসে বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় মাটিতে রসের অভাব দেখা দেয়। মাটিতে রসের অভাব হলে আমের বোঁটায় তাড়াতাড়ি নির্মোচন স্তর গঠিত হয়। ফলে আমের গুটি ঝরে যায়।

 

 

প্রতিকার: মাটিতে রসের অভাবে আমের গুটি ঝরে গেলে গাছের চারপাশে নিয়মিত সেচ দিতে হবে। আমের গুটি মটরদানার মতো হলেই প্রথমে একবার গাছের গোড়ায় পানি সেচ দিতে হবে। প্রথম সেচ দেওয়ার পর থেকে বৃষ্টিপাত না হওয়া পর্যন্ত ১৫ দিন পরপর সেচ দিতে হবে। সেচের পাশাপাশি হরমোন প্রয়োগ করেও আমের গুটি ঝরা কমানো যায়। আমের গুটি মটরদানার মতো হলে প্রতি লিটার পানিতে ২০ গ্রাম ইউরিয়া সার অথবা প্রতি ৪.৫ লিটার পানিতে দুই মিলিলিটার হারে প্লানোফিক্স হরমোন পানিতে মিশিয়ে হালকা সূর্যের আলোয় আমের গুটিতে স্প্রে করলে গুটি ঝরা কমে যায়।

 

পোকার আক্রমণে: গুটি আসার পর প্রাথমিক পর্যায়ে আমের গুটিতে হপার পোকার আক্রমণ হতে পারে। এ পোকার পূর্ণবয়স্ক মথ ও কিড়া গুটির রস শোষণ করে খায়, ফলে আমের গুটি শুকিয়ে ঝরে যায়।

 

 

প্রতিকার: গুটি মটরদানার মতো হলেই কীটনাশক ও ছত্রাকনাশক একসাথে পানিতে মিশিয়ে গুটিতে স্প্রে করতে হবে। কীটনাশকের মধ্যে সাইপরমেথ্রিন ১০ ইসি বা ল্যামডা সাই হ্যালাথ্রিন ২.৫ ইসি বা ফেন ভেলারেট ২০ ইসি গ্রুপের যে কোন একটি কীটনাশক প্রতি লিটার পানিতে এক মিলিলিটার হারে এবং ছত্রাকনাশকের মধ্যে মেনকোজেব ৮০ ডচ গ্রুপের যে কোন একটি প্রতি লিটার পানিতে দুই গ্রাম হারে একসাথে মিশিয়ে গুটিতে স্প্রে করতে হবে।

 

ফল ছিদ্রকারী পোকা: আমের গুটি মার্বেল আকৃতির হলে ফল ছিদ্রকারী পোকার আক্রমণ হতে পরে। এ ক্ষেত্রে পূর্ণবয়স্ক পোকা আমের নিচের অংশে খোসার ওপরে ডিম পাড়ে। কয়েক দিনের মধ্যে ডিম ফুটে লার্ভা বের হয় এবং লার্ভা খুব ছোট বিন্দুর মতো ছিদ্র করে আমের ভেতর ঢুকে পড়ে। প্রথমে শাঁস ও পরে আঁটি খাওয়া শুরু করে। পরে আক্রান্ত স্থান কালো হয়ে যায় এবং কোনো কোনো সময় আম ঝরে পড়ে।

 

প্রতিকার: এ সমস্যা দেখা দিলে আমবাগান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। এমনকি গাছের মরা ডালপালা ছেঁটে ফেলতে হবে।

ষড় ঋতুর এই দেশে এখন ঋতুরাজ বসন্ত, শীতের বিদায়ক্ষন। যে দিকে তাকানো যায় গাছে গাছে এখন শুধু মুকুল আর মুকুল। মুকুলের ভারে নুয়ে পড়ার উপক্রম প্রতিটি আমগাছ। মৌমাছিরাও আসতে শুরু করেছে মধু আহরণে। ফাগুনের ছোঁয়ায় পলাশ-শিমুলের বনে লেগেছে ফুলের মেলা। শীতের জড়তা কাটিয়ে কোকিলের সুমধুর কুহুতানে মাতাল করতে আবার ঋতুরাজ বসন্ত এসেছে। রঙিন ফুলের সমারোহে প্রকৃতি যেন সেজেছে বর্ণিল সাজে, তেমনি নতুন সাজে সেজেছে বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার বিভিন্ন এলাকার আম বাগানগুলো।

কৃষিবিদ ও আম চাষীরা আশা করছেন বড় ধরনের কোন প্রাকৃতিক দূর্যোগ না হলে এবং আবহাওয়া অনুকুুলে থাকলে এবার আমের ভাল ফলন হবে। এই সময় আম চাষী এবং বাগান মালিকরা আম গাছের পরিচর্যা শুরু করেছেন। অবশ্য গাছে মুকুল আসার আগেই আম বাগান পরিচর্যা শুরু করেছেন তারা। গাছে গাছে বালাই নাশক স্প্রে করার দৃশ্য চোখে পড়ছে।

উপজেলায় বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, বাগান মালিক ও আমচাষীরা ব্যাস্ত সময় পার করছেন পরিচর্যা নিয়ে। অবশ্য গাছে মুকুল আসার আগে থেকেই তারা গাছের পরিচর্যা করে থাকে, যাতে গাছে মুকুল বা গুটি বাঁধার সময় কোন সমস্যা না হয়।

স্থানীয় আমচাষীরা এ প্রতিবেদককে জানান, প্রতিটি বাড়ির আঙ্গিনায়, হাট-বাজার, রাস্ত-ঘাট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও পুকুর পাড়সহ সব জায়গায় রয়েছে আম গাছ। এ বছর যদি বড় ধরনের কোন প্রাকৃতিক দূর্যোগ না তাহলে আমের বাম্পার ফলনের সম্ভবনা রয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ নাছরুল মিল্লাত এ প্রতিবেদককে জানান, ইতিমধ্যে চাষীদের আম গাছ মুকুলে মুকুেল ছেয়ে গেছে এবং কিছু কিছু গাছে আমের গুটি আসতে শুরু করেছে। গাছে মুকুল আসার পর একবার এবং গুটি হবার পর একবার ছত্রাকনাশক স্প্রে করার পরামর্শ দিয়ে থাকি। তবে আবহাওয়া অনুকুুলে থাকলে এবং বড় ধরনের কোন প্রাকৃতিক দূর্যোগ না হলে আমের ফলন ভাল হবে।

আম বাগানের বাতাসে মুকুলের মৌ মৌ গন্ধ রংপুরের আম বাগানগুলোতে আম চাষিদের মাঝে স্বপ্ন বুনছে। যে দিকে তাকায় গাছে গাছে এখন শুধু দৃশ্যমান সোনালি মুকুলের আভা। মুকুলের ভারে নুয়ে পড়ার উপক্রম প্রতিটি গাছ। মৌমাছিরাও আসতে শুরু করেছে মধু আহরণে। রঙিন বন ফুলের সমারোহে প্রকৃতি যেমন সেজেছে বর্ণিল সাজে তেমনি নতুন সাজে যেন সেজেছে রংপুর জেলার প্রতিটা উপজেলার আম বাগানগুলো। শোভা ছড়াচ্ছে নিজস্ব মহিমায়। মুকুলে মুকুলে ভরে গেছে বাগানগুলো প্রায় ৮০-৯০ শতাংশ গাছেই এসেছে মুকুল। বাগান মালিক, কৃষিবিদ, আমচাষিরা আশা করছেন বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার আমের বাম্পার ফলন হবে।

আম চাষি ও বাগান মালিকরা বাগানে পরিচর্চা নিয়ে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। অবশ্য গাছে মুকুল আশার আগে থেকেই গাছের পরিচর্চা করে আসছেন তারা। যাতে করে গাছে মুকুল বা গুটি বাঁধার সময় কোনো সমস্যার সৃষ্টি না হয়। সারিবদ্ধ গাছে ভরপুর আমের মুকুল যেন শোভা ছড়াচ্ছে তার নিজস্ব মহিমায়। হাড়িভাঙ্গা, ফজলি, রাজভোগ,আমলোপলি, গোপালভোগসহ অন্যান্য জাতের আম চাষের উপযুক্ত হওয়ায় চাষিরা নিজ উদ্যোগে প্রথমে জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে চারা সংগ্রহ করে আমের বাগান সৃজন করলেও বর্তমানে তারা নিজেরাই চারা উৎপাদন করে তাদের ভাগ্য উন্নয়নের জন্য প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সুফলও পেয়েছেন অনেকেই। পদাগঞ্জ এলাকার এনামুল হক  নামে এক আম বাগান মালিক জানান, পুরোপুরিভাবে এখনো সব গাছে মুকুল আসেনি। কয়েক দিনের মধ্যেই সকল গাছেই মুকুল আসবে। আমি এ আম থেকে অনেক টাকা আয় করেছি।

ঐ এলাকার আফজাল মিয়া, জাহাঙ্গীর আলম, হারুন মিয়াসহ অনেকেই আমের বাগান তৈরি করেছেন। তারা জানান, ক্ষতিকারক পোকার আক্রমণ কম থাকায় এবার কাঙ্ক্ষিত ফলনের আশা করছেন আম চাষিরা। সুবিধাভোগীদের সুফল দেখে চাষিরা আম চাষে উৎসাহিত হয়ে নিজ নিজ উদ্যোগে নতুন নতুন বাগান করছেন। ধীরে ধীরে এ উপজেলা জুড়ে সম্পসারিত হচ্ছে আমের বাগান। উৎপাদিত আম মানসম্মত হলে চাহিদাও বাড়বে অনেক।

উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশ এর প্রায় ৮৫% নাগরিক প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কৃষির সাথে জড়িত । কৃষিজাত দ্রব্য যেমন ধান, পাট, আখ, গম, ভুট্রা, শাক-সবজি প্রভৃতির পাশাপাশি নানা রকম ফলদ বৃক্ষের চাষও এ দেশে করা হয়ে থাকে । আবহাওয়া, জমি ও অঞ্চলভেদে বিশেষ বিশেষ ফল যেমন আম, কাঁঠাল, আনারস প্রভৃতি উৎপাদন হারের তারতম্য লক্ষ্য করা যায় । ফলের জগতে মিষ্টি, সুস্বাদু ও রসাল ফল হিসেবে আমের আধিক্য ও জনপ্রিয়তা সবার শীর্ষে । রসনার পরিতৃপ্তি, শরীরের পুষ্টি যোগান, পরিবেশবান্ধব ও জাতীয় অর্থনীতিতে আমের অবদান অনস্বীকার্য । বাংলার মানুষের প্রিয় আম লেংড়া, ফজলি, গোপালভোগ, হিমসাগর, আশ্বিনাসহ আরো বহু প্রজাতির আম রয়েছে । ঐতিহ্যবাহী আম সমূহের পাশাপাশি বাংলার মাটিতে বিপুল সম্ভাবনাময় অপর আরেকটি আমের আত্মপ্রকাশ ঘটেছে এবং ইতিমধ্যে দেশে-বিদেশে সুখ্যাতি অর্জন করেছে যার নাম “হাড়িভাঙ্গা”। রংপুর এর মিঠাপুকুর উপজেলার ১০নং বালুয়া মাসিমপুর ইউনিয়নের আখিরাহাট সংলগ্ন খামারবাড়ীতে এ আমটির চাষ, ফলন ও সম্প্রসারণে পরিণত বয়সেও যে ব্যক্তিটি নিরলস ও অনবদ্য শ্রম দিয়ে যাচ্ছেন তিনি হলেন জনাব আলহাজ্ব মোঃ আব্দুস সালাম সরকার ।

শ্রদ্ধেয় জ্যাঠা সহর উল্লাহ সরকার এর উৎসাহ-উদ্দীপনায় জনাব মোঃ আব্দুস সালাম সরকার ছাত্র জীবনের মতই চাকুরী জীবনেও বৃক্ষরোপণে অত্যন্ত আগ্রহী ও নিবেদিত ছিলেন । সরকারী চাকুরীর সুবাদে ঠাকুরগাঁও জেলায় থাকাকালীন জেলা শহরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া টাঙ্গন নদীর পশ্চিম তীরবর্তী গোবিন্দ নগর হিমাগার সংলগ্ন ঠাকুরগাঁও কেন্দ্রীয় ইক্ষু চাষী সমবায় সমিতি প্রাঙ্গণে তিনি আম, কাঁঠাল ও নারিকেল গাছ এর চারা রোপণ করেন যা স্মৃতিচারণের উপাদান হয়ে আজও শোভাবর্ধন করছে । চাকুরীরত অবস্থায় ১৯৮৪-৮৫ইং সালে লাগানো কয়েক শত ফলদ ও বনজ ঔষধী গাছ বিভিন্ন কারণে বিনষ্ট হলে মাঠে সার্বক্ষণিক তিনি নিজের উপস্থিতির প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন । ইতিমধ্যে চাকুরী জীবনের প্রায় ৩০ বছর কেটে যায় । বৃক্ষ রোপণে অবদান রাখার জন্য সরকার কর্তৃক একাধিকবার পুরস্কার পাওয়ায় স্বেচ্ছায় অবসরে যেয়ে বৃক্ষরোপণে আরো সময় ও মনোনিবেশ করার মনস্থ করেন । এরই ধারাবাহিকতায় চাকুরী পূর্তির ০৮ বছর পূর্বেই ১৯৯৩ সালে অবসর গ্রহণ করে স্বপ্ন পূরণে মাঠে নেমে পড়েন । এমতাবস্থায় “হাড়িভাঙ্গা” নামে পরিচিত একটি আমের প্রশংসা শুনে তিনি কিছু আম সংগ্রহ করেন এবং সত্যিকার অর্থেই আমটি এত সুস্বাদু যে এটি তাকে আন্দোলিত করে । তাৎক্ষণিক আমটির তথ্য সংগ্রহে তিনি বের হয়ে পড়েন এবং মিঠাপুকুর উপজেলার ১নং খোরাগাছ ইউনিয়নের তেকানী গ্রামের মৃত নফল উদ্দিন পাইকার, পিতা মৃতঃ তমির উদ্দিন পাইকার এর বাড়ীতে উপস্থিত হন যিনি মূলতঃ এ আমটি উদ্ভাবন করেন। ব-দ্বীপ সাদৃশ ত্রিকোণাকৃতি তেকানী গ্রামের এক কোণে মেঠো রাস্তা সংলগ্ন পশ্চিমে আধুনিক নকশার সুন্দর একটি মসজিদ এবং এর উত্তর-পশ্চিম কোণে প্রায় ১০০ ফুট দূরত্বে সনামধন্য সেই “হাড়িভাঙ্গা” আমের মূল/মাতৃ গাছটি মাথা উঁচু করে স্বগর্বে দাঁড়িয়ে আছে । গাছটির বেড় প্রায় ১০ ফুট, মূল কান্ডের উচ্চতা ৬ ফুট এবং তদুর্দ্ধ্বে মোটা মোট ডালপালা গাছটির চারপাশে প্রায় ৩৫/৩৬ ফুট পর্যন্ত বিস্তৃত ।

 

ইতিহাস থেকে (আলহাজ্ব মোঃ আব্দুস সালাম সরকার) এর সাথে কথা বলে জানা যায়, বালুয়া মাসিমপুর ইউনিয়নে অবস্থিত জমিদার বাড়ীর বাগানে প্রজাবাৎসল, উদারমনা ও সৌখিন রাজা তাজ বাহাদুর শিং এর আমলে আমদানিকৃত ও রোপিত বিভিন্ন প্রজাতির সুগন্ধিযুক্ত ফুল ও সুস্বাদু ফলের বাগান ছিল যা ১৯৮৮ সালের বন্যা ও ভাঙ্গনে যমুনেশ্বরী নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায় । ১নং খোরাগাছ ইউনিয়নের তেকানী গ্রামের মৃত নফল উদ্দিন পাইকার, পিতা মৃতঃ তমির উদ্দিন পাইকার আমের ব্যবসা করতেন । তিনি জমিদারের বাগানসহ অন্য আম চাষীদের আম পদাগঞ্জসহ বিভিন্ন হাটে বিক্রি করতেন । জমিদার বাগানের আমদানীকৃত আমের মধ্যে একটি আম অত্যন্ত সুস্বাদু, সুমিষ্ট ও দর্শনীয় হওয়ায় তিনি উহার একটি কলম (চারা) নিয়ে এসে নিজ জমিতে রোপন করেন । বরেন্দ্র প্রকৃতির জমি হওয়ায় শুকনো মৌসুমে গাছের গোড়ায় পানি দেয়ার সুবিধার্থে একটি হাড়ি বসিয়ে ফিল্টার পদ্ধতিতে পানি সেচের ব্যবস্থা করেন কিন্তু অল্পদিনের ব্যবধানে কে বা কারা উক্ত হাড়িটি ভেঙ্গে ফেলেন । কালের বিবর্তনে বৃক্ষটি ফলবান ‍বৃক্ষে পরিণত হয় । মৃত নফল উদ্দিনের পাড়া-প্রতিবেশী, বন্ধু-বান্ধব ও ভোক্তাবৃন্দ উক্ত গাছের আম খাওয়ার পর এত সুস্বাদু আমের উৎস সম্বন্ধে তাকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, কে বা কারা যে গাছটির হাড়ি ভেঙ্গে দিয়েছিল এটি সেই গাছেরই আম । গাছকে সনাক্তকরণের লক্ষ্যে নফল উদ্দিন কর্তৃক উচ্চারিত বা মুখ নিঃসৃত হাড়িভাঙ্গা কথার সূত্র ধরেই পরবর্তীতে এটি “হাড়িভাঙ্গা” নামে পরিচিত লাভ করে ।

০৭ জুলাই, ২০১০ সালে হাড়িভাঙ্গা আমের বাগান পরিদর্শন শেষে রংপুরের সাবেক জেলা প্রশাসক জনাব বি.এম. এনামুল হক মহোদয়ের ভাষায়-“বাংলাদেশে বিভিন্ন প্রজাতির আমের মধ্যে নতুন সংস্করণ “হাড়িভাঙ্গা” । নামের দিক থেকে তেমন সামঞ্জস্যপূর্ণ না হলেও স্বাদে-গন্ধে আমটি অনন্য বৈশিষ্ট্যমন্ডিত” ।

হাড়িভাঙ্গা আম গাছের চেহারা লক্ষ্যণীয় ও আকর্ষণীয় । ডগা বা ছায়ন পূষ্ট ও বলিষ্ঠ । উহার ছায়ন দ্বারা গ্রাফটিং করলে বা ডালে জোড়কলম লাগালের গাছ অতি দ্রুত বৃদ্ধি পায় । অল্প দিনের মধ্যে ডালপালা বিস্তৃত হয়ে গাছের পরিধি লক্ষ্যণীয়ভাবে বেড়ে যায় । চারা রোপনের পরবর্তী বছরেই মুকুল আসে, তবে প্রথম বছরে মুকুল ভেঙ্গে দিলে গাছের ডগার সংখ্যা বৃদ্ধি পায় ও বলিষ্ঠ হয়ে ওঠে । হাড়িভাঙ্গা আম গাছের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো গাছের ডালপালা উর্ধ্বমূখী বা আকাশচুম্বী হওয়ার চেয়ে পাশে বেশী বিস্তৃত হতে দেখা যায় । ফলে উচ্চতা কম হওয়ায় ঝড়-বাতাসে গাছ উপড়ে পড়েনা এবং আমও কম ঝড়ে পড়ে । আমটির উপরিভাগ বেশী মোটা ও চওড়া, নিচের অংশ অপেক্ষাকৃত চিকন । আমটি দেখতে সুঠাম ও মাংসালো, শ্বাস গোলাকার ও একটু লম্বা । আমের তুলনায় শ্বাস অনেক ছোট, ভিতরে আঁশ নেই । আকারের তুলনায় অন্য আমের চেয়ে ওজনে বেশী, গড়ে ৩টি আমে ১ কেজি হয় । কোন কোন ক্ষেত্রে একটি আম ৫০০/৭০০ গ্রাম হয়ে থাকে । পুষ্ট আম বেশী দিন অটুট থাকে । চামড়া কুচকে যায় তবুও পঁচে না । ছোট থেকে পাকা পর্যন্ত একেক স্তরে একেক স্বাদ পাওয়া যায় । তবে আমটি খুব বেশী না পাকানোই ভাল ।

আম জাতীয় স্বাস্থ্য বিনির্মাণে অবদান রাখতে সক্ষম । তদুপরি আম বাগান পরিবেশ বান্ধবও বটে । সম্ভাবনাময় হাড়িভাঙ্গা আম চাষ ও আম শিল্পকে আরো আধুনিক প্রযুক্তিসমৃদ্ধ ব্যবস্থাপনা সময়ের দাবী রাখে । প্রচারেই প্রসার-এ দৃষ্টিকোণ থেকে জাতীয় বৃহত্তর স্বার্থে হাড়িভাঙ্গা আমকে আরো জনপ্রিয়, গতিশীল এবং আন্তর্জাতিক বাজারে পরিচিত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন মিডিয়ার সক্রিয় ভূমিকা অতীব প্রয়োজন ও গুরুত্বপূর্ণ ।

আমে ফরমালিন আছে বলে গত ২ বছর ধরে আম শিল্প ধ্বংস করা হচ্ছে।বাংলাদেশ আম উৎপাদনে বিশ্বে ৭ম।এবারো আম চাষিরা আতংকে আছেন। কারন ফরমালীন এর দোহাই দিয়ে সরকার নির্দিষ্ট সময়ের আগে আম পাড়তে দেয়না। যার ফলে আম পাকলেও কিছু করার থাকেনা। অথচ অধিকাংশ ফরমালিন হচ্ছে ন্যাচারাল। ফল ও মাছে ফরমালডিহাইড প্রাকৃতিকভাবে উৎপন্ন হয়।
১) হংকং’র সেন্টার ফর ফুড সেইফটি’র দেয়া তথ্য মতে: প্রতি কেজি আপেলে ৬.৩ থেকে ২২.৩ মিলিগ্রাম, প্রতি কেজি কলায় ১৬.৩ মিলিগ্রাম, আঙ্গুরে ২২.৪ মিলিগ্রাম, আলুতে ১৯.৫ মিলিগ্রাম, তরমুজে ৯.২ মিলিগ্রাম, গরুর গোশতে ৬.৪ মিলিগ্রাম, মুরগীর গোশতে ২.৫ থেকে ৫.৭ মিলিগ্রাম, গরুর দুধে ৩.৩ মিলিগ্রাম, চিংড়ি মাছে ১-২.৪ মিলিগ্রাম ন্যাচারাল ফরমালিন থাকে।
২) বাংলাদেশে ফরমালিন মাপতে যে মেশিন ব্যবহার করা হচ্ছে তা নিয়ে রয়েছে সন্দেহ, ঐ মেশিন কি ফরমালিন মাত্রা শো করে? না, রাসায়নিক উপাদানের মাত্রা শো করে? কারণ গাছে কিটনাশক ব্যবহার করা স্বাভাবিক। কিন্তু কিটনাশকের উপস্থিতি ধরা পরলেও সেটা ফরমালিন বলে চালিয়ে দেয়া হচ্ছে। ফল ও মাছে ফরমালিন পরীক্ষায় বিভিন্ন সংস্থা যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি ফরমালডিহাইড মিটার (জেড-৩০০) ব্যবহার করেছে। কিন্তু এ যন্ত্রটি বাতাসে ফরমালডিহাইডের উপস্থিতি পরীক্ষার জন্য কার্যকর, ফলের জন্য নয়।
৩।) বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) হিসাবে, প্রাকৃতিকভাবে বিভিন্ন ফল ও সবজিতে গড়ে প্রতি কেজিতে ৩ থেকে ৬০ মিলিগ্রাম ফরমালডিহাইড থাকে। আর সামুদ্রিক মাছেও গড়ে প্রতি কেজিতে ১ থেকে ১৪০ মিলিগ্রাম ফরমালডিহাইডের উপস্থিতি রয়েছে।
৪) বিএআরসির ওই গবেষণায় বলা হয়েছে, প্রকৃতপক্ষে ফলে ইথোফেন বা ইথরেল ব্যবহার করা হচ্ছে। ইথোফেন একটি ফলের পক্বতা ত্বরান্বিত করার একটি বৈধ রাসায়নিক। ফলের পরিপক্বতা ও জাত অনুযায়ী এটি প্রয়োগ করা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি পদ্ধতি। ল্যাবটেরিতে পরীক্ষা চালিয়ে দেখা গেছে, ইথোফেন প্রয়োগের এক ঘণ্টা পর তা ফলের দেহ থেকে দ্রুত বের হয়ে যায়। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তা নির্ধারিত মাত্রা ২ পিপিএমে চলে আসে।
৫) বিশ্বের অনেক দেশে মানবদেহের জন্য ফরমালডিহাইডের সহনীয় মাত্রাও নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। যেমন ইতালির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ১৯৮৫ সালে খাদ্য হিসেবে মাছ ও চিংড়ির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ মাত্রা প্রতি কেজিতে যথাক্রমে ৬০ ও ১০ মাইক্রোগ্রাম নির্ধারণ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের পরিবেশ সুরক্ষা কর্তৃপক্ষের মতে, একজন ব্যক্তি প্রতিদিন প্রতি গ্রাম দৈহিক ওজনের জন্য সর্বোচ্চ শূন্য দশমিক ২ মাইক্রোগ্রাম ফরমালিন গ্রহণ করতে পারে।
৬) ফরমালিন হলো ফরমালডিহাইডের দ্রবীভূত অবস্থা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডাব্লিউএইচও) ও যুক্তরাষ্ট্রের ‘এজেন্সি ফর টক্সিক সাবস্টান্স অ্যান্ড ডিজিজ রেজিস্ট্রির (এটিএসডিআর)’ তথ্যানুযায়ী, যেকোনো ফলে প্রাকৃতিকভাবে ফরমালডিহাইড উৎপন্ন হতে পারে। হংকংয়ের ‘ফুড সেফটি অথরিটির’ ওয়েবসাইটে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও আরো কয়েকটি সংস্থার তথ্য সংকলন করে কোনো ফল ও সবজিতে কত মাত্রার ফরমালডিহাইড প্রাকৃতিকভাবে উৎপন্ন হতে পারে তা বলা আছে। ইউরোপিয়ান ফুড সেফটি অথরিটির (ইএফএসএ) মতে, দিনে একজন মানুষের শরীরে ১০০ পিপিএম পর্যন্ত ফরমালডিহাইড সহনীয়।
দেখা যাচ্ছে প্রাকৃতিকভাবেই মানুষ ফরমালীণ খাচ্ছে যা তার বডিতে সহনীয় ও হচ্ছে। তাহলে কিসের ভিত্তিতে বাংলাদেশের আম শিল্পকে ধ্বংস করার চক্রান্ত করা হচ্ছে? 
ভারতীয় আমকে বাংলাদেশে অবাধ প্রবেশ করানোই কি এ চক্রান্তের মুল লক্ষ্য নয় কি? 

চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিভিন্ন আমবাগানে ব্যবহৃত হচ্ছে ‘কালটার’ নামে একধরনের কিটনাশক । চোরাই পথে এই রাসায়নিকটি পাচার হয়ে আমাদের দেশে আসছে । এটা ব্যবহারে প্রথম দু-তিন বছর গাছে আমের ভালো ফলন হচ্ছে। কিন্তু এর পরে আমগাছ রোগাক্রান্ত হয়ে পড়ছে, ফলের আকার ছোট হয়ে ওজনও কমে যাচ্ছে। জাতীয় বৃক্ষ আমগাছের ভবিষ্যৎ নিয়ে এমন আশঙ্কা জানিয়ে গত ৩১ মার্চ চাঁপাইনবাবগঞ্জের আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা হামিম রাজা ও শরফ উদ্দিন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কাছে এই অভিমত তুলে ধরেছেন।

তাঁরা বলছেন, কালটার ব্যবহারের কারণে গত মৌসুমে অনেক নামকরা বাগানের আমগাছে কোনো মুকুল আসেনি, যা আমচাষি ও বিজ্ঞানীদের ভাবিয়ে তুলেছে। এর ব্যবহার অব্যাহত থাকলে এই এলাকার আমবাগান রক্ষা করা কঠিন হয়ে যাবে। এই ক্ষতি পোষাতে গাছের দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যার প্রয়োজন বলে তাঁরা মনে করছেন। কালটার বা প্যাকলোবিউট্রাজল উদ্ভিদের একধরনের বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রক রাসায়নিক। এটি তরল বা পাউডার উভয় অবস্থাতেই পাওয়া যায়। কৃষি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে করা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তদন্ত প্রতিবেদনে এই রাসায়নিক প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে অবৈধভাবে কেউ কেউ এনে আমগাছে প্রয়োগ করছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হামিদুর রহমান বলেন, ১০ বছরের কম বয়সী আমগাছে কালটার ব্যবহার করলে ওই গাছ দু-তিন বছর পর ধীরে ধীরে মারা যাবে। আর ১০ বছরের বেশি বয়সী গাছেও যদি অপরিমিত পরিমাণে ব্যবহার করা হয়, তাহলেও গাছের ক্ষতি হবে। আমের ফলন পর্যায়ক্রমে কমে আসবে। তাই এটি যাতে কৃষকেরা ব্যবহার না করেন, সে জন্য আম চাষ হয় এমন জেলাগুলোতে কর্মশালা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে একটি প্রচারপত্র তৈরি করা হয়েছে।
এর আগে এ বছরের শুরুর দিকে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় কালটার ব্যবহারের ক্ষতির বিষয়টি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রতিবেদন দেয়। পরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে শিল্প মন্ত্রণালয় ও কৃষি মন্ত্রণালয়কে বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়।

গত ৩ মে দেশীয় আমের বাজারের স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য ভেজালবিরোধী অভিযান পরিচালনা প্রসঙ্গে শিল্প মন্ত্রণালয় বিএসটিআইকে একটি চিঠি দেয়। সেখানেও কালটার ব্যবহারে আমগাছ ও ফলনের ক্ষতির বিষয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়। এতে বলা হয়, এটি ব্যবহারে স্বল্প মেয়াদে ফলের উৎপাদন বাড়লেও দীর্ঘ মেয়াদে কমে যায়। গাছের পাতা ধীরে ধীরে শুকিয়ে ঝরে যায়, ডাল মরে যায়। চূড়ান্তভাবে গাছ মারা যায়।

গত মাসের শুরুতে আমের রাজধানী খ্যাত চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার বেশ কিছু আমবাগান ঘুরে কালটার ব্যবহারের বিষয়টি দেখা গেছে। শিবগঞ্জের সৎরাজিপুর ইউনিয়নের প্রধান সড়কের ভাঙারির দোকানে স্তূপাকারে কালটারের অনেক বোতলের হদিস পাওয়া যায়। বেশ কয়েকটি বাগানে গাছের চারপাশে পরিখার মতো নালা দেখা যায়। পরে বেশ কয়েকজন চাষি বলেন, এই নালার ভেতর কালটার দেওয়া হয়। অনেক আমবাগানে কালটার ব্যবহার করা হচ্ছে। মূলত কয়েক বছরের জন্য আমবাগান ইজারা নেন এমন চাষিরা দ্রুত লাভের আশায় কালটার ব্যবহার করে থাকেন। এতে প্রথম দু-তিন বছর খুব ভালো ফলন হয়। দ্রুত মুকুল ও গুটি ধরে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরের আমচাষি ইসমাইল খান শামিম জানালেন, তিনি দুই বছর আগে এক ব্যবসায়ীকে তাঁর বাগান ইজারা দিয়েছিলেন। ওই ব্যবসায়ী গোপনে কালটার ব্যবহার করে প্রচুল আমের ফলন পান। কিন্তু গত বছর তিনি খেয়াল করেন যে কয়েকটি গাছ ধীরে ধীরে মারা যাচ্ছে। তাই ইজারা বাতিল করে দিয়ে তিনি নিজেই এখন আমবাগানের দায়িত্ব নিয়েছেন। গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দেওয়া প্রতিবেদনে বলেছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার ৫০ শতাংশ বাগানে, গোমস্তাপুরে ৩০ শতাংশ, সদরে ২০ থেকে ২৫ শতাংশ এবং নাচোলে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ আমগাছে এই কালটার ব্যবহার করা হচ্ছে।

তবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তদন্তে শিবগঞ্জ উপজেলার কৃষক আবুল কালাম বলেছেন, এলাকার ৮০ শতাংশ বাগানে রাতে গোপনে কালটার ব্যবহার করা হচ্ছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি ‘চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার আমবাগানে কালটার নামক রাসায়নিকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার এবং আমবাগান ধ্বংসের আশঙ্কা’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন কৃষি মন্ত্রণালয়ে দেয়। তাতে বলা হয়, বহুবার কীটনাশক ও বালাইনাশক ছিটানোর কারণে আমবাগানে প্রতিবছর নতুন নতুন সমস্যা দেখা দিচ্ছে। এখন আমবাগানে অজানা রাসায়নিকের ব্যবহার দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দেখা দিয়েছে। কালটার তার একটি।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, কালটার ব্যবহারে প্রথমত গাছের নতুন শাখা-প্রশাখা খাটো হয়ে যায় এবং পাতার আকার ছোট হয়। গাছের আকার-আকৃতি রোগাক্রান্ত অথবা প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি রয়েছে এমন চেহারা হয়। গাছের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। বিভিন্ন রোগ এবং পোকার আক্রমণ দেখা দেয়। আগাম ফুল আসার প্রবণতা দেখা যায়। ফলের আকৃতি ছোট হয়ে আসে, ওজন কমে যায়।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার বেশ কয়েকজন কীটনাশক ও রাসায়নিক পণ্যের ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সুইজারল্যান্ডভিত্তিক কোম্পানি সিনজেনটার তৈরি একেকটি বোতল ৮ থেকে ১০ হাজার টাকায় স্থানীয় বাজারগুলোতে বিক্রি হচ্ছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ বলেন, ‘কালটার চোরাচালান বন্ধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ইতিমধ্যে চিঠি দিয়ে অনুরোধ জানানো হয়েছে । কৃষকেরা যাতে এটি ব্যবহার না করেন, সে জন্য প্রতিটি আম চাষের জেলায় তাঁদের কাছে প্রচার প্রচারণা চলানো হচ্ছে ।

বর্তমানে দেশের অনেক জেলাতেই বাণিজ্যিকভাবে আমের চাষাবাদ শুরু হয়েছে। তবে সকল জেলাতে বাগান ব্যবস্থাপনা একই রকম নয়। রাজশাহী এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলাই আম বাগান বেশ ভালো ভাবেই নিয়মকানুন মেনে ব্যবস্থাপনা করা হয়। আমের ফলন আবহাওয়ার উপর অনেকাংশে নির্ভরশীল। চলতি মৌসুমে শীতের প্রকোপ ততটা বেশি নয়। ফলে আমের মুকুল বের হবে কিছুদিন আগেই। কোন কোন জেলাতে কুয়াশা পড়তে দেখা যাচ্ছে।

ইতিমধ্যেই আমচাষীরা ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন বালাইনাশক স্প্রে গতানুগতিক নিয়মরক্ষায়। খোজ খবর নিয়ে জানা গেছে, কোন কোন চাষী চলতি মৌসুমে ভালো ফলন পাওয়ার জন্য ইতিমধেই ২/৩ বার স্প্রে  করেছেন তার আমবাগানে। এইভাবে স্প্রে  চলতে থাকলে আম সংগ্রহ পর্যন্ত সংখ্যা দাড়াবে ১৫-৬২ বার জাতভেদে। তবে বেশিরভাগ চাষী এখনও স্প্রে  করা শুরু করেননি। সিদ্ধান্ত নিয়েছেন শুরু করবেন অতি শীঘ্রই। স্প্রে খরচ বেশি হওয়ায় এবং আমের দাম কম হওয়ার কারণে বিগত বছরগুলোতে আমচাষীরা ব্যাপকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। লাভতো দুরের কথা আমের উৎপাদন খরচ উঠাতে হিমসিম খেয়েছেন আমচাষীরা। কারণ অনুসন্ধানে দেখো গেছে, আমচাষীদের সবচেয়ে বেশি খরচ হয় বালাইনাশক স্প্রে  করার পেছনে। তবে কোন কোন আমচাষী বেশ কিছু অর্থের অপচয় করেন চোরাই পথে আসা হরমোন ব্যবহার করে। দেশের সকল মানুষই চাই বিষমুক্ত ও নিরাপদ ফল খেতে। বিজ্ঞানিরাও আশা করেন সবচেয়ে কম বালাইনাশক ব্যবহার করে চাষীরা যেন তাদের ফল উৎপাদন করেন। কিন্তু কেন এত স্প্রে করা হচ্ছে আমবাগানে? প্রকৃতপক্ষে এতগুলো স্প্রে  প্রয়োজন কিনা!

এমতাবস্থায় আম বাগানে স্প্রে করার কারণ অবশ্যই জানা দরকার আমচাষীদের। আর এখনই উপযুক্ত সময় সেটি জানার জন্য। আম গবেষকদের মতে, সঠিক সময়ে, নির্দেশিত মাত্রায় ও সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করে ক্ষেত্র বিশেষে ৩-৫বার স্প্রে  যথেষ্ঠ। তবে ফ্রুট ব্যাগিং প্রযুক্তি ব্যবহার করা হলে মাত্র ৩ বার স্প্রে  যথেষ্ঠ সবচেয়ে ভালমানের রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদনের জন্য। প্রথম স্প্রে  করতে হবে মুকুল বা পু®পমঞ্জুরী বের হওয়ার আনুমানিক ১৫-২০ দিন পূর্বে সাইপারমেথ্রিন/ কার্বারিল / ল্যামডা সাইহ্যালাথ্রিন/ ইমিডাক্লোরোপ্রিড গ্র“পের কীটনাশক এবং সালফার জাতীয় ছত্রাকনাশক দিয়ে ভালভাবে সমস্ত গাছ (বাকলসহ) ধুয়ে দিতে হবে। সেক্ষেত্রে গাছে বসবাসকারী হপার বা ফুদকি পোকাসহ অন্যান্য পোকার আক্রমন হতে রক্ষা পাওয়া যাবে। আমের মুকুল যখন ১০-১৫ সেন্টিমিটার হবে কিন্তু ফুল ফুটবে না তখন দ্বিতীয়বার একটি কীটনাশক ও মেনকোজেব জাতীয় ছত্রাকনাশক একত্রে মিশিয়ে স্প্রে  করতে হবে ফলে পু®পমঞ্জুরীর বৃদ্ধি ও ফুটন্ত ফুলকে এ্যানথ্যাকনোজ রোগের আক্রমণ রক্ষা করা সম্ভব হবে এবং আমের গুটি মটরদানার সমান হলে তখন তৃতীয়বার কীটনাশকের সাথে মেনকোজেব অথবা কার্বেনডাজিম গ্র“পের ছত্রাকনাশক নির্দেশিত মাত্রায় স্প্রে করতে হবে। কারণ আমের গুটি বাধাঁর পর এ্যানথ্রাকনোজ রোগ দেখা যায় ফলে গুটির উপর কালো কালো দাগ হয় ও পরে গুটি ঝরে পড়ে। আমের মুকুলের ফুল ফোটার পর কোন অবস্থাতেই স্প্রে  করা যাবেনা। এর পরই ফ্রুট ব্যাগিং প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে।

ফ্রুট ব্যাগিং প্রযুক্তি গ্রহন করলে আম সংগ্রহ করা পর্যন্ত কোন ধরনের স্প্রে  করার প্রয়োজন নেই। তবে কেউ যদি এই প্রযুক্তিটি ব্যহার না করেন তাহলে ফলছিদ্র কারী পোকা ও ফলের মাছি পোকা দমনে আরও দুইটি স্প্রে  করা প্রয়োজন। এরপরও এই পোকার আক্রমণজনিত কারণে আমের ক্ষতি হবে ৫-১০ ভাগ। আমাদের দেশের যেসব এলাকায় বেশি বৃষ্টিপাত হয় এবং নাবী জাতের ক্ষেতে মাছি পোকা সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে থাকে। বর্তমানে প্রচলিত বাগান ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এই পোকাটিকে কোন ভাবেই সম্পূর্নভাবে দমন করা সম্ভব নয়। পাহাড়িয়া এলাকাসহ এসব ক্ষেত্রে ফ্রুট ব্যাগিং প্রযুক্তি দ্বারা এই পোকাটিকে শতভাগ দমন করা সম্ভব। এছাড়াও সম্ভব হলে আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের (আম গবেষণা কেন্দ্র) বিজ্ঞানিদের সাথে/ কৃষি কর্মকর্তাদের সাথে পরামর্শ করে আমবাগানে স্প্রে  করা দরকার। একই কীটনাশক বা ছত্রাকনাশক বার বার স্প্রে  না করে মাঝে মাঝে গ্র“প পরিবর্তন করা উচিত কারন একই ঔষধ বার বার স্প্রে  করলে পোকা বা রোগের জীবানুর প্রতিরোধ ক্ষমতা বেড়ে যেতে পারে। প্রখর রৌদ্রে স্প্রে  করা মোটেই উচিত নয়। আমবাগানে স্প্রে  করার সময় প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবশ্যই মেনে চলা উচিৎ। গাছ থেকে ফল সংগ্রহের ১৫-২০ দিন মধ্যে গাছে কোন বালাইনাশক স্প্রে  করা উচিত নয়। উল্লেখিত বিষয়সমুহের উপর নজর দিলে খুব সহজে এবং কম খরচে আমবাগানের রোগ-পোকামাকড় দমন করা সম্ভব হবে। আমরা আশাকরি কৃষি উৎপাদনের সাথে সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতায় দেশে উৎপাদিত হবে গুনগত মানসম্পন্ন ফল-ফসল যা নিশ্চিন্তে ভোগ করবেন দেশের সাধারণ জনগন।

রাজশাহীর পুঠিয়ায় রোববার (১৭ ফেব্রুয়ারি) ভোররাতে ৩টি ইউপি এলাকাতে রেকর্ড পরিমাণ শিলাবৃষ্টি হয়েছে। এতে ঘর-বাড়িসহ বিভিন্ন ফল ও ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতি পরিমাণ কত হয়েছে তা এখনো পর্যন্ত জানা যায়নি।
 
রোববার উপজেলার বানেশ্বর, ভালুকগাছি ও জিউপাড়া ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে দমকা হাওয়ার সঙ্গে ব্যাপক শিলাবৃষ্টি শুরু হয়। সরেজমিনে দেখা গেছে, শিলার আঘাতে ৩টি ইউনিয়নে শতশত বাড়ি-ঘর, আম, কলা, লিচু, ভুট্টা, পেঁয়াজ, রসুন ও আলুসহ বিভিন্ন চৈতালী ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। শিলার আঘাতে কয়েটি টিনসেড স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভোররাত থেকে দুপুর পর্যন্ত রাস্তা-ঘাটসহ বিভিন্ন বাড়ির আঙ্গিনায় শিলার স্তূপ জমা হয়। বিভিন্ন এলাকা লোকজন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় শিলার স্তূপ ও ক্ষয়ক্ষতি দেখতে ভিড় করে।

রাজশাহী জেলা পরিষদের সদস্য আবুল ফজল বলেন, ভোর ৫টা থেকে ব্যাপক শিলা বৃষ্টি শুরু হয়। প্রায় আধা ঘন্টায় শিলার আঘাতে ঘর-বাড়িসহ বিভিন্ন ফসল তছনছ হয়ে গেছে। ক্ষতির বিষয়টি পুঠিয়া-দুর্গাপুর সাংসদ, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন দফতরে জানানো হয়েছে।

মধুখালি এলাকার কৃষক তাহের আলী বলেন, শিলার আঘাতে আমার ২টি টিনসেড ঘরসহ ২ বিঘা পেঁয়াজ, এক বিঘা রসুন ক্ষেত শেষ হয়ে গেছে। এতে আমার প্রায় ৩ লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে।

আম চাষি আবেদ আলী বলেন, ৫৫ বছর বয়সে এমন শিলাবৃষ্টি কখনো দেখিনি। এ বছর আম বাগান গুলোতে আগাম মুকুল দেখা দিয়েছিল। এবার আমরা আমের বাম্পার ফলনের আশা করেছিলাম। কিন্তু শিলাবৃষ্টিতে আমের প্রায় সব ফুল ঝরে গেছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সালাউদ্দীন আল ওয়াদুদ বলেন, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখন জানানো সম্ভব নয়। সকাল থেকে আমাদের লোকজন মাঠে কাজ করছে। আশা করা যাচ্ছে আগামীকালের মধ্যে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যাবে।

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা একেএম মন্জুরে মাওলা বলেন, বর্তমান সাংসদসহ উপজেলার বিভিন্ন কর্মকর্তাগণ শিলা বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় রয়েছি। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয় করতে কিছুটা সময় লাগবে।

সারাদেশেই আম গাছে মুকুল এসেছে। তবে বিভিন্ন কারণে সেসব মুকুল ঝরেও যায়। এতে ক্ষতি হয় আম চাষিদের। কারণ আমের মৌসুমে বিভিন্ন সমস্যা দেখা যায়। রোগ ও পোকা-মাকড়ের আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত হয় আম বাগান। সঠিক সময়ে রোগ ও পোকা-মাকড় দমনে ব্যর্থ হলে ফলন মারাত্মকভাবে কমে যেতে পারে। তাই আমের মুকুল ঝরা রোধে কিছু করণীয় রয়েছে।

আসুন জেনে নেই উপায়গুলো-

ফুল আসার আগে:

আম গাছে ফুল আসার ১৫ দিন আগে পর্যাপ্ত সেচ দিতে হবে। টিএসপি ও এমপি সার ২০০-২৫০ গ্রাম করে দিতে হবে দুই-তিন বছর বয়সের গাছে। চার-পাঁচ বছর বয়সের গাছে ৩০০-৩৫০ গ্রাম। ছয়-সাত বছর বয়সের গাছে ৪০০-৫০০ গ্রাম। আট-নয় বছর বয়সের গাছে ৫০০-৮০০ গ্রাম। ১০ বছরের ঊর্ধ্বে ৮৫০ থেকে ১২০০ গ্রাম প্রতি গাছে।

ফুল ফোটার সময়:

মেঘলা ও কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়া থাকলে পুষ্পমঞ্জরিতে পাউডারি মিলডিউ ও অ্যানত্রাকনোজ রোগের আক্রমণ হতে পারে। এতে গাছের পাতা, কচি ডগা, ও কচি আমে কালো দাগ পড়ে। প্রতিকার হচ্ছে- মুকুল আসার ১০ দিনের মধ্যে একবার প্রতি লিটার পানির সঙ্গে ১ মিলিলিটার রিপকর্ড বা সিমবুস ১০ ইসি এবং ০.৫ মিলিলিটার টিল্ট ২৫০ ইসি একসাথে মিশিয়ে আমের মুকুল, পাতা, কাণ্ডে স্প্রে করতে হবে।

প্রাকৃতিক পরাগায়ণ:

এর জন্য আম বাগানে মৌমাছি পালন, চারদিকে ফুলের গাছ রোপণ এবং বাগানে বিভিন্ন জাতের আম গাছ লাগানো প্রয়োজন। আম গাছে মুকুল আসার সময় হপার পোকা কচি অংশের রস চুষে খায়। ফলে মুকুল শুকিয়ে বিবর্ণ হয়ে ঝরে পড়ে। এছাড়া রস চোষার সময় পোকা আঠালো পদার্থ নিঃসৃত করে। এতে ফুলে পরাগরেণু আটকে পরাগায়ণে বিঘ্ন ঘটে। এ পোকা দমনের জন্য রিপকর্ড বা সিমবুস ও টিল্ট আগের নিয়মে স্প্রে করতে হবে।

পূর্ণাঙ্গ ফুল পেতে:

ত্রুটিপূর্ণ পূর্ণাঙ্গ ফুল এবং বর্ধিষ্ণু ভ্রুণের পুষ্টিহীনতা দূর করার জন্য মুকুল ধরার ১৫ দিন আগে উপর্যুক্ত নিয়মে সার প্রয়োগ করতে হবে। একই ডালে অনেক ফল ধরলে পুষ্টির জন্য ফলগুলো প্রতিযোগিতা করে বলে ফল ঝরে যায়। অতিরিক্ত ফল পাতলা করে দিতে হবে। হরমোন ও রাসায়নিক পদার্থ স্প্রে করলেও আমের মুকুল ও কচি আম ঝরে পড়া থেকে রক্ষা করা যায়।

গুটি বাঁধার পর:

আমের মুকুল গুটি বাঁধার দুই সপ্তাহ পর ২০ পিপিএম মাত্রায় ২৪-ডি স্প্রে করলে ভালো ফল পাওয়া যায়। আমের গুটি মসুর দানার মত বড় হলে ১০ লিটার পানিতে দুই-তিন মিলিলিটার প্লানোফিক্স স্প্রে করলে ফল ঝরা বন্ধ হয়।

 

পোকা নিয়ন্ত্রণ

শোষক পোকা

কজাল অরগানিজম – আমরিটোডাস অ্যাটকিনসোনি, ইডিয়াসকোপাস ক্লাইপিয়ালিস, ইডিয়াসকোপাস নিভিওসপারসাস

লক্ষণ

সব থেকে ক্ষতিকারক এই পোকাটিকে দেখতে আকারে ছোট, ডানাগুলি শক্ত ও মাথাটি বেশ বড় এবং ধূসর রঙের হয়। গাছে মুকুল আসার পর আক্রমণ শুরু হয়, তবে বছরের অন্য সময়েও আক্রমণ হতে পারে। সাধারণত এরা জানুয়ারি–মার্চের মধ্য ডিম পাড়ে, উত্তর ভারতে বছরে এরা দু’বার ডিম পাড়ে ফেব্রুয়ারি–এপ্রিল এবং জুন–আগস্টের মধ্যে। সাধারণত ফুল, কাণ্ড বা মুকুলের মধ্যে এরা ডিম পাড়ে, ফের ঝাঁকে ঝাঁকে অসংখ্য পূর্ণাঙ্গ পোকা মুকুল, কচি পাতা ও আমের গুটি আক্রমণ করে রস চুষে খায় ফলে মুকুল হলদে হয়ে শুকিয়ে ঝরে যায়। এই পোকার শরীর থেকে এক ধরনের মিষ্টি রস বের হয়। যা থেকে পরবর্তীতে ফুল ও পাতায় এক প্রকার ছত্রাকের জন্ম দেয়, এর ফলে পাতা ও ফুল কালো হয়ে যায়।

প্রতিকার

প্রথমত, বাগান পরিষ্কার রাখতে হবে এবং অতিরিক্ত গাছ বা জল জমে যেন না থাকে। কারণ বেশি আর্দ্রতা এই পোকার বৃদ্ধির পক্ষে অনুকূল। শীতকালে গাছের গুড়িতে পোকাগুলি থাকে। এ জন্য নিম্নের যে কোনও রাসায়নিক ওষুধ দিয়ে গুড়ি স্প্রে করে ধুয়ে দিতে হবে। এ ছাড়াও কুঁড়ি বের হওয়ার আগে, তার পর মুকুল বেরোনোর সময় ২–৩ বার, ১৫–২০ দিন অন্তর যে কোনও একটি রাসায়নিক ওষুধ স্প্রে করতে হবে। যেমন এত্তোসালফান ৩৫ ইসি ১.৫ মিলি বা মিথাইল ডেমিটন ২৫ ইসি ২.০ মিলি বা কার্বারিল ৫০% ২.৫ গ্রাম বা মনোক্রটোমফস ৩৬ ইসি ১.৫ মিলি বা ইমিডাক্লোরোপিড ১৭.৮% এসএল ১ মিলি (৫ লিটার জলে) বা সায়োমিথাগ্রাম ২৫% ডব্লু জি ১ গ্রাম বা এবামেফটিন ১.৯% ইসি ২ মিলি প্রতি লিটার জলে গুলে স্প্রে করতে হবে।

মুকুলে গুটি সৃষ্টিকারী পোকা

কজাল অরগানিজম - অ্যাপসিলা সিসটেল্লাটা

লক্ষণ

এই পোকার আক্রমণে গাছের ডগায় মুকুলের পরিবর্তে ছোট ছোট সবুজ রঙের পদ্ম কোরকের মতো গুটি তৈরি করে। গুটির ভিতরে ছোট ছোট প্রায় গোলাকার হালকা ঘি রংয়ের কীড়া দেখা যায়। ওই গুটি-ধরা ডালে আম হয় না, মার্চ মাসে পাতার নীচের দিকে মধ্যশিরা বরাবর এরা ডিম পাড়ে। আগস্ট মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে গুটিগুলির সৃষ্টি হয়।

প্রতিকার

আক্রান্ত শাখা গুলি ডিসেম্বর–জানুয়ারিতে কেটে পুড়িয়ে ফেলতে হবে। আক্রান্ত গাছের গোড়ায় এপ্রিল–মে মাসের মাঝামাঝি গাছের গোড়ায় মিথাইল প্যারাথিয়ন ২% (গুঁড়ো) ২৫–৩০ কেজি/হেক্টর ছড়ালে আক্রমণের প্রাদুর্ভাব কম হয়। এ ছাড়াও, সেপ্টেম্বর মাসে শোষক পোকার ন্যায় যে কোনও একটি রাসায়নিক ওষুধধ স্প্রে করতে হবে।

আমের গায়ে পোকা (মিলি বাগ)

কজাল অরগানিজম - ড্রোসিকা ম্যানগিফেরা

লক্ষণ

ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে জুন–জুলাই মাস পর্যন্ত এই পোকার আক্রমণ হয়। এপ্রিলের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে মে মাসের তৃতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত মাটির ৫–১৫ সেমি গভীরে এরা ডিম পাড়ে। পরবর্তীতে ডিসেম্বরের মাঝামাঝি থেকে জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে অপূর্ণাঙ্গ পোকা বের হয়ে গাছে ওঠে এবং পোকাগুলি এক জায়গায় জড়ো হয়ে গাছের নরম ডাল ও মুকুলের রস চুষে খায়। তার ফলে আক্রান্ত অংশ শুকিয়ে যায় এবং ফলন ভীষণ ভাবে কমে যায়।

প্রতিকার

বাগান পরিষ্কার রাখতে হবে এবং গ্রীষ্মকালে গোড়ার চার পাশে মাটি খুঁড়ে ডিমগুলি নষ্ট করে দিতে হবে। এ ছাড়াও ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে প্রতি গাছের গোড়ায় ২৫০ গ্রাম হারে মিথাইল প্যারাথিয়ন ২% গুঁড়ো প্রয়োগ করতে হবে। ডিসেম্বর–জানুয়ারি মাসে যখন পোকা গাছে ওঠা শুরু করছে তখন কার্বারিল ৫০% ডবলুপি ২.৫ গ্রাম বা নুভাক্রন ৩৬% ১.৫ মিলি প্রতি লিটার জলে গুলে কাণ্ডে ভালো ভাবে স্প্রে করতে হবে। এ ছাড়াও, কীটগুলি যাতে গাছে উঠতে না পারে তার জন্য কাণ্ডের চার ধারে রেড়ির তেল ও রেজিন দিয়ে তৈরি মিশ্রণটি কাণ্ডের গায়ে লাগিয়ে রাখত হবে এবং দু’ ফুট চওড়া পলিথিনের চাদর গাছের কাণ্ডে লেপের মতো বেঁধে দিলে পোকাগুলি পিছলে পড়ে ওই চাদরে পড়ে যাবে এবং পরে পোকা গুলি সংগ্রহ করে নষ্ট করে ফেলতে হবে।

আমের মাছি (ফ্রুট ফ্লাই)

কজাল অরগানিজম - ব্যাকটোসেরা ডোরসালিস

লক্ষণ

আম পাকার সময় এরা ফলের গায়ে এক সাথে ১৫০–২০০টি ডিম পাড়ে। কয়েক দিনের মধ্যে ডিম ফুটে কীড়া বের হয়ে আমের শাঁস খেতে শুরু করে। আক্রান্ত আম ভিতর থেকে পচতে শুরু করে ও ঝরে পড়ে। ফলের চেহারা প্রথম দিকে স্বাভাবিক থাকে। পরে ফলের গায়ে গাড় বাদামি বা কালচে বাদামি রঙের গোলাকার পচনশীল দাগ দেখা যাবে এবং দুর্গন্ধ যু্ক্ত হবে।

প্রতিকার

বাগান পরিষ্কার ও আবর্জনা মুক্ত রাখতে হবে। গ্রীষ্মকালে গাছের তলা ও চার পাশের মাটি লাঙল দিয়ে রোদ খাওয়াতে হবে যাতে মূককীটগুলি রোদে নষ্ট হয়ে যায়। এ ছাড়াও আক্রান্ত ঝরে পড়া আমগুলি সংগ্রহ করে পুড়িয়ে নষ্ট করে দিতে হবে। রাসায়নিক ওষুধের মধ্যে ম্যালাথিয়ন ৫০% ২.০ মিলি বা র্কাবারিল ৫০% ডবলুপি ২.৫৪ গ্রাম বা অ্যাসিফেট ৭৫% ডবলুপি ০.৭৫ গ্রাম ইত্যাদি প্রতি লিটার জলে গুলে স্প্রে করতে হবে। এ ছাড়াও বিষাক্ত টোপ ব্যবহার করেও এদের দমন করা যায় -- সোডিয়াম ফ্লুসিলিকেট (১ ভাগ) তার সাথে ঝোলা গুড় (৬ ভাগ) জলের সাথে মিশ্রণ অথবা লেড আর্সেনেট (১ ভাগ) তার সাথে ঝোলা গুড় (২৪ ভাগ) জলের সাথে মিশ্রণ।

আমের শাখা ছিদ্রকারী পোকা (ম্যাঙ্গো শুট বোরার)

কজাল অরগানিজম – ডিউমেশিয়া ট্রান্সভারসা

লক্ষণ

এই পোকার কীড়া বর্ধনশীল শাখার আগায় ছিদ্র করে ভিতরে প্রবেশ করে এবং ৮–১০ সেমি পর্যন্ত শাখার নীচের দিকে ছিদ্র করে। এর আক্রমণের ফলে শাখা শুকিয়ে মরে যায়।

প্রতিকার

আক্রান্ত শাখা কেটে পুড়িয়ে ফেলতে হবে। আর নতুন শাখা গজানোর সময় কার্বারিল ০.২% , নুভাক্রন ৩৬% ১.৫ মিলি বা ডাইক্লোরেডিস ৭৬% ০.৭৫ মিলি প্রতি লিটার জলে গুলে এক দু’ বার স্প্রে করলে এই পোকা দমন করা যায়।

ফল ছিদ্রকারী পোকা

কজাল অরগানিজম – ডিয়ানোলিস আলবিজোনালিস

লক্ষণ

পূর্ণাঙ্গ পোকা আমের খোসার নীচে ডিম পাড়ে। কীড়া ডিম থেকে বেরিয়ে শাঁস ভেদ করে বীজে প্রবেশ করে। বত্সরে দু’বার, একবার মার্চের শেষ থেকে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে ফল যখন ছোট মার্বেলের আকারে আর এক বার ও মে মাসের প্রথম সপ্তাহের দিকে ফল যখন ১৮–১০ সেমি লম্বা তখন আক্রমণ হয়। এরা সর্বদা আমের অগ্রভাগ অর্থাৎ বোঁটার উল্টো দিক থেকে প্রবেশ করে।

প্রতিকার

বাগান পরিষ্কার রাখতে হবে। এ ছাড়াও রাসায়নিক ওষুধ দ্বারা দমনের জন্য এডোসালফান ৩৫% ২.০ মিলি বা মনোঘাটোফস ৩৬% ১.৫ মিলি বা কুইনালফস ২৫% ২.০ মিলি বা ক্লোরোপাইরিফস ২০% ২.৫ মিলি বা কার্বারিল বা ডাইক্লোরোভস ৭৬% ০.৭৫ মিলি প্রতি লিটার জলে গুলে ২৫ দিন অন্তর দুবার স্প্রে করতে হবে।

আমের মাজরা পোকা (ম্যাঙ্গো স্টেম বোরার)

কজাল অরগানিজম – ব্যাক্টোসেরা রুফোমাকুলাটা

লক্ষণ

এই পোকার কীড়া (গ্রাব) গাছের কাণ্ড ও শাখায় ফুটো করে ভিতরে ঢুকে নরম অংশ কুরে খায়। আক্রান্ত অংশে যে নালির সৃষ্টি হয় তার বাইরে মল ও কাঠের গুঁড়ো দেখে এদের উপস্থিতি বোঝা যায়। আক্রান্ত শাখা শুকিয়ে মরে যায়, গাছের কাণ্ড ফোঁপরা হয়ে সহজে ভেঙে যায়।

প্রতিকার

আক্রান্ত নালিতে আলকাতরার সাথে ডিডিডিপি বা ন্যাপথেলিন মিশ্রণ ঢুকিয়ে গর্তের মুখ মাটি দিয়ে বন্ধ করতে হবে। এ ছাড়াও রাসায়নিক ওষুধ যেমন ফসফোমেডিন ৪০% বা মনোক্রটোফস ৩৬% ১.৫ মিলি প্রতি লিটার জলে গুলে কাণ্ডে ভালো ভাবে স্প্রে করতে হবে।

আমের আঁটি ছিদ্রকারী পোকা (ম্যাঙ্গ স্টোন উইভিল)

কজাল অরগানিজম – স্টেরাওসেটাস ম্যানগিফেরা

লক্ষণ

নাবি জাতের ক্ষেত্রে আক্রমণ বেশি হয়। মূলত দক্ষিণ ভারতে প্রাদুর্ভাব বেশি। পূর্ণাঙ্গ মাছি ঘন বাদামি রঙের এরা আমের খোসার ওপর মটর দানার মতো ডিম পাড়ে। পরে ডিম থেকে কিড়া (গ্রাব) বের হয়ে শাঁস ভেদ করে বীজে ঢুকে যায়। ফল পাকার সময় পূর্ণাঙ্গ পোকা আঁটি থেকে বের হয়ে আসে, পূর্ণাঙ্গ পোকা সাধারণত মাটির ভিতরে লুকিয়ে থাকে পরবর্তী মরশুমের জন্য।

প্রতিকার

বাগান পরিষ্কার রাখতে হবে। আক্রান্ত ফল ও আঁটি সংগ্রহ করে মাটিতে পুঁতে নষ্ট করতে হবে বা পুড়িয়ে ফলতে হবে। এ ছাড়া গ্রীষ্মকালীন চাষ দিয়ে গাছের গোড়ার মাটি রোদ খাওয়াতে হবে। আর রাসায়নিক ওষুধ ফেনথিয়ন ১৫ দিন অন্তর দু’বার স্প্রে করতে হবে যখন গায়ের গুটি মার্বেল সাইজের মতো হবে।

রোগ নিয়ন্ত্রণ

গুঁড়ো চিতি রোগ (পাউডারি মিলডিয়ু)

কজাল অরগানিজম – ওইডিম ম্যানগিফেরা

লক্ষণ

শীতের সময় এই রোগের প্রাদুর্ভাব হয়। ফুল থেকে ফল ধরার মধ্যবর্তী সময়ে বায়ুমণ্ডলের অধিক আর্দ্রতা তার সঙ্গে মেঘলা আবহাওয়া আর রাত্রিবেলায় উষ্ণ তাপমাত্রা এই রোগ বিস্তারের পক্ষে অনুকূল। আক্রান্ত গাছের পাতা, ফুল ও ফলের ওপর ধূসর সাদা রঙের এক ধরনের পাউডারের আস্তরণ দেখা যায়। আক্রান্ত ফুল ও ফল শুকিয়ে ঝরে পড়ে।

প্রতিকার

আক্রান্ত গাছে নিয়মিত ভাবে ছত্রাকঘটিত রাসায়নিক ওষুধ যেমন সালফার ৮০% ডব্লুপি ৩.০ গ্রাম, বা হেক্সাকোনাজল ৫% ইসি ১.০ মিলি বা ক্যাটাডোজিম ৫০% ডব্লুপি, ১.০ গ্রাম বা ট্রায়াডিমেফন ২৫% ডব্লুপি ০.৭৫ গ্রাম বা ট্রাইডেমর্ফ ৮০% ইসি ০.৫ গ্রাম বা পেনকোনাজল ১০% ইসি ০.৫ মিলি ইত্যাদির যে কোনও একটি প্রতি লিটার জলে গুলে স্প্রে করতে হবে। প্রথম বার মুকুল বের হওয়ার সময় এবং ১০-১৫ দিন অন্তর আরও দু’বার ওষুধ দিতে হবে। মাঝারি সাইজের গাছের জন্য ১০ লি ওষুধ মিশ্রিত দ্রবণের প্রয়োজন।

ক্ষত রোগ

কজাল অরগানিজম – সেল্লেটোট্রিকাম গ্লোওসপরিআইডেস

লক্ষণ

ছত্রাক ঘটিতএই রোগের লক্ষণ হল কচি পাতা, কচি ডালের মুকুল ও ফলের উপর গাঢ় বাদামি বা কালো দাগ দেখা যায়। ছোট ফল আক্রান্ত হয়ে কালো হয়ে ঝরে পড়ে। বড় ফলের উপর কালো ছিটেফোঁটা দাগ পড়ে। পরে তা ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। আম পাকার সময়ও পচে যায়। মেঘলা আবহাওয়া তার সাথে উচ্চ আর্দ্রতা এই রোগের অনুকূল।

প্রতিকার

এই রোগ দমনের জন্য বাগান পরিষ্কার রাখতে হবে ও আক্রান্ত অংশগুলো কেটে ফেলে নষ্ট করতে হবে। এ ছাড়া কপার অক্সিক্লোরাইড ৫০% ডব্লুপি ৪.০ গ্রাম বা ম্যাঙ্কোজেব ৭৫% ডব্লুপি ২.৫ গ্রাম বা কার্বাডেজিম ৫০% ডব্লুপি ১.০ গ্রাম প্রতি লিটার জলে গুলে যে কোনও একটি ১৫ দিন অন্তর দু’বার স্প্রে করতে হবে। ফল কাটার পর জুন–জুলাই মাসে এবং ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাসে অবশ্যই স্প্রে করতে হবে।

জীবাণুঘটিত দাগ

কজাল অরগানিজম – সয়ডোমোনাস ম্যানগিফেরা

লক্ষণ

জীবাণুঘটিত এই রোগের প্রাদুর্ভাব বর্ষাকালীন আবহাওয়ায় বেশি হয়। গাছের পাতা ও ফলের ওপর প্রথমে জলে ভেজা গাঢ় সবুজ বর্ণের ছোট ছোট দাগ দেখা যায়। পরে তা কালো দাগে পরিণত হয়। পরে দাগ বরাবর ফেটে যায় ও কাটা জায়গা দিয়ে আঠা বের হয়। আক্রান্ত ফল ঝরে যায় আর ফলনও ভীষণ ভাবে কমে যায়।

প্রতিকার

স্টেপটো সাইক্লিন সালফেট (২০০ পি পি এম ) ১.০ গ্রাম প্রতি ৫ লি জলে গুলে ১৫ দিন অন্তর দু’বার স্প্রে করলে এই রোগ দমন করা যায়।

অবিন্যস্ত বৃদ্ধি

কজাল অরগানিজম – ফুসালিয়াম মোনিলিফর্মা

লক্ষণ

এক ধরনের মাকড়ের মাধ্যমে এই রোগ ছড়ায়। মাকড়টি হল অ্যাসেরিয়া ম্যানগিফেরা। ছত্রাকঘটিত এই রোগের ফলে অবিন্যস্ত মুকুল বলের আকারে দেখা যায়। নির্বীজ ফুলের ফলে ফলন কমে যায়। বোঁটার কাছে শাখার সাইজ ছোট হয়ে যায়।

প্রতিকার

আক্রান্ত শাখা কেটে ফেলে পুড়িয়ে ফেলতে হবে। আর কার্বাডাইজিম ১ গ্রাম + ইথিয়ন ১ মিলি প্রতি লিটার জলে গুলে ছত্রাক ও মাকড় নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

শারীরবৃত্তীয় ব্যাধি

ব্যাকটিপ (ম্যাঙ্গো নেক্রোসিস)

লক্ষণ

আক্রান্ত ফলের নীচের প্রান্তে প্রথমে হালকা হলদে দাগ দেখা যায়। পরে দাগ গুলো আস্তে আস্তে আকারে বেড়ে যায় ও হলুদ দাগ ক্রমে বাদামি থেকে কালো হয়ে যায়। আক্রান্ত অংশ শক্ত হয়ে যায়। ইটের ভাটা বাগানের কাছাকাছি (৭০০ গজের মধ্য) থাকলে ইট পোড়ানোর ধোঁয়ায় এই রোগটি হয়।

প্রতিকার

ইটের ভাটা কাছাকাছি না থাকা বাঞ্ছনীয়। ভাটার চিমনি ১৫–১৮ মিটার উঁচু হওয়া উচিত। সোহাগা (বোরাক্স) দু’গ্রাম প্রতি লিটার ঈষদুষ্ণ জলে গুলে ঠান্ডা জলে মিশিয়ে উক্ত মিশ্রণ ফুল আসার আগে, ফুল আসার পর ও সবশেষে ফল ধরার পর প্রয়োগ করলে সুফল পাওয়া যায়।

বাংলাদেশে আম হল ফলের রাজা এবং গাছ হল জাতীয় গাছ। আম সাধারনত উষ্ণ ও অবউষ্ণমণ্ডলীয় অঞ্চলের স্বার্থকভাবে জন্মে। ইন্দো-র্বামা অঞ্চলে আমের উৎপত্তিস্থল বলে ধারণা করা হয় তবে বাংলাদেশসহ ভারতীয় উপমহামহাদেশে আম সবচেয়ে জনপ্রিয় ফল কারন এ ফল বৈচিএ্যপূর্ণ ব্যবহার, পুষ্টিমান ও স্বাদে-গন্বেধ অতুলনীয়। বাংলাদেশে প্রায় সব অঞ্চলে আম জন্মে কিন্তু দেশের উত্তরাঞ্চলে এর বানিজ্যিকভাবে ব্যাপক চাষ হয়ে থাকে। আম চাষীরা প্রতি বছর অনেক ক্ষতির শিকার হয়ে থাকেন সাধারনত দুই প্রকারের সমস্যার কারনে যথা ঃ (অ) প্রাকৃতিক কারন (যেমন- ঝড়, শিলাবৃষ্টি, খরা প্রভৃতি) এবং (আ) রোগ ও পোকামাকড় দ্বারা আক্রান্ত হয়ে। সঠিক পরিচর্চা ও রোগ-পোকামাকড় দমন করে প্রথম ক্ষতি আংশিক এবং দ্বিতীয় ক্ষতি প্রায় সম্পূর্ণ রুপে সমাধান করা সম্ভব। নীচে ইহা পর্যায়ক্রমে আলোচনা করা হল ঃ-
(অ) ফলন্ত আম গাছের পরিচর্চা ঃ আম গাছের ফল ধারন ক্ষমতা বৃদ্বি এবং ফলন বাড়ানোর জন্য নিম্নলিখিত পরিচর্চাগুলি করা একান্ত প্রয়োজন।

পরগাছা দমন ঃ আমগাছে একাধিক জাতের আগাছা জন্মাতে দেখা যায় যা গাছের স্বাভাবিক বৃদ্বি ও স্বাস্থ্যের প্রতি ক্ষতিকর। পরগাছাসমুহে শিকড়ের মত এক প্রকার হষ্টোরিয়া হয় যা গাছের মধ্যে প্রবেশ করে রস শোষন করে খায় এবং দুর্বল করে। পরগাছার পাদুর্ভাব বেশী হলে গাছের পাতার আকার ছোট হয় ও ফ্যাকাসে হয় এবং অনেক সময় গাছ মারা যায়। এর ফলে গাছের ফলন মারাক্তক ভাবে কমে যায়। তাই ভাল ফলন পেতে হলে অবশ্যই পরগাছা অপসারন করতে হবে।
সার প্রয়োগ ঃ গাছের বৃদ্বি ও ফল উৎপাদনের জন্য সারের ব্যবহার একান্ত প্রয়োজন। ফলন্ত গাছের আকার, বয়স ও মাটির উর্বরতার উপর সারের পরিমান নির্ভর করে। দুপুর বেলা যতটুকু স্থানে ছায়া পড়ে সেটুকু স্থানে মাটি কুপিয়ে সার মাটির সাথে মিশে দিতে হবে।
সেচ প্রয়োগ ঃ সাধারনত জমির উপর স্তরে প্রয়োজনীয় খাদ্য উপাদান থাকে বা সার হিসাবে মাটিতে মিশে দেয়া হয় তাই আম বাগানের উপরের ২-৩ মিটার অংশকে জমির পানি সংরক্ষনণ স্তর হিসাবে ধরা হয়। তাই শুস্ক মৌসুমে আম বাগানে পানি সেচ দেয়া দরকার। আমের গুটি মটর দানারমত হওয়ার পর থেকে ১৫-২০ দিন পর পর ২-৩ বার সেচ দিলে আমের গুটি ঝরা বন্বদ হয়।
বয়স্ক টক আমগাছকে মিষ্টি আমগাছে রূপান্তরকরণ ঃ বাগানের কোন গাছের আমের গুনাগুন খারাপ হলে সে গাছকে নষ্ট না করে ভিনিয়ার কলমের মাধ্যমে উন্নতি সাধন করা য়ায়। বয়স্ক গাছের ২-৩ টি ডাল কেটে দিলে সেখান থেকে ন’তন শাখা বের হলে তার পর নতুন শাখাতে ভিনিয়ার কলম করে নিতে হবে। এ ভাবে ৩-৪ বারে কাজ সম্পন্ন করতে হবে।
পুরাতন বাগান নবায়ন ঃ আম বাগানের বয়স বেশী হলে ফল ধারণ কমে যায়, তাই এ ক্ষেতে গাছ কেটে না ফেলে পুরাতন গাছের ভারী শাখা কেটে দিলে সেখানে ন’তন শাখা বের হবে এবং গাছ নবায়ন হয়ে যাবে। এ ভাবে ২-৩ বছরে বাগান নবায়ন করা যায়।

ফসল সংগ্রহ ঃ ফল ধরার ৩-৫ মাসের মধ্যেই জাত ভেদে ফল পাকা শুরু করে। বানিজ্যিক ভাবে কখনো সম্পুন্ন পাকা ভাবে আম গাছ থেকে পাড়া ঠিক নয়। গাছের ফল দুই চারটি পাকা শুরু করলে বাঁশের কোটার মাথায় থলে সদৃশ্য জালতি লাগিয়ে আম পাড়তে হবে যেন আঘাত না লাগে। গাছের নীচে সাময়িক ভাবে রাখতে হলে খড় বিছিয়ে তার উপর রাখতে হবে। নিম্নোক্ত লক্ষণ দেখে ফল সংগ্রহ করতে হবে ঃ- (১) আমের বোটার নীচে হলুদ বর্ণ ধারণ করবে। (২) পানিতে দিলে ডুবে যাবে। (৩) কস বের হলে দুত শুকে যাবে। (৪) দুই একটি পাকা আম গাছ থেকে ঝরে পড়বে।
ফল সংরক্ষণ ঃ আম পচনশীল ফল। বেশী পাকা অবস্থায় সংগ্রহ করলে সংরক্ষণকাল কম হয়। অধিকাংশ জাতের আম ১৩-১৭ ডিগ্রী সে. তাপমাএায় ও ৮৫-৯০% আপেক্ষিক আদ্রতায় বাঁশের ঝুড়ি, বাস্কেট, খড়বিছানো প্রভৃতিতে স্থানে ৪-৭ সপ্তাহ সংরক্ষণ করা যায়।
(আ) রোগ দমন ঃ
অ্যানথ্রাাকনোজ (Anthracnose)

এ রোগ আমের পাতা ও ফলে হয়ে থাকে। ইহা কোলিটোর্টিকাম– গোলেসপোরিওডিস (Colletotrichum gloeosporioides) নামক এক প্রকার ছএাক দ্বারা হযে থাকে। এ রোগের কারনে আমের ফলন শুন্যের কাছাকাছি আসতে পারে।
লক্ষণসমুহ ঃ (১) এ রোগ নুতন পাতা, পুষ্প মঞ্জরী ও ফলে দেখা যায়। (২) পাতায় ধুসর-বাদামী ছোট কৌষিক দাগ পড়ে এবং পরে সমস্ত পাতায় ছড়িয়ে পড়ে ও এক পর্যায় পাতা ঝরে পড়ে। (৩) ফলের উপর প্রথমে গাঢ় বাদামী দাগ পড়ে। (৪) দাগগুলি পরে বড় হয়ে কাল বর্ণ দারন করে। (৫) আক্রমন মারাক্তক হলে পরবতীতে সম্পুর্ণ আম পচে যায়।
অনূকুল অবস্থা ঃ (১) তাপমাএা ২৫-২৮ ডিগ্রী সে.। (২) আপেক্ষিক আদ্রতা ৭০-৮০%। (৩)অধিক বৃষ্টিপাত। (৪) ঘন কুয়াশা ও আকাশ মেঘাছন এ রোগের প্রকোপ বাড়ায়।
দমন ব্যবস্থা ঃ (১) ফল সংগ্রহের পর বাগানের অবশিটাংশ ধংস করতে হবে। (২) স্বাস্থ্যবান গাছ রোপন করতে হবে। (৩) বোর্দো মিশ্র সার ০.৩% হারে ৩-৪ বার স্প্রে করতে হবে (ফুল ধরার পূর্বে ও পরে এবং ফল সংগ্রহের পূর্বে)। (৪) বাভিসটিন ডব্লিউ/পি ০.২ % হারে অথবা ডাইথেন-এম ০.৩ % হারে দুই বার (ফুল ধরার পুর্বে ও পরে ) স্প্রে করতে হবে।

আমের বোটা ও ফল পচা (Stem end rot)

রোগের কারণ ঃ এ রোগ বোর্টিডিপ্লডিয়া থিয়োবোরমি  (Botryodiplodia theobromae) নামক এক প্রকার ছাএাক দ্বারা হয়ে থাকে। এ রোগ আমের বোটা ও ফলে হয়ে থাকে।
রোগের লক্ষনসমুহ ঃ (১) প্রথমে বোঁটার চতুর্দিকে কিছু জায়গা জুড়ে কাল দাগ পড়ে। (২) পরবর্তীতে আমের অধিকাংশ ও সর্বশেষ অংশ পচে কাল রং ধারন। (৩) আক্রান্ত স্থানে চাপ দিলে ভিতর থেকে পচা কাল গন্বধযুক্ত আমের রস বের হয়ে আসে।
রোগ দমন ঃ ক) যে কোন একটি পদ্বতিতে রোগ দমন করবেন ঃ(১) ডাইথেন-এম-৪৫, ০.৩ % হারে ২-৩ বার স্প্রে করতে হবে। (২) রিডোমিল ০.১ % হারে ২-৩ বার স্প্রে করতে হবে। (৩),রোভরাল ০.১ % হারে ২-৩ বার স্প্রে করতে হবে। (খ) আম হারভেষ্ট করার পর ৪৩ ডিগ্রী সে. তাপমাএায় ৫ মিনিট ৬% বোরাক্্র দ্রবনে চুবাতে হবে। (গ) ফল সংগ্রহ করার পর ডালপালা, অবশিষ্টাংশ ধংস করতে হবে।

আমের পাউডারি মিলডিউ (Powdery mildew of mango)

রোগের কারণ ঃ এ রোগ ওডিয়াম মেংগিফেরা  (Oidium mangiferae) নামক ছাএাক দ্বারা হয়ে থাকে।
রোগের লক্ষনসমুহ ঃ (১) পুষ্প মঞ্জরী ও উহার সংলগ্ন কচিপাতা এবং ছোট ফলের উপর সাদা-ধুসর পাউডার দেখা যায়। (২) সাধারনত সংক্রামন পুষ্প মঞ্জরী অগ্রভাগ ক্ষত শুরু করে নীচের দিকে ধাবিত হয় এবং কুচকে যেয়ে ডাই-বেক লক্ষন প্রকাশ পায়। (৩) ফল অপরিপক্ক অবস্থায় ঝরে পড়ে এবং বিকৃত ও বিবর্ণ হয়।
দমন ব্যবস্থা ঃ (১) আমের বাগান পরিষ্কার পরিছিন্ন রাখতে হবে। (২) ছএাকের গঠন ধংস করতে মাঝে মাঝে গাছে পানি স্প্রে করতে হবে। (৩) থিয়োভিট ০.৩ %হারে ফুল ফোটার পূর্বে এক বার ও পরে দুই বার স্প্রে করতে হবে। (৪) ম্যালাথিয়ন ০.২ % হারে ফুল ফোটার পর একবার ও গুটি আসার পর ১৫ দিন পর পর দুই বার স্প্রে করতে হবে।

(ই) পোকামাকড় দমন ঃ
আমের শোষক পোকা/ আমের হপার (Mango hopper)

এই পোকার তিনটি প্রজাতি ক্ষতি করে থাকে। নিম্মে ক্ষতির প্রকৃতি ও দমন ব্যবস্থা দেয়া হল।
ক্ষতির প্রকৃতি ঃআমের অনিষ্টকারী পোকার মধ্যে এ পোকা সব চেয়ে বেশী ক্ষতিসাধন করে থাকে। আমের পাতা ও বোটায় এরা ডিম পাড়ে। এজন্য আক্রান্ত পাতা ও ফুল শুকিয়ে যায় এবং গুটি আসার পূর্বেই ফুল ঝরে য়ায়। এতে ফলন মারাত্থকভাবে কমে যায়। এ পোকার আক্রমনের অন্যতম লক্ষণ হল, আক্রান্ত গাছের নীচে দিয়ে হাঁটলে পোকা লাফিয়ে গায়ে পড়ে।
দমন ব্যবস্থা ঃ এ পোকা দমন করতে হলে মুকুল আসার আগে অথবা মুকুল আসার মুহুর্ত থেকে নিম্নলিখিত কীটনাশক স্প্রেকরতে হবে ঃ ডায়াজিনন ৬০ ইসি বা লেবাসিড ৫০ ইসি চা চামুচের ৪ চামুচ ৮.৫ লিটার পানিতে মিশিয়ে ১৫ দিন পর পর দুই বার স্প্রে করতে হবে। অথবা ম্যালাথিয়ন বা এম.এস.টি ৫৭ ইসি উপরোক্ত মাএায় স্প্রে করতে হবে।

ফলের মাছি বা আমের মাছি পোকা (Mango fruit fly)
ক্ষতির প্রকৃতি ঃ এ পোকার কীড়া পাকা আমের মধ্যে প্রবেশ করে শাঁস খেয়ে ফেলে। এতে ফল পচে যায় ও ঝরে পড়ে। আক্রান্তআম কাটলে অসংখ্য পোকা দেখা য়ায়। পোকার আক্রমন বেশী হলে গাছের সমস্ত আম খাওয়ার অনুউপযোগী হয়ে যায়।
দমন ব্যবস্থা ঃ আম পাকার পূর্বে যখন পূর্ন বৃদ্বিপ্রাপ্ত হয় ডিপটেরেক্্র চা চামুচের ৪ চামচ ৮.৫ লিটার পানিতে মিশিয়ে ৭ দিন পর পর দুই বার স্প্রে করতে হবে। অথবা ডায়াজিনন ৫০ ইসি ২মিলি/লিটার পানিতে মিশে ফলে স্প্রে করতে হবে ( উক্ত সময়ে ফল খাওয়া যাবে না)।

আমের বিছা পোকা (Mango defoliator)
ক্ষতির প্রকৃতি ঃ এ পোকার কীড়া আম গাছের পাতা খেয়ে ফেলে। আক্রমনের মাএা বেশী হলে গাছ পএ শূন্য হয়ে যায় এবং ফুল-ফল হয় না বা হলেও ঝরে পড়ে। তবে কোন গাছ একবার আক্রান্ত হলে বার বার আক্রান্ত হওয়ার সম্ভনা থাকে।
দমন ব্যবস্থা ঃ আক্রান্ত গাছে ডাইমেক্রম ১০০ ইসি ৩০০ মিলি বা ডায়াজিনন ৫০ ইসি ৪০০ মিলি বা সুমিথিয়ন ৫০ ইসি ৪৫৪ মিলি ২২৫ লিটার পানিতে মিশেয়ে স্প্রে করতে হবে।


Page 1 of 30