x 
Empty Product

গোপালভোগ জাতের আম সংগ্রহের মাধ্যমে নওগাঁর বাজারে আসছে আম। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর জেলার পোরশা উপজেলায় গোপালভোগ দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আম পাড়া শুরু হয়।

‘ফলের রাজা আম, আমের রাজা পোরশা’ স্লোগানকে সামনে রেখে চলতি মৌসুমে জেলার পোরশায় গোপালভোগ জাতের আম সংগ্রহ শুরু হয়েছে।

 

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের আয়োজনে শুক্রবার বড় মাদরাসার পাশের আলহাজ্ব আব্দুস সামাদের আম বাগান থেকে আম নামানো শুরু হয়। আম নামানোর উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাজমুল হামিদ রেজা। আম অধিকতর নিরাপদ এবং এই আমকে সারা বাংলাদেশে ব্যাপক পরিচিত করার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

এ সময় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহফুজ আলম, খাদ্য কর্মকর্তা শওকত জামিল প্রধান, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল হাই, পোরশা আম সমিতির সভাপতি আব্দুস সামাদ শাহ্, সম্পাদক মোস্তফা শাহ, বাহারী বাজার অনলাইন আম ব্যাবসায়ী মাসুদ পারভেজ, প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এমরইচ উদ্দিনসহ আম ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের সূত্রমতে, এ বছর জেলায় ১৮ হাজার ৫২৭ হেক্টর জমিতে আম বাগান রয়েছে। এর মধ্যে পোরশায় ৯ হাজার হেক্টর, সাপাহার উপজেলায় ৪ হাজার হেক্টর, নিয়ামতপুরে ৯৫০ হেক্টর, পত্নীতলায় ২ হাজার ২শ হেক্টর, ধামইরহাটে ৬১৫ হেক্টর, মান্দায় ৪শ হেক্টর, নওগাঁ সদরে ৪শ হেক্টর, মহাদেবপুরে ৩৬০ হেক্টর, বদলগাছীতে ৩৪০ হেক্টর, রানীনগের ১৪৬ হেক্টর এবং আত্রাইয়ে ১১৬ হেক্টর। এ বছর আমের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৫ লাখ মেট্রিক টন।

 

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ২৪মে গোপালভোগ, ৩০মে খিরসাপাত/হিমসাগর, ১ জুন নাগ ফজলি, ৭ জুন ল্যাংড়া, ১৫ জুন ফজলী, ২২ জুন আম্রোপালি, ১ জুলাই আশ্বিনা আম গাছ থেকে পাড়া হবে। আম চাষিরা যাতে আমে কোনো প্রকার কেমিকেল প্রয়োগ করতে না পারে সেজন্য বাগানগুলোতে প্রশাসনের নজদারি বাড়ানো হয়েছে।

জেলার সাপাহার, পোরশা, নিয়ামতপুর উপজেলা এবং পত্নীতলা ও ধামইরহাট উপজেলার আংশিক বরেন্দ্র এলাকা হিসেবে খ্যাত। এলাকার জমিতে বছরের একটিমাত্র ফসল বৃষ্টি নির্ভর আমন ধান। পানি স্বল্পতার কারণে বছরের বেশিরভাগ সময় জমি অনাবাদি পড়ে থাকত। এছাড়া ধানের আবাদে খরচও বেশি। অপরদিকে আম চাষে লাভ বেশি। ফলে ধান উৎপাদনের খরচ বেশি হওয়ায় কৃষকরা এখন আম চাষে ঝুঁকেছেন। এতে করে প্রতি বছর প্রায় ২-৩ হাজার হেক্টর জমিতে বাড়ছে আম বাগান। আম্রোপালি, আশ্বিনা, খিরসা, মল্লিকা, হাড়িভাঙা ও ন্যাংড়াসহ কয়েকটা জাতের আম চাষ করা হচ্ছে। এঁটেল মাটি হওয়ার কারণে এ এলাকার আম বেশ সুস্বাদু। সুস্বাদু হওয়ায় আমের রাজা চাঁপাইনবাবগঞ্জকে ছাড়িয়ে গেছে নওগাঁর আম।

আমচাষিরা বলছেন, এঁটেল মাটি হওয়ায় এ এলাকার আম বেশ সুস্বাদু। এ এলাকার আমকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম বলে বিক্রি করা হয়ে থাকে। যখন আম পাকা শুরু হয় তখন একসঙ্গে বাজারে উঠতে শুরু করে। আর এ সুযোগে আম ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে আমের দাম কমিয়ে দেয়। এতে করে চাষিরা দাম কম পায়, কিন্তু ব্যবসায়ীরা লাভ ঠিকই পায়। আম মৌসুমে দামের ব্যাপারে প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন আম চাষিরা।

পোরশা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহফুজ আলম বলেন, এ উপজেলার আম স্বাদে-গন্ধে-মানে-মিষ্টতায় অতুলনীয়। নিরাপদ আম উৎপাদনের লক্ষ্যে চাষিদের বিভিন্ন সময় মতবিনিময় করেছি এবং আমরা পেরাশার আমকে ব্র্যান্ডিংয়ের মাধ্যমে দেশ-বিদেশে রফতানি করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি।

আমের ব্যাপক প্রচার ও বিভিন্ন তথ্য প্রদানের জন্য ‘উপজেলা কৃষি অফিস পোরশা’ নামে একটি ফেসবুক আইডি ও ‘পোরশার আম’ নামে একটি ফেসবুক পেজ খোলা হয়েছে। সেখানে আমের বিভিন্ন তথ্য পাওয়া যাবে। আমের ব্র্যান্ডিংয়ের অভাবে অনেকটাই পিছিয়ে আছে। নওগাঁর আমকে ব্র‌্যান্ডিং হিসেবে পরিচিত করার জন্য সকলের সহযোগিতা চান তিনি।

ফলের রাজা আম। কিন্তু আমের রাণী কে? হিমসাগর, ল্যাংড়া বা গোলাপখাস নয় বরং আমের রাণী হিসেবে মান দেয়া হয় নূরজাহানকে। গত বছর ভারী বর্ষণে এই আমের মুকুলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হলেও এই বছরের আবহাওয়া এখনও এই আমের জন্য অনুকূল। কিন্তু কেন আমের রাণী বলা হয় এই নূরজাহানকে?

আফগানিস্তানের এই আম গাছের প্রজাতি ভারতের কেবল একটি স্থানেই পাওয়া যায়। তাও খুবই সামান্য পরিমাণে। মধ্যপ্রদেশের আলিরাজপুর জেলার কাত্থিওয়াড়া অঞ্চলেই একমাত্র দেখা মেলে নূরজাহানের। নূরজাহান আমের একটার দৈর্ঘ্য এক ফুট পর্যন্ত হতে পারে। এর আঁটির ওজনই ১৫০ থেকে ২০০ গ্রাম। নূরজাহান আমের সংখ্যা এতোটাই সীমিত যে, গাছে থাকা অবস্থাতেই মানুষ এই আমের অগ্রিম বুকিং দেন। চাহিদা বাড়লে এক একটা আমের দাম ৫০০ রুপি পর্যন্ত পৌঁছে যায়। ইন্দোর থেকে প্রায় ২৫০ কিলোমিটার দূরে কাত্থিওয়াড়াতে এই প্রজাতির আম চাষের বিশেষজ্ঞ ইশাক মশুরী বলেন, এবার আবহাওয়া অনুকূলে বলে নূরজাহানের বেশি ফলন আশা করা হচ্ছে। নূরজাহান গাছগুলোতে জানুয়ারি মাস থেকেই মুকুল ধরতে শুরু করে এবং ফল জুনের শেষদিকে সম্পূর্ণ পেকে যায়। ইশাক মশুরী জানান, এবার এক একটা ফল গড়ে আড়াই কিলোগ্রামের কাছাকাছি ওজনের হতে পারে। আগে নূরজাহান আমের গড় ওজন হত সাড়ে তিন কেজি থেকে পৌনে চার কেজি হতো। বিশেষজ্ঞদের মতে, গত এক দশকে মৌসুমি বৃষ্টিপাতে দেরি, অল্প বৃষ্টি, অতি বৃষ্টি ও আবহাওয়ার অন্যান্য কারণে নূরজাহানের ওজন ক্রমাগত হ্রাস পেয়েছে। ইশাক মশুরী বলেন, এর আগে অনেকবারই কাত্থিওয়াড়ার বাইরে অনেক লোক নূরজাহানের কলম রোপণ করার চেষ্টা করেছে। কিন্তু গাছ হয়নি। আমের এই বিশেষ প্রজাতি ঋতুর পরিবর্তনে অত্যধিক সংবেদনশীল। এর প্রচুর যত্ন প্রয়োজন। তিনি জানান যে, গত বছর শিলাবৃষ্টিতে নূরজাহানের মুকুল ঝরে যায়। এবার নূরজাহানের ভালো ফলন নিয়ে তারা আশাবাদী।

"আমের টক ঝাল মিষ্টি আচারের রেসিপি
(বারি – ৪) কলম
|আমের ফাটা রোগ প্রতিকার
|আমের ফাটা রোগ প্রপিকার
।কানশাটআমবাজার
।কানসাট
১ বছর আম সংরক্ষনের উপায়
১২ ইঞ্চি লম্বা আম
হাবাজপুর খবর
১টিগৌড়মতি গাছে কত কেজি ফল হয়
৩ফটি আইপি বাউ আম 9 (সৌখিন চৌফলা) চাষের পদ্ধতি
৩ফটিআইপি বাউ আম 9 (সৌখীন চৌফলা)
4 কেজি আম চারা
5 কেজি ওজনে আম এর চারা
৫হাজার।বছর।আগের।বারি
আজকের খবর

চাপাই নবাবগনজ বিশ্ব রোড পার হয়ে সামান্য উত্তরে এটার অবস্থান।

১৯৮৫ সালে উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের অধীনে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের আওতায় আম গবেষণা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি  রাজশাহী শহর থেকে প্রায় ৫০ কিমি পূর্বদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জে অবস্থিত। কেন্দ্রের প্রধান উদ্দেশ্য আম চাষের ওপর সার্বিক গবেষণা পরিচালনা এবং আমের জাত উন্নয়ন ও উৎপাদন বৃদ্ধি। কেন্দ্রটির প্রায় ১২.৪০ হেক্টর (৩০.৬ একর) জমির উপর আছে ফলবাগান, গবেষণাগার, অফিস ও আবাসিক ভবন এবং ৬৫ জাতের তিন শতাধিক আমগাছ। একজন মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা কেন্দ্র প্রধান এবং সহযোগী হিসেবে রয়েছেন কয়েক জন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা। বর্তমানে আম গবেষণা কেন্দ্রটি উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের অধীনে আঞ্চলিক আম গবেষণা কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে। কতিপয় জাতীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সাথে এ কেন্দ্র সক্রিয় সহযোগিতা রাখে।

আমের রাজ্য চাঁপাইনবাবগঞ্জে আম নিয়ে গবেষণা করা দেশের একমাত্র প্রতিষ্ঠান আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্র (আম গবেষণা কেন্দ্র) ৩৪ বছরেও শুরু করতে পারেনি যুগোপযোগী গবেষণা। গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোতে নেই যেমন বিজ্ঞানী, তেমনি নেই আধুনিক গবেষণাগারও। আর এভাবেই দীর্ঘদিন ধরে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে গবেষণা কার্যক্রম।

কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) শফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে জানান, উদ্ভিদ রোগতত্ত্ববিদ, কীটতত্ত্ববিদ, মৃত্তিকা বিজ্ঞানী, সংগ্রহোত্তর ব্যবস্থাপনা বিজ্ঞানীসহ বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তার সংকট নিয়েই বছরের পর বছর ধরে চলছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্র। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের (বারি) অধীন বাংলাদেশে এটাই একমাত্র আম গবেষণা কেন্দ্র। অথচ ১৯৮৫ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এখানে বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তার সংকট চলছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শুরুতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ আম গবেষণা কেন্দ্র নাম নিয়ে যাত্রা শুরু হয় প্রতিষ্ঠানটির। পাঁচ বছর পর ১৯৯০ সালে এটিকে আরও শক্তিশালী এবং গবেষণার পরিধি আরও বাড়ানোর কথা বলে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) এটিকে আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রে রূপদান করেন। অর্থাৎ আমের পাশাপাশি এখানে অন্যান্য ফল, ফুল ও সবজি নিয়েও হবে গবেষণা। বাড়ানো হবে সুযোগ-সুবিধা। কিন্তু কথা রাখেনি বারি। সুযোগ-সুবিধা বাড়েনি। প্রতিষ্ঠানটি শক্তিশালী হয়নি। আম নিয়ে গবেষণাই ঠিকমতো হচ্ছে না। অপর দিকে বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তার সংখ্যা আরও কমানো হয়েছে। আগে রাজস্ব ও প্রকল্প খাত মিলিয়ে বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তার পদ ছিল ১৯টি। এখন কেবল রাজস্ব খাতে পদের সংখ্যা ১০।

শফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে আরও জানান, ১০ জন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তার পদের মধ্যে রয়েছে মাত্র ৪ জন। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তার পদে অল্প কিছুদিন করে দু-একজন ছিলেন। বাকি দীর্ঘকাল চলছে ভারপ্রাপ্তদের দিয়েই। যে চারজন বিজ্ঞানী রয়েছেন, তাঁরা সবাই উদ্যানতত্ত্ববিদ। কীটতত্ত্ববিদ, রোগতত্ত্ববিদ, মৃত্তিকা বিজ্ঞানী এবং সংগ্রহোত্তর না থাকায় গবেষণা কার্যক্রম পূর্ণাঙ্গভাবে চলছে না। এ ছাড়া গবেষণা কেন্দ্রের গবেষণাগারগুলোতে অভাব রয়েছে আধুনিক যন্ত্রপাতির। আমের উপাদান মাপার যে রাসায়নিক পরীক্ষা, তার নেই কোনো যন্ত্রপাতি। কীটতত্ত্ব গবেষণাগারে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি নেই। রোগতত্ত্ব গবেষণাগার কোনোমতে চললেও আরও উন্নত যন্ত্রপাতি দরকার।

শিবগঞ্জ ম্যাঙ্গো প্রোডিউসার অ্যাসোসিয়েশন লিমিটেডের সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল খান এ ব্যাপারে প্রথম আলোকে বলেন, গত তিন বছর থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জে নতুন রোগ দেখা দিচ্ছে। বিশেষ করে মিজ পোকা নামে একধরনের পোকার আক্রমণ দেখা দিচ্ছে। কিন্তু আম গবেষণা কেন্দ্র থেকে এ ব্যাপারে কোনো পরামর্শ পাওয়া যায়নি। আম গবেষণা কেন্দ্রে রোগতত্ত্ববিদ ও কীটতত্ত্ববিদ না থাকায় এসব ক্ষেত্রে গবেষণা ব্যাহত হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমরা গবেষণা কেন্দ্রটিতে বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তাদের শূন্যপদ পূরণের পাশাপাশি গবেষণাগারগুলোকে আধুনিক করার দাবি জানাই। এ ছাড়া আম উৎপাদন ও ব্যবস্থাপনায় যেসব দেশ এগিয়ে রয়েছে, সেসব দেশে এ কেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণে পাঠানো দরকার বলেও মনে করি।’

মাত্র দুইজন বিজ্ঞানী দিয়ে খুঁড়িয়ে চলছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম গবেষণা কার্যক্রম। এ কারণে গবেষণার গতি অনেকটাই মুখ থুবড়ে পড়েছে। অভিজ্ঞ বিজ্ঞানীরা অনেকেই অবসরে, অনেকে ভিন্ন কেন্দ্রে ভিন্ন কোনো ফল-ফসলের গবেষণায় বদলিকৃত। ফলে বার বার বাধাগ্রস্ত হয়েছে গবেষণার ধারা। সেই সাথে বিদেশী বিশেষজ্ঞ বা বহির্বিশ্বের সাথে প্রযুক্তি বিনিময় ও বিদেশ সফর না থাকায় দীর্ঘ মেয়াদি গবেষণা উৎকর্ষতা লাভ করছে না।
১৯৮৫ সালে আম গবেষণা কেন্দ্র পাঁচ বছর মেয়াদি একটি প্রকল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছিল। একজন ভারতীয় বিজ্ঞানীসহ দেশীয় চারজন বিজ্ঞানীর মাধ্যমে গবেষণা যাত্রা শুরু করে। প্রারম্ভিক গবেষণায় নেতৃত্ব দেন প্রথিতযশা আম বিজ্ঞানী ড. আবদুল জলিল ভূঁইয়া। প্রকল্পটি ১৯৯৯০ সালে আরো পাঁচ বছর মেয়াদে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয়। ২০০১ সালে এটি রাজস্ব খাতে অন্তর্ভুক্ত হয়। তখন এটিকে আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্র হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ফলে মৌলিকত্ব হারিয়ে আম ছাড়াও গবেষণায় স্থান পায় বিভিন্ন ফল-ফসল। এ সময় জনবল কাঠামোয় ১৪ জন বিজ্ঞানী কেন্দ্রে গবেষণার কাজ করতেন। পরে জনবল কাঠামোয় পরিবর্তন এনে পদের সংখ্যা কমিয়ে করা হয়েছে ১০ জন বিজ্ঞানির পদ। কিন্তু বাস্তব অবস্থা হলো ১০ জনের স্থলে বর্তমানে কর্মরত আছেন তিনজন। এর মধ্যে মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তার পদটি হচ্ছে প্রশাসনিক পদ। তাকে দাপ্তরিক কাজেই ব্যস্ত থাকতে হয়। ফলে দু’জন বিজ্ঞানী নির্ভর হয়ে পড়েছে আম গবেষণা কার্যক্রম। এ ব্যাপারে আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্র তথা আম গবেষণা কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো: শফিকুল ইসলামের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনিও জানান যে বর্তমানের জনবল দিয়ে গবেষণা ঠিকমতো চালানো যায় না।। তার ভাষায় গবেষণা থেমে নেই, তবে গতি অনেক ধীর। তিনি জানান, এ ধরনের গবেষণার জন্য কয়েক ধরনের লোকবল প্রয়োজন। এর মধ্যে রয়েছে হর্টিকালচারিস্ট,প্যাথলজিস্ট, কীটতত্ত্ববিদ, ফসল সংগ্রহোত্তর ব্যবস্থাপনাবিদ ও মৃত্তিকা বিজ্ঞানী। কিন্তু এখানে হর্টিকালচারিস্ট ছাড়া আর কোনো বিজ্ঞানী নেই। ফলে গবেষণা পূর্ণাঙ্গতা লাভ করছে না। বিগত ২৫ বছরে এ কেন্দ্রে কীটতত্ত্ববিদ ছাড়াই চলছে কার্যক্রম। তিনি জানান, এখানকার বিজ্ঞানীদের গবেষণালবদ্ধ জ্ঞান উন্নত বিশ্বের আম বিজ্ঞানীদের সাথে বিনিময়ের সুযোগ নেই। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, রিসার্চের বিজ্ঞানীদের বিদেশ ট্যুর নেই কিন্তু এক্সটেনশন বিভাগ ঠিকই বিদেশ সফর করছে। এই বৈষম্য থেকে বিজ্ঞানীদের গবেষণার মনোবৃত্তি নষ্ট হচ্ছে। ভারত, পাকিস্থান, চীন, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম আম গবেষণায় অনেক এগিয়ে যাচ্ছে। সে তুলনায় এখানকার অবস্থা খুবই হতাশাব্যঞ্জক। জনবল সঙ্কটের বিষয়টি তিনি একাধিকবার ঊর্ধ্বতন মহলে অবহিত করেও কোনো প্রতিকার পাননি বলে জানান।
গাছ আছে, আম আছে। শুধু নেই গবেষণা
আমের জাত উন্নয়নের লক্ষ্যে দেশীয় জাতের সাথে বিদেশী জাতের হাইব্রিডাইজেশন বা শংকরায়ন নিয়ে ভারতীয় আম বিশেষজ্ঞ সিপিআইআর’র নেতৃত্বে একটি গবেষণার সূত্রপাত হয়েছিল ১৯৯৩ সালে। ১৬টি শংকারিয়ত চারা নিয়ে গবেষণা শুরু হয় বলে জানা যায়। সেই গবেষণার হাল ধরেছিলেন ১৯৯৫ সালে তৎকালীন বৈজ্ঞানিক কর্মকতা এবং বর্তমান প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও কৃতী বিজ্ঞানী ড. জমির উদ্দিন। দীর্ঘ ১৭ বছর গবেষণার পর ২০০২ সালের অক্টোবরে হাইব্রিড ০১৭ নামের একটি নতুন জাত নিয়ে সে সময় বেশ আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছিল। ২০০৩ এ সেটি বারি আম-৪ নামে জাত অবমুক্ত হয়। পরে আরো কয়েকটি রঙিন হাইব্রিড জাতের আম গবেষণায় সম্ভাবনা ও আগ্রহের সৃষ্টি করে। এগুলোর মধ্যে বেশি মিষ্টির হাই-০৫৮, কম মিষ্টির হাই-০৫৯, জুসের উপযোগী হাই-০৩৪ এবং বাইচান্স সিডলিং উল্লেখযোগ্য। এর মধ্যে বাইচান্স সিডলিং জাতটি নতুন রঙিন জাত হিসেবে অবমুক্তির তালিকায় স্থান পেলেও অজ্ঞাত কারণে সে প্রক্রিয়া আলোর মুখ দেখেনি। অন্য তিনটি রঙিন জাতের গাছ গবেষণা মাঠে রয়েছে। এ বছর ফলও ধরেছে। ড. জমির উদ্দিন অন্য কেন্দ্রে বদলি হয়ে যাওয়ায় গবেষণা যায় থেমে। অবশ্য রঙিন জাত নিয়ে গবেষণার কোনো অগ্রগতি না থাকা সত্ত্বেও গবেষণা থেমে থাকার বিষয়ে একমত হননি কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা। আশার কথা হলো মাঝখানে এই বিজ্ঞানী কেন্দ্রচ্যুত হলেও আবারো কেন্দ্রে ফিরে এসেছেন এবং প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা হিসেবে সম্প্রতি যোগদান করেছেন। এখানে উল্লেখ্য, দীর্ঘ গবেষণার ধারাবাহিকতায় এ কেন্দ্র থেকে এ পর্যন্ত আমের ৮টি জাত অবমুক্তি হয়েছে। এ গুলো হলোÑ বারি-১ (সিলেকশন), বারি-২ (সিলেকশন), বারি-৩ (প্রবর্তিত), বারি-৪ (শংকরায়িত), বারি-৬ (সিলেকশন-বউ ভোলানি), বারি-৭ (রঙিন-সিলেকশন-আপেল ম্যাংগো), বারি-৮ (সিলেকশন), বারি-৯ (সিলেকশন-কাঁচা মিষ্টি)।
আম থেকে লেবু বিজ্ঞানী
আম গবেষায় একটি উজ্জ্বল তারকার নাম ড. সরফ উদ্দিন। তার হাত ধরে আমের শুধু ব্যাপক বিস্তৃতিই বাড়েনি উপরন্তু চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম প্রবেশ করেছে ভৌগোলিক সীমারেখা ছেড়ে বিদেশের রফতানি বাজারে। তিনি গবেষণার হাল ধরেছিলেন ২০০৬ সালে। এরপর ২০১০ থেকে ১৪ পর্যন্ত আমের ওপর উচ্চতর গবেষণা ও পিএইচডি করতে যান চীনে। ফিরে এসে আবারো গবেষণায় আত্মনিয়োগ করেন। গবেষণায় তার প্রথম সফলতাটি ছিল আমকে মাছি পোকার দমনে ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতির উদ্ভাবন। বিষমুক্ত ও নিরাপদ আম চাষের লক্ষ্যে উদ্ভাবিত এই প্রযু্িক্ত বিদেশে আম রফতানির সম্ভাবনার দুয়ারও খুলে দিয়েছিল। এ সংক্রান্ত গবেষণাটি সফল হওয়ার পর ২০১৬ সাল থেকে এর বাণিজ্যিক ব্যবহার শুরু হয়। এ পদ্ধতির উল্লেখযোগ্য উপকার হচ্ছে আম চাষে বালাইনাশকের ব্যবহার হ্রাস পায়। প্রায ৯০ ভাগ পর্যন্ত বালাই নাশকের ব্যবহার কমে যায়। যাতে এক দিকে যেমন আম চাষে ঝঁকি হ্রাস পায় অন্য দিকে বাহুল্য খরচ কমে যায়। এরপর তার প্রচেষ্টায় ২০১৫-১৬ তে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে প্রথমবারের মতো বিদেশে আম রফতানি শুরু হয়। সেই ধারাবাহিকতা এখনো রয়েছে। বিখ্যাত খিরসাপাতকে জিআই পণ্য হিসেবে নিবন্ধনের কাজটি সম্পন্ন হয়েছে তার হাত ধরেই। বর্তমানে লাংড়া, আশ্বিনা ও হাড়িভাঙ্গা আমের নিবন্ধনে তিনি ভূমিকা রেখে যাচ্ছেন বলে জানা যায়। তিনিই প্রথম বাংলাদেশের ১৪টি গুরুত্বপর্ণ আম জাতের জেনোসিক সিকোয়েন্স শনাক্ত করেছেন এবং এদের তথ্য উপাত্ত আমেরিকাভিত্তিক এনসিবিআই সংস্থায় দাখিল করেছেন। জাতগুলো হলোÑ বারি আম ১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬, ৭ ও ৮ গোপালভোগ, খিরসাপাত, ল্যাংড়া ফজলি, আশ্বিনা ও মল্লিকা। এই দালিলিক প্রমাণ জাতগুলোর জিআই পণ্যের স্বীকৃতিতে সহায়ক হবে বলে জানা যায়। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো যে, এই গুণী বিজ্ঞানী ২০১৮ সালে কেন্দ্রচ্যুত হয়ে বদলি হয়েছেন আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্র আকবরপুর মৌলভীবাজারে। আম রফতানিতে সংশ্লিষ্ট একটি মহল চাঁপাইনবাবগঞ্জের চেয়ে অগ্রধিকার দিচ্ছিল মেহেরপুর অঞ্চলের আমকে। এই নিয়ে জোরালো প্রতিবাদই তার জন্য কাল হয়েছিল বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়। ফলে অনেকটাই বাধাগ্রস্থ হয়েছে আম নিয়ে চলমান গবেষণা। আম ছেড়ে সেখানে তিনি এখন গবেষণা করেন লেবু নিয়ে। এ বিষয়ে ড. সরফ উদ্দিনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি জানান সংশ্লিষ্ট একজন বিজ্ঞানী হিসেবে তার অভিমত হচ্ছে আম এমন একটি ফল যার জন্য দীর্ঘমেয়াদি বহুবিধ গবেষণার প্রয়োজন হয়। বিশেষজ্ঞ বিজ্ঞানীদের দিয়েই আম উৎপাদন কেন্দ্রিক গবেষণা পরিচালিত হয়। গবেষণার ধারাবাহিকতা একবার ব্যাহত হলে গবেষকের মানসিকতা এবং গবেষণাকৃত তথ্য-উপাত্ত দুটোই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
থেমে গেছে প্রদর্শনী
আম গবেষণা কেন্দ্রের গৃহীত আম প্রদর্শনী প্রকল্পটি অজ্ঞাত কারণে থেমে গেছে। ভালো জাতের আম সংগ্রহ করে তা গবেষণার মাধ্যমে পরে বাণিজ্যিক চাষাবাদের জন্য জাত মুক্তায়ন করার লক্ষ্য নিয়ে ১৯৯৩ সালে ও ২০০৮ সালে এ কেন্দ্রের তত্ত্বাবধানে দু’টি প্রদর্শনী হয়েছিল। ১৯৯৩ সালের প্রদর্শনীর মাধ্যমে সংগৃহীত আম থেকে পরে বারি ১, ২ ও ৩ জাত মুক্তায়িত হয়েছিল। ২০০৮ সালের রঙিন জাতের আম প্রদর্শনী থেকে বারি ৭ জাত মুক্তায়িত হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানীরা জানান সারা দেশের মধ্যে ছড়িয়ে ছিটিয়ে অসংখ্য আম জাত রয়েছে। ধারাবাহিক প্রদর্শনীর মাধ্যমে এসব জাত খুঁজে নিয়ে এসে গবেষণা হলে ব্যক্তি ও দেশ উভয়েই উপকৃত হবে।

http://www.dailynayadiganta.com/last-page/408936/%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0-%E0%A6%A6%E0%A7%81%E0%A6%9C%E0%A6%A8-%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%9C%E0%A7%8D%E0%A6%9E%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%80-%E0%A6%A6%E0%A6%BF%E0%A7%9F%E0%A7%87-%E0%A6%9A%E0%A6%B2%E0%A6%9B%E0%A7%87-%E0%A6%9A%E0%A6%BE%E0%A6%81%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%87%E0%A7%9F%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%86%E0%A6%AE-%E0%A6%97%E0%A6%AC%E0%A7%87%E0%A6%B7%E0%A6%A3%E0%A6%BE-%E0%A6%95%E0%A7%87%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%B0

আমটির নাম মাহালিশা। তবে এটা যে আম, প্রথম দেখাতে তা মনেই হবে না। কিছুটা কলা আর শসার আদলের। লম্বায় পাঁচ ইঞ্চি, বেশ সরু। পেকে গেলেও হলদে ভাবটা বেশ কম। তবে স্বাদে বেশ মিষ্টি, আঁশও কম। আম মনে না হলেও এর দাম বেশ চড়া। প্রতি কেজির দাম ৪০০ টাকা।
রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে আয়োজিত তিন দিনের জাতীয় ফল প্রদর্শনীতে মাহালিশা আমই সবচেয়ে দামি—এমন দাবি করছেন গ্রিন টাচ অ্যাগ্রো ফার্মের স্বত্বাধিকারী মো. শাহাজ উদ্দিন। প্রদর্শনীর প্রবেশমুখেই তাঁর স্টল। যেখানে সাজিয়ে রাখা মাহালিশা আম।
দাম বেশি কেন?—জানতে চাইলে শাহাজ উদ্দিন বেশ দীর্ঘ বর্ণনা দেন। যার সারসংক্ষেপ হলো, মাহালিশা আমটির জন্মস্থান থাইল্যান্ডে। সেখানে এটি ‘বানানা ম্যাঙ্গো’ নামে পরিচিত। সন্ধান পেয়ে শখ করে সেখান থেকে দুই হাজার টাকায় এর চারা কিনে দেশে আনেন তিনি। বছর চারেক আগে ৭০টি মাহালিশার চারা রোপণ করেন খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলার জালিয়াপাড়ায় নিজের বাগানে। এক বছরের তরতর করে বড় হতে থাকে এর চারাগুলো। গাছে ধরে যায় মুকুল। কিন্তু বেশ কিছু গাছ দুর্বল হয়ে যায়। এ জন্য অন্য কয়েকটি গাছের মুকুল ফেলে দেওয়া হয়। মুকুল রেখে দেওয়া গাছগুলো হৃষ্টপুষ্ট হয়ে যায়। পরিচর্যা করে পরের বছর একেকটি গাছ থেকে ২৫-৩০টি মাহালিশা আম পাওয়া যায়। তাঁর আশা, গাছগুলোর বয়স পাঁচ-সাত বছর হলে প্রতিটি গাছ থেকে হাজার খানেক আম পাওয়া যাবে। তখন মাহালিশা আমের দাম কমে আসবে। একেকটি মাহালিশার ওজন তিন শ থেকে সাড়ে তিন শ গ্রাম।
আম উৎপাদনে থেমে যাননি শাহাজ উদ্দিন। জালিয়াপাড়ার ৪০ একরের বাগানের একটি বড় অংশে মাহালিশার চারা উৎপাদনের কাজ চলছে। ফল প্রদর্শনীতে প্রতিটি চারা বিক্রি করা হচ্ছে ৫০০ টাকায়। জানালেন, মাহালিশা বাংলাদেশের আবহাওয়া উপযোগী। স্বাদেও মিষ্টি। এ দেশের আমের মৌসুমে এর পূর্ণতা আসে।
মাহালিশার আকারের ঠিক বিপরীত কুমড়াজালি আমটি। আকারে এটি বেশ মোটাসোটা, গোলগাল; রং গাঢ় সবুজ। চালকুমড়ার মতো দেখতে প্রতিটি কুমড়াজালি আমের ওজন হয় ছয় শ থেকে সাত শ গ্রাম। জাতীয় ফল প্রদর্শনীতে কুমড়াজালি আম পাওয়া যাচ্ছে মেসার্স মৌসুমি নার্সারি ও ফল বিতানের স্টলে।
প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা তানভীর হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, চারা লাগানোর পর তিন বছরের মধ্যে কুমড়াজালি আম পাওয়া যায়। প্রথমে এর সংখ্যা কম থাকবে। বয়স বাড়লে আমও বেশি ধরবে গাছে। এই আমটি তাঁরা রাজশাহীতে উৎপাদন করছেন। খোসা মোটা হলেও আমের আঁটি চিকন। স্বাদে মিষ্টি। দাম কেজিপ্রতি ৭০ টাকা।

কুমড়াজালি আম। ছবি: প্রথম আলোকৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবদুল্লাহেল বাকী জানান, জাতীয় ফল প্রদর্শনীতে আছে ১০৫ জাতের আম। এখন আমের মৌসুম। প্রচুর আম উৎপাদন হয়েছে সারা দেশে। তাই বেশির ভাগ স্টলে আমের বিক্রি বেশি।
প্রদর্শনীতে মাহালিশা কিংবা কুমড়াজালি নয়; মোহনবাঁশি, ছাতাপড়া, মাদ্রাজী তোতা, বোম্বাই খিলশপাত, মধুভোগ, দুধসর, নাগফজলি নামে অসংখ্য অচেনা আমের দেখা মিলেছে। এ ছাড়া চিরচেনা হিমসাগর, আম্রপালি, বোম্বাই, লক্ষণভোগ, হাড়িভাঙ্গা, চোসা, হাড়িপছন্দ আম তো আছেই।

 

সুত্র: https://www.prothomalo.com/bangladesh/article/891757

ছবি: রুপক

Monday, 16 December 2019 10:44

আমের নাম নূরজাহান

Written by

আম খেতে ভালোবাসেন না, এ দেশে এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া মুশকিল! এখন আমের ভরা মরসুম। কাঁচা হোক বা পাকা, প্রায় প্রতিদিনের বাজারের সঙ্গেই আম আসছে বাড়িতে। তাপমাত্রার পারদ যখন ক্রমশ উর্দ্ধমুখী, তখন বেড়ে চলা গরমের জ্বালা এখানকার মানুষ অয়ায়াসে ভুলতে পারে যদি পাতে থাকে ল্যাংড়া, ফজলি, আম্রপালি বা হিমসাগর আমের মোলায়ম কয়েক টুকরো। কিন্তু এমনও আম রয়েছে যেটি আকারে, আয়তনে হার মানাতে পারে যেকোনো জাতের আমকে। এই আমের একেকটি লম্বায় প্রায় ১ ফুট! এর স্বাদ আর গন্ধও অপূর্ব! বিশেষ এই আমের নাম নূরজাহান।

‘আম দুনিয়া’র বাদশাহ যদি ‘কহিতুর’ হয়, তাহলে নূরজাহানই হলো এর একমাত্র জুড়িদার! ইদানীং আম-উৎসবের মধ্যে দিয়ে পরিচিতি বাড়ছে এই বিশেষ আমটির। কহিতুরের দামেরও সঙ্গে নূরজাহানের দামেরও কিছুটা ফারাক রয়েছে। হিমসাগর, ল্যাংড়া, গোলাপখাসের মতো আমের দর যেখানে ৩০ থেকে ৫০ টাকা কেজি, সেখানে একটি নূরজাহানের দাম প্রতি কেজিতে ২৫০ থেকে ৩০০ রুপি! চাহিদা বাড়লে একেকটি নূরজাহানের দাম প্রায় ৬০০ টাকায় পৌঁছে যায়।

নূরজাহানের দেশ আফগানিস্তান হলেও ভারতেও এই আমের গাছ রয়েছে, তবে তা হাতে গোনা। মধ্যপ্রদেশের আলিরাজপুর জেলার কাত্থিওয়াড়া অঞ্চলে এই জাতের কয়েকটি গাছ রয়েছে। নূরজাহানের গাছের সংখ্যা আর ফলন এতটাই সীমিত যে, গাছে থাকতেই এই আমের আগাম বুকিং শুরু হয়ে যায়। একটা গাছে খুব বেশি ফল ধরারও উপায় নেই। কারণ, একেকটা নূরজাহান আমের ওজন হয় প্রায় ২.৫ থেকে ৩ কিলোগ্রাম! শুনলে অবাক হবেন হয়তো, এই আমের আঁটির ওজনই প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ গ্রাম।

জানুয়ারি মাস থেকেই নূরজাহান গাছগুলোতে মুকুল ধরতে শুরু করে। জুন মাসের মধ্যে সম্পূর্ণ পেকে যায় নূরজাহান। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, আবহাওয়ার তারতম্যের কারণে বিগত ১০ বছরে নূরজাহান আকৃতিতে ক্রমশ ছোট হচ্ছে, কমেছে ফলনও। তবে এখনো এর কদর একটুও কমেনি।

স্বাস্থ্যকর খাবার হিসেবে ফলের তুলনা নেই। ফল সুস্বাদু ও কোলেস্টেরলমুক্ত। প্রচুর আঁশযুক্ত, ভিটামিন ও খনিজ লবণসমৃদ্ধ বলে সব বয়সের মানুষই খেতে পছন্দ করে। ইংরেজিতে একটি প্রবাদ আছে, ‘অ্যান অ্যাপল আ ডে কিপস দ্য ডক্টর অ্যাওয়ে অর্থাৎ প্রতিদিন একটি আপেল খেলে চিকিৎসকের প্রয়োজন হয় না’। অনেক ফলই আমাদের প্রিয়। অবশ্য কিছু থাকে পছন্দের শীর্ষে। পৃথিবীর বেশিরভাগ মানুষ কোন ফল খেতে পছন্দ করে তার তালিকা করেছে দ্য টপ টেনস। সবচেয়ে জনপ্রিয় ১০ ফল নিয়েই আজকের আয়োজন-

১.স্ট্রবেরি: সর্বকালের সবচেয়ে সেরা ফলের নাম স্ট্রবেরি! কারণ, শিশু, কিশোর, যুবক, প্রবীণ সবার মুখেই নাকি মুহূর্তেই হাসি ফোটাতে পারে এ ফল। গোলাপ পরিবারের ফলটি বাণিজ্যিকভাবে প্রচুর পরিমাণে চাষ করা হয়। প্রায় সব আবহাওয়াতে জন্মানোর উপযোগী স্ট্রবেরি মিষ্টিসহ নানা স্বাদের হতে পারে। বাংলাদেশে প্রায় ২০টি জেলায় চাষ হচ্ছে।

২. আম: ফলের জগতে আম অতুলনীয়। স্বাদে, গন্ধে, রঙে যেমন বিচিত্র তেমনি নামেও। গোপালভোগ, ক্ষিরসাপাতি, আম্রপালি, রাণীপছন্দ, ফজলি, ল্যাংড়াসহ রয়েছে নানা জাত। পুষ্টিগুণে অনন্য রসালো ফলটির আদিনিবাস ভারতীয় উপমহাদেশ। আম ভারত, পাকিস্তান, ফিলিপাইনের জাতীয় ফল এবং এর গাছ বাংলাদেশের জাতীয় বৃক্ষ।

৩. তরমুজ: গ্রীষ্মকালীন রসালো ফল। আফ্রিকা থেকে ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বের নানা প্রান্তে। ফল ছাড়াও সালাদ, জুস হিসেবে খাওয়া হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ওকলাহোমা কর্তৃপক্ষ তরমুজকে ‘রাজ্য সবজি’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।

৪. আপেল: গোলাপ পরিবারভুক্ত ফলটি প্রথম পাওয়া যায় মধ্য এশিয়ায়। মিষ্টি স্বাদের জন্য জনপ্রিয় বিশ্বজুড়ে। আপেল নিয়ে রয়েছে ধর্মীয় ও পৌরাণিক নানা কিংবদন্তি। অস্ট্রিয়া ও জার্মানির জাতীয় ফল আপেল।

৫. কলা: সহজলভ্য ফলের তালিকায় এক নম্বরে কলা। ফলন হয় সারা বছর। পুষ্টির জন্য তুলনাহীন। আদিনিবাস দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া। বাংলাদেশসহ বহু দেশেই প্রচুর পরিমাণে কলা উৎপাদিত হয়।

৬. আঙ্গুর: স্বাদের জন্য আঙ্গুরের স্থান অনেকের পছন্দের শীর্ষে। ফল ছাড়াও জেলি, জুস তৈরিতে ব্যবহার হয়। আঙ্গুর চাষের ইতিহাস ৬ থেকে ৮ হাজার বছরের। কাঁটাযুক্ত গাছে থোকায় থোকায় ফল। ভিটামিন ও খনিজ উপাদানে সমৃদ্ধ।

৭. আনারস: মৌসুমী ফলটি আমাদের দেশে প্রচুর পরিমাণে হয়। উৎপত্তি দক্ষিণ আমেরিকায়। রসালো আনারসের পুষ্টিগুণ অনন্য। বৈশ্বিক উৎপাদনে শীর্ষে ব্রাজিল, কোস্টারিকা, ফিলিপাইন।

৮. কমলা: চার হাজার বছর পূর্বে চীনে কমলার চাষ শুরু হয়। বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ফলটি পৃথিবীর প্রায় সর্বত্র পাওয়া যায়। বাংলাদেশের সিলেট, পার্বত্য চট্টগ্রাম, রংপুর, পঞ্চগড়ে কমলা চাষ হয়। ফল এবং জুস হিসেবে খাওয়া হয়।

৯. রাস্পবেরি: ফলের রঙ লাল, কালো বা হলুদ হতে পারে। স্বাদে হালকা মিষ্টি বা টক। ফল চর্বিমুক্ত এবং আঁশে পরিপূর্ণ। উৎপাদনে এগিয়ে রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, পোলান্ড।

১০. পিচ: শীতপ্রধান দেশের ফল। উৎপত্তি চীনে। সেদেশেই বর্তমানে প্রায় ৫৮ শতাংশ ফলন। এছাড়া স্পেন, গ্রিস, দক্ষিণ কোরিয়া, ভিয়েতনাম ও যুক্তরাষ্ট্রে জন্মে। গোলাপি ফুলের সৌন্দর্যও দেখার মতো।

আপনার বাগানের ফল বা বাদামজাতীয় শস্যকে ফ্রুট-ফ্লাই ও অন্যান্য পোকামাকড়ের আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে উইভার-পিঁপড়া সহায়তা করে। এ-জাতের পিঁপড়া যদি আপনার বাগানে না থাকে, তবে কোনো উইভার-পিঁপড়ার কলোনি থেকে বাসাসহ তা সংগ্রহ করে আপনার ফল গাছে ছেড়ে দিন। একগাছ থেকে আরেক গাছে এ পিঁপড়া যেন যেতে পারে, সেজন্য এক গাছের ডালের সাথে আরেক গাছের ডাল সংযুক্ত করে দিন বা গাছগুলোর মাঝে কোনো ডাল বা লাঠি বেঁধে দিন, যাতে সেগুলো ব্যবহার করে পিঁপড়াগুলো যাতায়াত করতে পারে। যদি দেখেন যে, কোনো গাছে পিঁপড়াগুলো নিজেদের মধ্যে মারামারি করছে, তবে বুঝবেন তারা আলাদ কলোনির বাসিন্দা। এ ক্ষেত্রে দু-গাছের মধ্যে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিন ; যেকোনো একটি গাছের সংযোগ স্থাপনকারী ডাল কেটে দিন। ফল পাড়ার সময় আপনি যে ডালে চড়বেন, সে ডালে ছাই ছিটিয়ে দিন, অথবা আপনার নিজের হাতে ও পায়ে ছাই মেখে নিন।

মিষ্টি খেতে কে না পছন্দ করে? ছোট থেকে বড় সব বয়সী মানুষ কম বেশী মিষ্টি খায়। এমনকি অতিথী সেবাও হয় মিষ্টিতে। তাছাড়া বিভিন্ন অনুষ্ঠানে মিষ্টি থাকা যেন বাধ্যতামূলক হয়ে দাঁড়িয়েছে আর খুশির খবরে মিষ্টি না হলে চলেই না। পরীক্ষার রেজাল্ট থেকে বিয়ে পর্যন্ত সব রকম শুভ কাজেই মিষ্টি লাগে। আর এই বিভিন্ন জেলার মিষ্টি নিয়ে ব্যবসা করে সফল হয়েছেন উদ্যোক্তা মোঃ সাইদুর রহমান। উদ্যোক্তা সাইদের  উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার গল্প চলুন জানিঃ 

 

এক দিন গ্রামের বাড়িতে ই-কমার্স নিয়ে আলোচনা করছিলেন কালাম নামের এক ভাইয়ের সাথে সাইদ ও সাইদের পার্টনার হাসান। সাইদ ও হাসানের কাছে কালাম জানতে চায়, ভাই অনলাইনে অনেক কিছু বিক্রি হয় শুনেছি; আম বিক্রি করা যাবে? দুই উদ্যোক্তা জানালেন কেমিক্যাল ফ্রি ও ভাল আমের চাহিদা ঢাকাতে অনেক বেশী। এরপর কালামের সহযোগিতায় সাইদ ও হাসান একটি নিদিষ্ট পরিমাণ আম বিক্রি করেন এবং ক্রেতাদের কাছে খুব ভাল সাড়া পান।

 

মোঃ সাইদুর রহমান পড়াশোনা করেছেন একটি বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে ইনফরমেশন এন্ড টেলিকমিউনিকেশন নিয়ে। চাকরি করছেন ‘অরেঞ্জ বিজনেস সার্ভিস’ প্রতিষ্ঠানে; এসিস্টেন্ট ম্যানেজার হিসেবে।

 

 

সাইদ কিছু দিন অনালাইন ঘাটাঘাটি ও খালাতো ভাই হাসানের সহোযোগীতায় ২০১৬ সালে তিন হাজার একশত টাকা নিয়ে শুরু করলেন অনলাইন ব্যবসা। অনলাইনে খাবার, মিষ্টি ও মসলা জাতীয় আইটেম নিয়ে অনলাইন বাজার যার নাম দিলেন মসলামার্টডটকম (www.moshlamart.com)

 

মেহেরপুরে জন্ম ও বেড়ে ওঠার সুবাদে ভাল পণ্য খুঁজে বের করার জন্য হাসান ও সাইদের কাছে মেহেরপুরকে ভাল জায়গা মনে হয়েছে কারণ সেখানে তাদের বড় হওয়া এবং অনেকেই পরিচিত আছেন।
প্রথম দিকে মেহেরপুরের বিখ্যাত মিষ্টি সাবিত্রী, মধু, ঘি, মৌসুমি ফল, খেজুর গুড় নিয়ে কাজ শুরু করলেও ভবিষ্যতে অনলাইনে মেহেরপুরের অর্গানিক সবজি, ফল, মাছ ও মাংস নিয়ে কাজ করার চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে জানান উদ্যোক্তা সাইদ।

 

 

সাইদ উদ্যোক্তা বার্তাকে জানান, ‘গত মৌসুমে ২০,০০০০ পিচ লিচু ও ১২,০০০ কেজির মত আম বিক্রি করেছেন অন্য সব ব্যবসার পাশাপাশি। প্রতি মাসে বিক্রয়ের পরিমাণ প্রায় ৪ লাখ টাকা এবং আম ও মৌসুমি ফলের সময় প্রায় ১২-১৫ লাখ টাকা।’

 

মশলামার্টে পাওয়া যায় মেহেরপুর সহ বিভিন্ন জেলার মিষ্টি, বিভিন্ন রকম ডাল, চাল, কুমড়াবড়ি, খেজুর গুড়ের পাটালি, সরিষার তেল, ঘি, বিভিন্ন মসলা, কালোজিরার তেল, আম, মাল্টা, লিচু, ড্রাগন ফল ইত্যাদি পণ্য। যার সর্বনিম্ন মূল্য ৬০ টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল্য ১৮০০ টাকা পর্যন্ত। মেহেরপুরের বিখ্যাত সাবিত্রী মিষ্টি সপ্তাহে তিন দিন ডেলিভারি দেন এই উদ্যোক্তা।

 

 

ব্যবসা করতে গিয়ে বাধার সম্মুখীন হয়েছেন বলে জানান সাইদ ‘খাবার ও ফল জাতীয় আইটেমের ডেলিভারিতে বড় সমস্যার মুখোমুখি হতে হয় এবং পুঁজি কম হবার কারণে বাইক বা বড় কোনো ট্রান্সপোর্ট ব্যবহার করতে পারেন না। রেন্টাল সার্ভিস ব্যবহার করা অনেক ব্যয়বহুল, যা আমরা ক্রেতার কাছে ডেলিভারি চার্জ হিসেবে চাইতে পারি না। এছাড়া পণ্য প্যাকেজিং একটা বড় খরচ ও চ্যালেঞ্জিং বিষয়। এছাড়া দক্ষ লোকবলের অভাব, ই-কমার্স নিয়ে পরিপূর্ণ জ্ঞানের অভাব প্রতিনিয়ত অনুভব করছেন বলে জানান সাইদ।’

 

 

 

ব্যবসার শুরু থেকে যে মানুষ সব চেয়ে বেশি সাহস যুগিয়েছেন তিনি খালাতো ভাই হাসান। পাশে থেকে ব্যবসা শিখিয়েছেন এবং এখন এক সাথেই ব্যবসা করছেন দুই ভাই।

 

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বলেন, অর্গানিক ফুড নিয়ে বৃহৎ ভাবে কাজ করা ইচ্ছা আছে। এছাড়া ফুড ডেলিভারিতে সমস্যাগুলো সমাধানের চেষ্টা করাই মূল লক্ষ্য।

 

 

সবাই যখন ভেজাল খাদ্যের ব্যবসা করে বড় হতে চায় ঠিক তখনি মশলামার্টের উদ্যোক্তারা চায় নির্ভেজাল খাবার, টাটকা ফল ছাড়াও ভেজালমুক্ত পণ্য সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে। যাতে করে এইগুলো খাওয়ার পর কেউ অসুস্থ হয়ে না পড়ে। সততা এবং বুদ্ধি দিয়ে কাজ করে সফল হয়েছেন সাইদ ও হাসান।

 

সুত্র: https://uddoktabarta.com/%E0%A6%9A%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%B0-%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%B6%E0%A6%BE%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%B6%E0%A6%BF-%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%AC%E0%A6%B8%E0%A6%BE-%E0%A6%95/

আধুনিক প্রযুক্তিতে বিশ্বের অন্যতম অবদান হল ঘরে বসে অনলাইনের মাধ্যমে পণ্য ক্রয় করা । সারা বিশ্বের মত বর্তমানে বাংলাদেশেও ই-কমার্স বিজনেস বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। দোকানে বা শপিং মলে না গিয়ে, নিজের পছন্দ মত পণ্য ঘরে বসে কিনতে অনেকে স্বাচ্ছ্যন্দবোধ করে। এতে সময় এবং শ্রম বেচে যায় তার সাথে ভালো মানের পণ্য টাও পাওয়া যায়। ই-কমার্স বিজনেসের জনপ্রিয়তার এটি অন্যতম কারণ বলতে পারেন। আজ আমি আলোচনা করব কিভাবে আপনি ঘরে বসে ই মৌসুমী ফল রাজশাহীর আমের বিজনেস করতে পারবেন। প্রথমেই বলে রাখি ‘বিজনেস করা শেখানো যাবে কিন্তু বিজনেস করার কৌশল শেখানো সম্ভব নয়’
কিভাবে শুরু করবেনঃ-
প্রথমে নিজে নিজে ই সিদ্ধান্ত নিন যে আপনি এই মৌসুমে আমের বিজনেস করবেন। হাতে কিছু টাকা নিয়ে নিন (কত টাকা নিয়ে নিবেন তা আপনার কাস্টমার কেমন জোগার করতে পারবেন তার উপর ডিপেন্ড করবে)। তারপড় খোঁজ নিন রাজশাহীর/চাঁপাই এর আম হোলসেল রেটে কারা বিক্রয় করছে এবার।(তাদের সর্ম্পকে জানার চেষ্টা করুন। তাদের সাথে সরাসরি ফোনে কথা বলুন। এবং এখানে আপনার জ্ঞানের কৌশল খাটান। তারা সত্যি কি বিজনেস করছে নাকি বাটপারি করবে। এটা আপনাকে যাচাই করে নিতে হবে।)
সব ঠিক-ঠাক থাকলে তাদের সাথে ফাইনালী কথা বলে নিন। যে কবে থেকে আম পাবো, কি ভাবে, পেমেন্ট কিভাবে, কোন ক্ষয়-ক্ষতি হলে, সার্পোট কেমন পাবো ইত্যাদি আলাপ করে নিবেন। তারপড় শুরু করে দিবেন কাস্টমার জোগার করা। কে কে রাজশাহীর/চাঁপাই এর আম কিনবে তাদের সাথে ডিল করুন (সর্ম্পন্ন পেমেন্ট নিয়ে নিতে পারলে আপনার ই ভাল)।
যাদের কাছ থেকে আম নিবেন তাদের সাথে যোগাযোগ রাখবেন + কাস্টমার জোগার করতে থাকুন। যে দিন আমের সিপমেন্ট আসবে তার ১ দিন আগে অর্ডার এবং টাকা পেমেন্ট করে দিন।(মনে রাখবেন আপনি যতটুকু কাস্টমার জোগার করতে পারবেন ততটুকু ই অর্ডার করবেন কারন আম ১ সপ্তাহের বেশি আপনি রাখতে পারবেন না)
১দিন কি ২ দিন পরে ই আপনি কুরিয়ার সার্ভিস থেকে আম গুলো সংগ্রহ করে নিয়ে ঐ দিন ই কাস্টমারদের হাতে পৌছে দিবেন(গাছ থেকে পেরে কাঁচা আম পাঠাবে আপনাকে So কাস্টমারের হাতে পৌছে যখন দিবেন তখন তারা আম গুলো ৩/৪ দিন রেখে খেতে পারবে।)
সবশেষে কাস্টমারের ফিডব্যাক নিন এবং পরবর্তি জাতের আম সর্ম্পকে কাস্টমার কে জানান যেন সে পরবর্তি জাতের আম ও ক্রয় করে। এই তো হয়ে গেল…
লাভঃ- হোলসেল রেটে আম কিনে আপনি কেজি প্রতি ১০ থেকে ১৫ টাকা বেশি বিক্রয় করতে পারবেন (তবে আপনি যদি আরো বেশি লাভে বিক্রয় করতে পাড়েন তাহলে তা আপনা ই লাভ। কাস্টমার কিন্তু নষ্ট করা যাবে না শুধু এটা মনে রাখবেন)
লসঃ- বিজনেসে লাভ লস এই ২টো থাকবে ই তবে % কম কিনবা বেশি। যাদের কাছ থেকে আপনি আম কিনবেন তাদের ১০০% ফ্রেন্ডলী সার্পোট যদি আপনি পান তাহলে লাভ/সফলতা ৯৯% নিশ্চিত। তাদের সাথে বন্ধু সূলভ সর্ম্পক গড়ে তুলুন এবং সব সময় তাদের উপর নজর রাখুন।

আর কি বলবো বিজনেস করে নিন এবারের আমের মৌসুমে…

Page 1 of 36