x 
Empty Product

রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনারকে এক সপ্তাহের মধ্যে এ নির্দেশ পালন করতে বলা হয়েছে।

এছাড়া ফলের বাজার ও আড়তগুলোতে নজরদারির পাশাপাশি কেউ যেন রাসায়নিক মিশিয়ে বাজারে ফল বিক্রি করতে না পারে, সে জন্য পুলিশ প্রধান, র‌্যাব মহাপরিচালক, বিএসটিআইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে (কেমিক্যাল টেস্টিং উইং) একটি তদারকি কমিটি করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আদেশের অনুলিপি পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে আদেশটি বাস্তবায়ন করে শিল্প সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, খাদ্য সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক, বিএসটিআইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, র‌্যাবের মহাপরিচালক, বিএসটিআইয়ের পরিচালক (কেমিক্যাল টেস্টিং উইং), রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার, পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি এবং এনবিআর চেয়ারম্যানকে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

আসন্ন আমের মৌসুম সামনে রেখে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস পিস ফর বাংলাদেশের আবেদনের প্রেক্ষিতে বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের হাই কোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।

গত মঙ্গলবার মৌখিক আদেশের পর রিটকারী পক্ষ ও রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবীরা সাত দিনের মধ্যে পুলিশ মোতায়েনের কথা বললেও লিখিত আদেশে নির্বাহী হাকিমের সঙ্গে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে নজরদারি করার নির্দেশনা দেখা যায়।  

এদিকে হাই কোর্টের আদেশটি স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ সোমবার চেম্বার আদালতে একটি আবেদন করলেও মঙ্গলবার তা প্রত্যাহার করার জন্য আবেদন করে। বিচারপতি মো. নূরুজ্জামানের চেম্বার আদালত তখন উত্থাপিত হয়নি মর্মে তা খারিজ করে দেয়। 

এর ফলে হাই কোর্টের আদেশটিই বহাল থাকছে বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার ও রিটকারী পক্ষের আইনজীবী মনজিল মোরসেদ।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বাশার সাংবাদিকদের বলেন, “হাই কোর্ট লিখিত আদেশ নিয়ে বলেছে, রাজশাহীসহ দেশের বড় আমবাগানগুলোতে যেন কেউ ক্ষতিকারক কেমিকেল প্রয়োগ করে জনস্বাস্থ্যের ক্ষতি করতে না পারে সে জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পুলিশ মনিটরিং করবে।

“আমরা দেখেছি হাই কোর্টের আদেশ আইনের সঙ্গে সম্পূরক এবং জনগণের স্বাস্থ্যসেবার জন্য অত্যন্ত সহায়ক। এ কারণে হাই কোর্টের আদেশ স্থগিত চেয়ে যে আবেদন করেছিলাম, সেটি প্রত্যাহার করে নিয়েছি।”

ফল পাকাতে ক্ষতিকর রাসায়নিকের প্রয়োগ রোধে হিউম্যান রাইটস পিস ফর বাংলাদেশের একটি রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে হাই কোর্ট ২০১২ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি একটি রায় দিয়েছিল।

মামলাটি চলমান রাখায় এ বছর আমের মৌসুম সামনে রেখে গত রোববার হাই কোর্টে আবেদন করে রিটকারী পক্ষ। যার প্রেক্ষিতে হাই কোর্ট এ আদেশ দিল।

রাজশাহী অঞ্চলের আম বাগানগুলোতে কেমিক্যাল ব্যবহার রোধে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী থাকবে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আম বাগানগুলো পর্যক্ষেণ করবে।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার এ কথা জানান।

হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন আজ মঙ্গলবার চেম্বার বিচারপতি মো: নুরুজ্জামানের আদালত থেকে প্রত্যাহারের পর তিনি এ কথা জানান।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার বলেন, হাইকোর্টের আদেশ সঠিক হয়েছে। এ কারণে আমরা স্থগিতের আবেদন প্রত্যাহার করে নিয়েছি।

এর আগে গতকাল রাজশাহী অঞ্চলের আম বাগানগুলোতে কেমিক্যাল ব্যবহার রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েনের নির্দেশ দিয়ে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত চেয়ে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ।

গত ৯ এপ্রিল রাজশাহী অঞ্চলের আম বাগানগুলোতে কেমিক্যাল ব্যবহার রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েনের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার ও রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজিকে আগামী সাত দিনের মধ্যে এ নির্দেশ বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে।

এক সম্পূরক আবেদনের প্রেক্ষিতে বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

একইসাথে ফলের বাজার ও গুদামগুলোতে যেন আমে কেমিক্যাল ব্যবহার করতে না পারে সে জন্য পর্যবেক্ষণ টিম গঠন করতে বলা হয়েছে। পুলিশের আইজি, বিএসটিআইয়ের চেয়ারম্যান, র‌্যাবের মহাপরিচালক এ আদেশ বাস্তবায়ন করে এক মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। আদালত বলেছেন, ক্ষতিকর কেমিক্যাল ব্যবহারের কারণেই মানুষের শরীরে রোগব্যাধি সৃষ্টি হচ্ছে।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ।

রাজশাহীসহ দেশের বড় আম বাগানগুলোতে ক্ষতিকর কেমিক্যাল ব্যবহার রোধে সাত দিনের মধ্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন নয়, একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সাথে পুলিশকে নজরদারী করতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

এদিকে আমের বাগানে ক্ষতিকর রাসায়নিকের ব্যবহার ঠেকানোর জন্য হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত চেয়ে সোমবার রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদনটি প্রত্যাহার করে নিতে চাইলে মঙ্গলবার আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. নূরুজ্জামানের চেম্বার জজ আদালত তা উত্থাপিত হয়নি বলে খারিজ করে আদেশ দেন।

ফলে হাইকোর্টের দেয়া আদেশ আপিল বিভাগে বহাল থাকছে বলে নিশ্চিত করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো.আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার ও রিটকারী পক্ষের আইনজীবী মনজিল মোরসেদ।

হাইকোর্টের লিখিত আদেশ হাতে পাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বাশার জাগো নিউজকে বলেন, ‘রাজশাহীসহ দেশের বড় আমবাগানগুলোতে যেন কেউ ক্ষতিকর কেমিক্যাল প্রয়োগ করে জনস্বাস্থ্যের ক্ষতি করতে না পারে সে জন্য একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পুলিশ বিষয়টি মনিটরিং করবে।

আমরা দেখেছি হাইকোর্টের আদেশ আইনের সঙ্গে সম্পূরক এবং জনগণের স্বাস্থ্য সেবার জন্য অত্যন্ত সহায়ক। তিনি জানান, হাইকোর্টের আদেশ সঠিক হয়েছে। এ কারণে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত চেয়ে যে আবেদন করেছি সেটি প্রত্যাহার করে নিয়েছি।’

রিটকারী পক্ষের আইনজীবী মনজিল মোরসেদ হাইকোর্টের লিখিত আদেশটি এখনও দেখেননি উল্লেখ করে জানান, ‘রাষ্ট্রপক্ষ হাইকোর্টের নির্দেশ স্থগিত চেয়ে চেম্বার আদালতে আবেদন করেছিলেন। আবেদনটি শুনানির জন্য উঠলে তা প্রত্যাহার করে নিতে চাইলে আদালত উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ করে দিয়েছেন।’

আইনজীবী মনজিল মোরসেদ আরও বলেন, ‘নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পুলিশ থাকলে বিষয়টি খুব ভালো হয়েছে। চাইলে ম্যাজিস্ট্রেট মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করতে পারবেন।’

আমে যেন কোনো ধরনের ক্ষতিকর রাসায়নিক প্রয়োগ না হয় সেটি নিশ্চিতে গত ৯ এপ্রিল রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের আম বাগানে পুলিশ মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে সাতদিনের মধ্যে রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার ও ডিআইজিকে এ নির্দেশ বাস্তবায়ন করতে বলা হয়।

এ ছাড়া ফলের বাজার ও আড়তে আমসহ অন্যান্য ফলে রাসায়নিক মেশানো বা ব্যবহার বন্ধ হচ্ছে কি না- তা নজরদারি করতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও র্যাবের সমন্বয়ে একটি পর্যবেক্ষণ টিম গঠন করতে বলা হয়। পুলিশের আইজি, বিএসটিআই, র্যাব মহাপরিচালককে এ আদেশ বাস্তবায়ন করে এক মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন আদালত।

আসন্ন আমের মৌসুমকে সামনে রেখে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের করা এক রিটের সম্পূরক আবেদনের শুনানি নিয়ে গত ৯ এপ্রিল বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ ওই আদেশ দেন।

আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ এবং রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ সাইফুল আলম।

২০১২ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের পক্ষে মনজিল মোরসেদের করা এক রিটের শুনানি শেষে হাইকোর্ট সাত দফা নির্দেশনা দেন। সেখানে আমের মৌসুমে রাসায়নিক ব্যবহার বন্ধ এবং একটি পর্যবেক্ষণ টিম গঠন করতে বলা হয়। যার ধারাবাহিকতায় নতুন করে আমের মৌসুম আসায় আইনজীবী মনজিল মোরসেদ হাইকোর্টে এক সম্পূরক আবেদন করে নির্দেশনা চান।

বাগানে থোকা থোকা আম দেখে ইতোমধ্যে দরদাম হাঁকছেন বেপারিরা। এবার এ এলাকায় বেশ আগেভাগেই আসে আমের মুকুল। কয়েক দফার বৃষ্টি, আমের জন্য সহায়ক ছিল। তাই ভাল ফলনের স্বপ্ন দেখছেন বাগান মালিকরা।

নওগাঁর বরেন্দ্র এলাকার সাপাহার, পোরশা, নিয়ামতপুরের আম বাগানগুলোতে এখন চলছে শেষ মুহূর্তের পরিচর্যা। ইতমধ্যে থোকা থোকা বাড়ন্ত আমগুলো শোভা ছড়াতে শুরু করেছে। এসব আমে ছত্রাক ও ঝরে পড়া রোধে বিভিন্ন বালাইনাশক প্রয়োগ করছেন বাগান মালিকরা। ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বেপারিরা এসে এসব বাগানের দরদাম হাঁকছেন। আর বাগান মালিকরা বলছেন, গেল বছরের চেয়ে এবার বেশি আম হবে এমন ধারণা রেখেই চলছে বাগান কেনা-বেচা।

এ আমের ভাল ফলন নিশ্চিত করতে বাগান মালিকদের নানা পরামর্শ দিচ্ছে কৃষি বিভাগ। শেষ মুহূর্র্তে কোন দুর্যোগ না হলে গতবারের চেয়ে দ্বিগুণ আম পাওয়ার আশা বাগান মালিকদের। পোরশা নওগাঁ উপজেলার কৃষি অফিসার মো. মাহফুজুল হক বলেন, এখন পর্যন্ত আবহাওয়া ভাল থাকায় ফলন ভাল হবে। জেলায় সাড়ে ১৫ হাজার হেক্টর জমির বাগান থেকে আড়াই লাখ টন আমের ফলন আশা করছে কৃষি বিভাগ।

উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী রাজশাহীর আম বাগানগুলোতে পুলিশের নজরদারি শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহ বিপিএম, পিপিএম । রবিবার (২১ এপ্রিল) বেলা ১১টায় এসপি কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এ তথ্য জানান।
অনুষ্ঠানে পুলিশ সুপার শহিদুল্লাহ বলেন, ‘রাজশাহী জেলার আম সারাদেশ ছাড়াও বিদেশে রফতানি হয়। এ কারণে আমে যাতে জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর-এমন কোনও কেমিক্যাল ব্যবহার না হয় তা নিশ্চিত করতে এরইমধ্যে বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। এছাড়া নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের নেতৃত্বে বিভিন্ন উপজেলার আম বাগানগুলো মনিটরিংয়ের আওতায় আনা হয়েছে।’
এসময় পুলিশ সুপার সাংবাদিকদের জেলা পুলিশের চলমান কার্যক্রম সম্পর্কে জানান। তিনি বলেন, ‘মাদক, জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশ কঠোর অবস্থানে থেকে কার্যক্রম পরিচালনা করছে।’ এক্ষেত্রে বিভিন্ন সময় তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার জন্য পুলিশ সুপার উপস্থিত সাংবাদিকদের ধন্যবাদ জানান। এছাড়া বর্তমানে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের সাইবার ক্রাইম থেকে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন রাজশাহীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহমুদুল হাসান ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ইফতেখায়ের আলম।

আম চাষ বিস্তৃত হচ্ছে বগুড়ায়। এ জেলায় আমের উৎপাদন বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে বাগানের আকার। আমের বাণিজ্যিক বাগান গড়ে তুলে জেলায় অনেকে সফলতাও পেয়েছেন। এছাড়া বাজারে ভালো দাম পাওয়া বগুড়ায় বাণিজ্যিকভাবে আম উৎপাদন বাড়ছে। আবহাওয়া ভালো থাকলে এবারো জেলায় আমের ফলন ভালো হবে বলে আশা করছেন চাষীরা।

বগুড়া আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বগুড়া, জয়পুরহাট, পাবনা ও সিরাজগঞ্জে আমের বাগান ছিল ৮ হাজার ১ হেক্টর। এর মধ্যে শুধু বগুড়ায় আম বাগান ছিল ৩ হাজার ৫৫৭ হেক্টর। ওই সময় চার জেলায় আম উৎপাদন হয়েছিল ৮৩ হাজার ২৪৪ টন, যার মধ্যে বগুড়ায় উৎপাদন হয়েছিল ৩১ হাজার ২২০ টন।

২০১৬-১৭ অর্থবছরে চার জেলায় আম উৎপাদন হয়েছিল ৯২ হাজার ১৪৫ টন, যার মধ্যে বগুড়ায় উৎপাদন হয়েছিল ৩৮ হাজার ৬৩৬ টন। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে চার জেলার ৮ হাজার ৯৫৪ হেক্টরের বাগান থেকে আম উৎপাদন হয়েছিল ১ লাখ ২৫ হাজার ১২১ টন। অর্থাৎ গত তিন বছরে এ অঞ্চলে আমের উৎপাদন বেড়েছে প্রায় ৪১ হাজার ৮৭৭ টন।

২০১৭-১৮ অর্থবছরে বগুড়ায় আম উৎপাদন প্রায় ৪২ হাজার টন। ওই সময় জেলায় আম বাগানের পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৭০০ হেক্টর। চলতি মৌসুমে জেলায় আম বাগানের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩ হাজার ৮০০ হেক্টর।

কৃষি কর্মকর্তারা জানান, বগুড়াসহ এ অঞ্চলের চার জেলায় এখন বাণিজ্যিকভাবে আম উৎপাদন হচ্ছে। শুধু বগুড়ায় চার শতাধিক ব্যক্তি বাণিজ্যিকভাবে আম উৎপাদন করছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে গত মৌসুমের তুলনায় এবার আমের ফলন বেশি হবে। এরই মধ্যে গাছে আমের গুটি বড় হতে শুরু করেছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ফরিদুল আলম জানান, বগুড়ায় ধীরে হলেও আমের আবাদ বাড়ছে। বিশেষ করে সদরের উঁচু জমিতে আম চাষ বাড়ছে। এছাড়া শেরপুর, ধুনট, নন্দীগ্রাম, শিবগঞ্জ, গাবতলী উপজেলায় আম চাষ হচ্ছে। আমের ফলন বৃদ্ধির জন্য চাষীদের বিভিন্ন বিষয়ে তথ্য ও পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করা হচ্ছে।

বগুড়া বনানী হর্টিকালচার সেন্টারে উপপরিচালক আব্দুর রহীম জানান, জেলায় প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ আমের চারা বিক্রি হয়। এ চারা নিয়ে অনেকেই বাগান তৈরি করছেন। হর্টিকালচার সেন্টার থেকে বারি-৪ ও উন্নত জাতের আম্রপলি চারা বিক্রি হয়েছে সবচেয়ে বেশি। এ জাতের আমের ফলন বেশি হয়, স্বাদও বেশ মিষ্টি। এছাড়া ক্ষীরশাপাতি, ল্যাংড়া, হাঁড়িভাঙ্গা, নাগফজলি, গোপালভোগ, ফজলি ও বারি আম-১১ জাতের আমের চারা বিক্রি হয়। এর মধ্যে বারি-১১ জাতের গাছে বছরে তিনবার আম পাওয়া যায়। এ কারণে জাতটিকে বারোমাসি আম বলা হয়।

সদরের বারোপুর এলাকার একটি বাণিজ্যিক আম বাগানের শ্রমিক মো. আমিরুল জানান, এবার গাছে আমের মুকুল ও গুটি ভালো দেখা যাচ্ছে। ঝড় তেমন একটা হয়নি। যে ঝড় হয়েছে, তাতে এখন পর্যন্ত বাগানের আম ভালো আছে। বেশি ঝড় হলে বাগানের ক্ষতি হয়। তিনি জানান, বাগানের আম পাকার সময় হলে কিছু ফল রেখে দিয়ে বাকি আম স্থানীয় ফল ব্যবসায়ীদের কাছে পাইকারিভাবে বিক্রি করে দেয়া হয়।

গাবতলী উপজেলার কাগইল এলাকার আম বাগানের মালিক আব্দুর রহিম জানান, মুকুল আসার পর থেকেই গাছের পরিচর্যা চলছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার আমের ভালো ফলন পাওয়া যাবে। গত বছর স্থানীয় বাজারে আম বিক্রি করে বাগান গড়ার খরচ উঠেছে। এ বছর কী হবে এখনো বলা যাচ্ছে না। সবেমাত্র মৌসুম শুরু হয়েছে।

রাজশাহীসহ দেশের বড় আম বাগানগুলোতে কেমিক্যাল ব্যবহার রোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েনে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত চেয়ে যে আবেদন করেছিলেন তা প্রত্যহার করে নিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ।

একই সঙ্গে একজন ম্যাজিস্ট্রেটের তদারকিতে পুলিশ পাহারার ব্যবস্থার নির্দেশ দিয়েছেন চেম্বার জজ আদালত। বিষয়টি নিশ্চিত করেন অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ।

মঙ্গলবার (১৬ এপ্রিল) রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদনের ওপর শুনানি শেষে আপিল বিভাগের বিচারপতি নুরুজ্জামানের চেম্বার জজ আদালত এ আদেশ দেন।

মনজিল মোরসেদ জানান, রাজশাহী অঞ্চলের আম বাগানগুলোতে কেমিক্যাল ব্যবহার রোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করতে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন প্রত্যহার করে নিয়েছেন।

গত সোমবার (১৬ এপ্রিল) হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ ওই আবেদনটি করে।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার জানান, হাইকোর্টের আদেশ সঠিক হয়েছে। এ কারণে আমরা স্থগিতের আবেদন প্রত্যাহার করে নিয়েছি।

রাজশাহীসহ দেশের বড় আমবাগানে কেমিক্যালের ব্যবহার রোধে সাতদিনের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তদারকি করতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।

গত ৯ এপ্রিল আমে যেন কোনো ধরনের ক্ষতিকর রাসায়নিক প্রয়োগ না হয় সেটি নিশ্চিতে রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের আম বাগানে পুলিশ মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে সাতদিনের মধ্যে রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার ও ডিআইজিকে এ নির্দেশ বাস্তবায়ন করতে বলা হয়।

এছাড়া ফলের বাজার ও আড়তে আমসহ অন্যান্য ফলে রাসায়নিক মেশানো বা ব্যবহার বন্ধ হচ্ছে কিনা- তা নজরদারি করতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও র্যাবের সমন্বয়ে একটি পর্যবেক্ষণ টিম গঠন করতে বলা হয়।

পুলিশের আইজি, বিএসটিআই, র‌্যাব মহাপরিচালককে এ আদেশ বাস্তবায়ন করে এক মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন আদালত।

এ সংক্রান্ত এক রিটের সম্পূরক আবেদনের শুনানি নিয়ে গত ৯ এপ্রিল বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ ওই আদেশ দেন।

আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ এবং রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ সাইফুল আলম।

২০১২ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের পক্ষে মনজিল মোরসেদের করা এক রিটের শুনানি শেষে হাইকোর্ট সাত দফা নির্দেশনা দেন। সেখানে আমের মৌসুমে রাসায়নিক ব্যবহার বন্ধ এবং একটি পর্যবেক্ষণ টিম গঠন করতে বলা হয়। যার ধারাবাহিকতায় নতুন করে আমের মৌসুম আসায় আইনজীবী মনজিল মোরসেদ হাইকোর্টে এক সম্পূরক আবেদন করে নির্দেশনা চান।



জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বৈরী আবহাওয়া ও পোকামাকড়ের আক্রমণে এ বছর আমের রাজ্য হিসেবে পরিচিত রাজশাহী অঞ্চলের আমবাগানগুলোতে ফলন কমে যাবার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় রোগবালাই থেকে আম রক্ষা করতে চাষিরা মরিয়া হয়ে আমগাছে কীটনাশক প্রয়োগ করতে শুরু করেছেন।

আমে বিষাক্ত রাসায়নিক ব্যবহার বন্ধে হাইকোর্টের একটি নির্দেশনার পর এ অঞ্চলের আমবাগানগুলোকে ইতিমধ্যেই প্রশাসনিক নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে। তবে বাগানগুলোতে গিয়ে দেখা যায় যে, আম উৎপাদনকারীরা স্থানীয় প্রশাসনের চোখ এড়িয়ে আমগাছে রাসায়নিক প্রয়োগ অব্যাহত রেখেছেন।

আম চাষিরা বলছেন বর্তমান সময়ে যখন আম কেবল গুটি থেকে ধীরে ধীরে বড় হতে শুরু করেছে তখন ফল গবেষকদের পরামর্শ অনুযায়ী এই রাসায়নিক ব্যবহার মানব দেহের জন্য ক্ষতিকর হবে না, কারণ আম বাজারে আসতে এখনো মাস-খানেকের বেশী সময় বাকী আছে।

ফল গবেষক ড. সরফ উদ্দিন বলেন, “এ বছর আম অনেক বৈরিতা সহ্য করছে। ফেব্রুয়ারির শেষে ও মার্চের প্রথমে মুকুল আসার সময় বৃষ্টিতে মুকুল ঝরে গেছে। এখন যখন আমগাছে ফল ফুটো করে দেওয়াসহ নানা রোগের প্রাদুর্ভাব হয়ে থাকে তখন তারা চাষিদের বিভিন্ন বৈধ কীটনাশক ব্যবহারের পরামর্শ দিয়ে থাকেন। তবে রোগ না হলে এটা ব্যবহারের প্রয়োজন নেই।”

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসনিক কর্মকর্তারা বলছেন, হাইকোর্টের নির্দেশনার পর আম গাছে কোন রাসায়নিক প্রয়োগই আইনসিদ্ধ হবে না। কিন্তু বাগান পরিদর্শনে গিয়ে তারা আম চাষিদের অসহায়ত্ব দেখে কোন ব্যবস্থা নিতে পারছেন না।

“যদিও আমরা পরামর্শ দিয়েছি, কিন্তু হাইকোর্টের আদেশের পর সব রাসায়নিক প্রয়োগ নিষেধ করে দেওয়া হয়েছে,” বলছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের রাজশাহী অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক দেব দুলাল ঢালী।

উল্লেখ্য, হাইকোর্ট গত ৯ এপ্রিল এক আদেশে রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার ও রাজশাহী রেঞ্জ পুলিশের ডিআইজিকে নির্দেশ দিয়েছেন যে তারা সাত দিনের মধ্যে আমে বিষাক্ত রাসায়নিক ব্যবহার ঠেকাতে রাজশাহী অঞ্চলের আম বাগানগুলোতে ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ মোতায়েন নিশ্চিত করবেন। গত ১৬ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্টে হাইকোর্টের আদেশটি রদ করার একটি আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয় এবং ওই আদেশ বহাল রাখা হয়। এতে করে এ অঞ্চলের আম গাছে কোন বিষাক্ত রাসায়নিক আর ব্যবহার করা যাবে না।


রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার ও রেঞ্জ পুলিশের ডিআইজি দ্য ডেইলি স্টারকে বলেছেন যে ৯ এপ্রিলের হাইকোর্টের আদেশটি তারা এখনো হাতে পাননি। তবে টেলিভিশন ও খবরের কাগজের মাধ্যমে আদেশটি জেনে তারা একটি বিভাগীয় সমন্বয় সভা করেছেন যেখানে আমবাগানে বিষাক্ত রাসায়নিক প্রয়োগের ব্যাপারটি একটি আলোচনার বিষয় ছিল।

সভায় আম উৎপাদন হয় এমন সব জেলার, বিশেষ করে রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য এবং সংশ্লিষ্ট উপজেলাগুলোতে একাধিক ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। যাদের নেতৃত্বে পুলিশ আমবাগানগুলো নজরদারি করবে।

বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা আমবাগানগুলো কিভাবে নজরদারি করা হবে জানতে চাইলে রাজশাহীর ডিআইজি একেএম হাফিজ আক্তার বলেন, “দেশের সর্বোচ্চ আদালত যে আদেশ দিয়েছেন সেটা আমাদের মেনে চলতে হবে। কাজেই ডিসি এসপিরা তাদের কাজের সমন্বয়ের মাধ্যমে একটি কর্মপরিকল্পনা তৈরি করে বাগানগুলো তদারকি করবেন।”

“মূল কথা হল বিষাক্ত রাসায়নিক ব্যবহারে মানুষের যাতে কোন ক্ষতি না হয় সেটি খেয়াল রাখা। আমরা সেটাই করছি”, বলছিলেন ডিআইজি হাফিজ আক্তার।

রাজশাহীর জেলা প্রশাসক এসএম আব্দুল কাদের বলেন, “আম বড় হতে এখনো অনেক সময় লাগবে। তবে এখন থেকেই আমবাগানগুলো নিয়মিতভাবে তদারকির জন্য প্রত্যেক উপজেলায় একাধিক ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা হয়েছে এবং তারা কাজ শুরু করেছেন।”

রাজশাহী শহরের উত্তর প্রান্তে শেখপাড়া এলাকায় শত বছরের পুরনো কয়েকটি  আমবাগান রয়েছে। গত বুধবার সেখানকার একটি বাগানে গিয়ে দেখা গেল, স্প্রে মেশিন ব্যবহার করে একজন আম চাষি তার নতুন পুরনো আমগাছগুলিতে কীটনাশক ছিটাচ্ছেন।

কারণ জানতে চাইলে বললেন যে এবার আমে ‘মহা’ (মড়ক) লেগেছে। এমনিতেই আমের ফলন ভালো না, বাগানের অধিকাংশ গাছেই ফল ধরেনি। তার ওপর মহার কারণে গাছে আম থাকছে না, ঝরে পরছে। মহা থেকে আম রক্ষা করার জন্য তিনি মরিয়া হয়ে উঠেছেন।

“আমে মুকুল আসার সময় হয়েছে বৃষ্টি। শীত তো ছিলই না, বরং বৃষ্টিতে সব কুয়াশা কেটে গেছে। এখন ফল যখন গুটি থেকে বড় হচ্ছে তখন শুরু হয়েছে ঝড়-বাদল, শিলা বৃষ্টি। একের পর এক আম ঝরে পড়ছে, ফেটে যাচ্ছে, পোকা লাগছে, আম ফুটো হয়ে যাচ্ছে, কালো দাগ হচ্ছে”, বলছিলেন শেখপাড়ার আম চাষি আব্দুল জব্বার।

আব্দুল জব্বার কীটনাশক হিসেবে ব্যবহার করছিলেন টিটট্রো, যেটা ক্লোরপাইরিফস ও সাইপারমেথ্রিনের একটি মিশ্রণ। মোড়কেই লিখা রয়েছে যে এর স্বাদ গন্ধ নেওয়া, শরীরে লাগানো বা পানাহারের সময় ব্যবহার নিষেধ এবং এটি ব্যবহারের জমি থেকে উৎপাদিত ফসল ১৪ থেকে ২১ দিনের মধ্যে খাওয়া যাবে না।

“খারাপ আবহাওয়া আর পোকার আক্রমণ থেকে আম বাঁচানোর জন্যে কীটনাশক ব্যবহার করতে হচ্ছে। কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ অনুযায়ী আমরা এটা ব্যবহার করছি”, বলেন তিনি।

তিনি জানান যে হাইকোর্টের নির্দেশনার পর তারা অস্বস্তিতে পরেছেন। বলেন, “বাগানে বারবার পুলিশ আসছে, প্রশাসনের লোকরা আসছে, কিন্তু আমরা কাউকেই বোঝাতে পারছি না যে আমাদের কাছে কীটনাশক ছাড়া পোকা দমন ও খারাপ আবহাওয়া থেকে আম রক্ষার অন্য উপায় নেই।”

শেখপাড়ার প্রায় ৭০ বিঘা জমির উপর বিস্তৃত একটি আমবাগানের একাংশ তদারকি করেন মো. আলাউদ্দিন। দেখাশোনা করার জন্য বাগানের এক কোনায় তিনি মাচা বানিয়েছেন, বিস্কুট রুটির একটি দোকানও দিয়েছেন। দোকান চালান, পাশাপাশি বাগানে খেয়াল রাখেন। তিনি বলেন, “এবার ভালো জাতের গাছে ফল খুব কম। দুইশ গাছে প্রতি বছর বারশ-তেরশ মন আম হয়। গোপালভোগ, ক্ষীরশাপাত, ল্যাংড়া জাতের বেশিরভাগ গাছে এবার নতুন পাতা বের হয়েছে, মানে ওসব গাছে এবার ফল হবে না।”

ফলনের খারাপ পরিস্থিতি দেখে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এ বছর আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা গত বছরের তুলনায় বৃদ্ধি করেনি বরং সমপরিমাণ নির্ধারণ করেছে।

অধিদপ্তরের হিসেব অনুযায়ী গত অর্থবছর এ অঞ্চলের চার জেলা- চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, নাটোর ও নওগাঁয় ৭০,৩৬১ হেক্টর জমি থেকে আম উৎপাদন হয়েছিল ৮,৬৬,৩৬১ টন। তাদের হিসেব অনুযায়ী প্রতি বছরই আম চাষের জমি ও ফলন আগের বছরের তুলনায় বৃদ্ধি পায়। যেমন ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৬৬,৩০০ হেক্টর জমি থেকে আম উৎপাদন হয়েছিল ৭,৫৬,৮৪৯ টন। আবার ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৫৭,৮৬৪ হেক্টর জমি থেকে আম হয়েছিল ৬,৪২,১৮৩ টন।

“ফাল্গুনে আমের মুকুল আসার সময় বৃষ্টি হওয়ায় অনেক মুকুল ঝরে পরেছে। পরে ঝড় শিলাবৃষ্টিতেও ক্ষতি হয়েছে। তবে আমরা গতবছরের সমপরিমাণ ফলন আশা করছি। ঝড়-বাদল বেশী হলে তখন ফলন কমার আশংকা থাকে”, বলছিলেন দেব দুলাল ঢালী।

শেখপাড়ার আরেকজন আম চাষি শাকের আলী বলেন, “চাষি পর্যায়ে আম গাছে যথেচ্ছ রাসায়নিকের ব্যবহার এ অঞ্চলে হয়না। ফলে বিষের কারণে কোন মানুষের ক্ষতি হোক এটা আমরা কখনই চাই না। এই আম তো আমরা নিজেরাও খাই। তবে আমাদের কাছে আম কিনে ব্যবসায়ীরা কি করেন তা আমাদের জানা নেই।”

স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, “রাজশাহীর আমে বিষ প্রয়োগের বিষয়টি এক সময় বেশ আলোচিত ছিল। তবে ২০১৫ সালে এ অঞ্চলের আম রপ্তানি শুরু হওয়ার পর চাষি ও ব্যবসায়ী দুই পর্যায়েই এ প্রবণতা কমতে শুরু করেছে। তবে এখনো যারা রাসায়নিক ব্যবহার করছেন, তাদের সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য পৃথক কর্মসূচি গ্রহণ করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।”

 

https://www.thedailystar.net/

আমের রাজধানী খ্যাত চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে আমের নানান সমস্যা নিরসন ও উত্তরণের লক্ষ্যে আম উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শিবগঞ্জ ডাকবাংলা চত্বরে বৃহস্পতিবার বিকালে আম উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় আম বাগান বিষয়ে হাইকোর্টের আদেশের কপি সংগ্রহ করে মানববন্ধন, মতবিনিময় সভা, স্মারকলিপি প্রদান, সংবাদ সম্মেলন ও লিফলেট বিতরণসহ বিভিন্ন কর্মসূচি ও কাজ করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

সভায় শিবগঞ্জ আম উন্নয়ন সমন্বয় কমিটি ও ম্যাংগো ফাউন্ডেশনের আহবায়ক মুক্তিযোদ্ধা আবদুল কুদ্দুশ এর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন শিবগঞ্জ পৌরসভা আম চাষি ও ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ আতাউর রহমান, জেলা পেস্টিসাইড অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কাজী মোস্তফা কামাল, কানসাট বাজার আম আড়তদার ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লি. এর সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক টিপু, শিবগঞ্জ বালাইনাশক পরিবেশক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক রেজাউল করিম, শিবগঞ্জ উপজেলা আম আড়তদার সমিতির সভাপতি আবু তালেব, সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম, শিবগঞ্জ শিল্প ও বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক তোসিকুল ইসলাম, সাংবাদিক জামাল হোসেন পলাশ ও তারেক রহমান, আম চাষি ও বাগান মালিক সাকির হোসেন, আতাউর রহমান, মনিরুজ্জামান সফিক, মঈনুল ইসলাম মুকুল, প্রধান শিক্ষক সিরাজ উদ্দৌলা, আম উন্নয়ন সমন্বয় কমিটি ও ম্যাংগো ফাউন্ডেশন এর সদস্য সচিব আহসান হাবিব, গোমস্তাপুর আম চাষি ও ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মাঈনুল বিশ্বাস প্রমূখ। 

এছাড়া আম চাষি, ব্যবসায়ী, আড়তদার সমিতি, বালাইনাশক সমিতির প্রতিনিধিরা সভায় অংশ নেন।

মালদহ, মুর্শিদাবাদের মতো জেলাগুলিতে গরম থেকে হয়ত রেহাই দিয়েছে মঙ্গলবারের শিলাবৃষ্টি ও ঝড়। কিন্তু মাথায় হাত পড়ল চাষিদের, বিশেষত আমচাষিদের। সূত্রের খবর, মঙ্গলবারের ঝড়েই এই বিপুল পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে। প্রায় ৪০ শতাংশ ছোট আম ঝড়ে পড়ে গিয়েছে।

আর এই কারণেই দুশ্চিন্তার ভাঁজ আমচাষিদের কপালে। এমনকী এর ফলে আমের দাম বিপুল বাড়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। ফলে গরমে যে আমবাঙালি নিয়ম করে হিমসাগর, ল্যাংরায় উদরপূর্তি করবেন, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ তৈরি হয়েছে।

তবে সরকারি স্তরে নিশ্চয়ই এরজন্য কিছু ব্যবস্থা নেওয়া হবে, আশা করছেন চাষিরা। মালদহে আম নষ্টের নানা ছবি সোশ্যাল মিডিয়াতেও দিয়েছেন মালদহের যুব সমাজ।

আম খেতে খুব লোভ হয়েছিল ১০ বছরের শিশু দিশার। আর তাই খেলতে খেলতে প্রতিবেশীর গাছ থেকে আম পেড়েছিল সে। সেই অপরাধে তাকে বেধড়ক পেটালো প্রতিবেশী যুবক ও তার মা। আহত অবস্থায় শেষ পর্যন্ত ওই শিশুকে ভর্তি করা হয়েছে হাসপাতালে।

গত বৃহস্পতিবার এমন মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নিউটাউনে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত প্রতিবেশী নারী রিঙ্কু বসাককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আহত ওই শিশু একন বিধাননগর মহকুমা হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে।

জানা গেছে, নিউটাউনের হাতিয়াড়া হেলা বটতলার উত্তর মাঠ নেতাজি নগরে বাড়ি শিশু দিশা সাহার। প্রতিবেশী রিঙ্কু বসাকের বাড়ির গাছ থেকে একটি আম পাড়ে সে। বন্ধুদের সঙ্গে খেলতে খেলতে দিশা গাছ থেকে আমটি পাড়ে। এরপরই ছোট্ট দিশার ওপর চড়াও হয় রিঙ্কু বসাক ও তার ছেলে। বেধড়ক মারধর করে দিশাকে। এমনকি ওই শিশুর বুকের ওপর পা তুলে মারধর করে বলে অভিযোগ ওঠে। সঙ্গে সঙ্গেই দেখতে পেয়ে ওই শিশুকে উদ্ধার করেন অন্যান্য প্রতিবেশীরা। এরপর তাকে বিধাননগর হাসপাতালে ভর্তি করা করেন তারা।

এই ঘটনায় নিউটাউন থানায় প্রতিবেশী রিঙ্কু সাহা ও তার ছেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করে শিশু দিশার পরিবার। ঘটনার তদন্তে নামে নিউটাউন থানার পুলিশ। এরপরই গত শনিবার সকালে রিঙ্কু বসাককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে এ বছর আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অন্তত ৫০ ভাগ আম কম উৎপাদন হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কয়েক বছর ধরে লাগাতার আমের মূল্য না পেয়ে হতাশাগ্রস্ত আমচাষিদের যথাযথভাবে বাগান পরিচর্যার অভাব এবং সেই সাথে বৈরী আবহাওয়া কারণ হিসেবে দেখা দিয়েছে।
এ অঞ্চলের আমবাগানগুলোতে মুকুল আসে দুই ধাপে। মওসুমের শুরুতেই যে মুকুল এসেছিল তাতে বড় একটা প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সৃষ্টি হয়নি। তবে নাবী মুকুল বৈরী আবহাওয়ার কবলে পড়ে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উত্তরে চাঁপাইনবাবগঞ্জের তিনটি উপজেলা শিবগঞ্জ, গোমস্তাপুর ও ভোলাহাটের বাগানগুলোতে ছিল নাবী মুকুল। ফলে এ এলাকার প্রায় প্রতিটি আমবাগানে শেষ ফেব্রুয়ারির বৃষ্টিতে পরাগায়নের ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে। তিন দিনের বৃষ্টিতে প্রায় অর্ধেক মুকুল ঝরে পড়ে। একমাত্র সদর উপজেলার আমবাগানগুলো আগাম মুকুলের সুবাদে এই ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা পেয়েছে। এ দিকে এ বছর আমচাষিরা বাগান পরিচর্যায় ছিলেন অনেকটাই নিস্পৃহ। তিন বছর ধরে অব্যাহতভাবে আমের প্রকৃত বাজারমূল্য না পেয়ে আমচাষিদের মাথায় হাত ওঠে। বাণিজ্যে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে অনেকে সর্বস্বান্ত হয়েছেন। বেশির ভাগ আমচাষি এ বছর বাগান কেনা থেকে বিরত থেকেছেন। যেখানে সারা বছর ধরে আমবাগানের ফল পাতা-ফুলে বেচা কেনা হয় সেখানে এবার বাগান মালিকেরা এক রকম ক্রেতার অভাবে অলস বছর কাটিয়েছেন। মূলত বাগান পরিচর্যা হয় এসব ফল ক্রেতাদের হাত ধরেই। তাই এ বছর অনেকাংশে অবহেলিত থেকেছে বাগান পরিচর্যা। আর তাতেই ফলন হ্রাসের বিষয়টি প্রকট হয়ে দেখা দিয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের হিসাব মতে, এ বছর ৩১ হাজার ৮২০ হেক্টর জমিতে আমের চাষ হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ হয়েছে দুই লাখ ৭৫ হাজার মেট্রিক টন। মূলত এটি গত বছরের লক্ষ্যমাত্রার সমান। কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের অতিরিক্ত উপপরিচালক মো: ইয়াছিন আলী জানান, মওসুমের শুরুতে ভালো মুকুল হওয়ার সুবাদে গত বছরের মতোই এবার উপরিল্লিখিত উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। তবে ফেব্রুয়ারিতে বৃষ্টির কারণে নাবী মুকুলের ক্ষতি সাধন হয়েছে। গত বছরের তুলনায় উৎপাদন হ্রাস পাবে বলেও তিনি মনে করেন।
এ দিকে আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্র তথা আম গবেষণা কেন্দ্র চাঁপাইনবাবগঞ্জের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো: সফিকুল ইসলাম এ বছর আম উৎপাদনের পরিমাণ দেড় লাখ টনের বেশি হবে না বলে ধারণা ব্যক্ত করেছেন। তিনি জানান, ফেব্রুয়ারির তিন দিনের লাগাতার বৃষ্টিতে নাবী জাতের মুকুলের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উত্তরে যতই যাওয়া যাবে ততই মুকুল নাবী হবে। সে সুবাদে গোমস্তাপুর, শিবগঞ্জ, ভোলাহাটের নাবী মুকুল ছোট অবস্থাতেই বৃষ্টির আঘাতে ঝরে পড়েছে। তা ছাড়া বাগানের পরিচর্যা হয়েছে খুবই কম। কয়েক বছর ধরে আমের বেচাকেনায় ব্যাপক লস খেয়ে কৃষকদের আম নিয়ে সার্বিক পরিচর্যা বাধাগ্রস্ত হয়েছে। সব মিলিয়ে এ বছর আম উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে কম হবে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।
এ দিকে শিবগঞ্জ ম্যাংগো প্রোডিউসার কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেডের সেক্রেটারি জেনারেল ইসমাইল খান শামীমও চলতি বছর আমের উৎপাদন ৫০ ভাগ হ্রাস পাবে বলে মনে করেন। তিনি জানান ৭০ ভাগ আমচাষি এবার বাগান পরিচর্যা করেননি। তিন বছর ধরে আমচাষিরা অব্যাহতভাবে লস খেয়ে একেবারে বিপর্যস্ত। গত বছর লসের পরিমাণ ছিল সব চেয়ে বেশি। ফরমালিন ভীতি থেকে ভোক্তারা ভয়ে আম খেতে চায়নি। এতেই আমের প্রকৃত বাজার হারিয়ে যায়। অথচ আমে কোনো ফরমালিন মেশানো হয় না বলে তিনি জানান।
তবে ম্যাংগো প্রোডিউসার মার্চেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আব্দুল ওয়াহেদ ভিন্ন মত প্রকাশ করে জানিয়েছেন, আম উৎপাদনে হয়তো শেষ পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হতে পারে। তিনি জানান, চর ও বরেন্দ্র এলাকায় গত এক বছরে প্রায় তিন হাজার হেক্টর আমবাগান বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব এলাকার আমবাগান মূলত খিরসাপাত, বারি-৪ ও আম্রপালি জাতের। এগুলো নাবী জাতের আম। এসবে বেশি মুকুল এসেছিল এবং টিকেছেও ভালো। ফলে শেষ পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হওয়ার সম্ভাবনার পক্ষে মত প্রকাশ করেন তিনি।

সু:http://www.dailynayadiganta.com

Page 1 of 31